শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, ভোর ০৬:০৩

পাঠক সমাজ তৈরিতে বইমেলায় ই-বুক

Published : 2017-03-13 15:24:00

অর্ণব প্রধান : বাংলা ভাষাভাষী বই প্রেমী মানুষদের আগ্রহের কথা মাথায় রেখে বাংলা একাডেমী প্রত্যেক বছর ফেবু্রয়ারী মাসে আয়োজন করে ‘‘অমর একুশে গ্রন্থমেলার’’। শুরুর দিকে বই মেলা শুধুমমাত্র বইপ্রেমী এবং সাহিত্যপ্রেমী মানুষদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও কালের পরিক্রমায় এটি সর্বস্তরের মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে। ফলে যেমনিভাবে বেড়েছে পাঠকের সংখ্যা ঠিক তেমনিভাবে সৃষ্টি হয়েছে নতুন প্রজন্মের অনেক সম্ভাবনাময় লেখকের।

বছরের শুরুতেই লেখক এবং পাঠকরা উদগ্রীব হয়ে থাকে নতুন বইয়ের অপেক্ষায়। এসময় ফাগুনী হাওয়ার সাথে সাথে নতুন বইয়ের মলাটও যেন পাঠক হৃদয়ে কড়া নেড়ে যায়। আর তাইতো বইয়ের পাাতায় ফুটে থাকা প্রতিটি বর্ণ, শব্দ এবং বাক্যের আবেদনে সাড়া দিতে মেলায় ছুটে আসেন শিশু-কিশোর থেকে আবাল-বৃদ্ধ সব বয়েসী মানুষ। বইয়ের পাতায় পাতায় লুকিয়ে থাকা কাগুজে সুগন্ধি যেন তাদের মনে এক ভিন্ন জগৎ সন্ধানের মোহ তৈরি করে।

কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তির যতই উত্কর্ষ সাধিত হচ্ছে ততই কাগজের বই পাঠকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ই-বুক, ট্যাবলয়েড অথবা এন্ড্রয়েড ইত্যাদি আধুনিক ডিভাইসের কল্যাণে এখন আর লাইব্রেরীতে গিয়ে গাদা গাদা বই ঘেটে কিংবা ঘুলো মাখা তাক থেকে অনেক কষ্টে বই বের করে পড়তে হয় না। এসব ডিভাইসের মাধ্যমে ইন্টারনেট থেকে সহজেই পছন্দের বই ডাউনলোড করে নেয়া যায়।

এক্ষেত্রে পাঠক ইন্টারনেটেই বইয়ের মূল্য পরিশোধ করতে পারে। অনেক সাইটে বিনা মূল্যেই পাওয়া যায় জনপ্রিয় সব লেখকের বই। তাছাড়া কোথাও বহন করে নিয়ে যাওয়ার ঝামেলা না থাকায় কাগুজে বইয়ের তুলনায় ই-বুকের জনপ্রিয়তা বাড়ছে দিন দিন।

গ্রাহক প্রিয়তা এবং সময়ের চাহিদার কথা চিন্তা করেই বইমেলায় এবারও বসেছে বেশ কয়েকটি অনলাইন ভিত্তিক বইয়ের স্টল। বেঙ্গল ই বই, ইবিএস বইঘর, সেইবই নামের এসব স্টলগুলো মূলত ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের ওয়েবসাইট কিংবা সফটওয়্যার থেকে বই কেনা, সংরক্ষন, পড়ার পদ্ধতি এবং তাদের ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি বিষয় মেলায় আগতদের সামনে তুলে ধরে। বিকাশ, ব্যংকিং কিংবা মোবাইল ব্যংকিং এর মাধ্যমে এসব অনলাইন বুক শপ গুলো থেকে সহজেই বই কেনা যায়।

বইমেলার বাংলা একাডেমি অংশের  সেইবই স্টলের সামনে দেখা হল জাহিদুল ইসলাম নামের একজনের সাথে। তিনি এসেছেন ঢাকার উত্তরা থেকে। জাহিদুল ইসলাম বই কেনার পাশাপাশি সেইবই এ্যাপসে রেজিস্ট্রেশনও করেছেন। তিনি বলেন, কাগজের বইয়ের আবেদন কখনো কমবার নয় কিন্তু মোবাইল ফোন, কিংবা ই-বুক জাতীয় বই সহজ্যলোভ্য এবং সহজে বহন যোগ্য হওয়ায় আমাদের পাঠাভ্যাস বৃদ্ধিতে এটি খুব সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

সেইবইয়ের কমিউনিশেন অফিসার প্রসেজিৎ দেব বলেন, বইমেলায় আমরা প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। এ পর্যন্ত আমাদের ই বুক সাইটে ২৫ হাজার রেজিস্ট্রেশন কাউন্ট হয়েছে।

বেঙ্গল ই-বইয়ের ব্রান্ড প্রোমোটর হাসান মাহমুদ সজল বলেন, বইমেলায় বেশিরভাগ মানুষ আসেন কাগজের বই কিনতে। কিন্তু বছরের অন্য সময় সাধারণ মানুষ বই কিনেন না বললেই চলে। এর জন্য তিনি ইন্টারনেটের প্রতি মানুষের আসক্তিকে দায়ী করেন।

সজল আরও বলেন, বছরের অন্য সময় মানুষ যেন ইন্টারনেটের মাধ্যমে বই কিনে তাদের বই পড়ার অভ্যাসকে ধরে রাখতে পারে সেজন্য আমাদের এ উদ্যোগ। মাধ্যম যাই হোক আমরা চাই মানুষ বেশি বেশি বই পড়ুক।

এছাড়াও বাংলা একাডেমির শেষ মাথায় বিটিসিএল ডট বাংলা নামে একটি স্টল আছে। যারা ইন্টারনেটে বাংলা ওয়েবসাইট বানানোর কাজ করে থাকে। বিটিসিএল ডট বাংলার এ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজার খন্দকার আকবর ফারহান জানান বাংলা ভাষাকে ইন্টারনেট বিশ্বে ছড়িয়ে দিতেই বইমেলায় তাদের অংশগ্রহণ।

তিনি বলেন, বিশ্ব এখন ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে পড়েছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ এটি। তাই কাগজের বইয়ের চাইতে ইন্টারনেট বাংলা ভাষাকে বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে দিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।