মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ০২:০৮

সমুচিত জবাব দেওয়ার জন্য যুদ্ধসরঞ্জাম সংগ্রহ করছি: প্রধানমন্ত্রী

Published : 2017-03-13 14:49:00

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা কারও সঙ্গে কখনও কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হতে চাই না। কিন্তু কেউ যদি আক্রমণ করে তাহলে আমরা যাতে তার সমুচিত জবাব দিতে পারি সে প্রস্তুতি আমাদের থাকবে। সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা যা যা করণীয় তা করে যাচ্ছি। সে জন্য যুদ্ধসরঞ্জাম সংগ্রহ করছি। গতকাল চট্টগ্রাম নৌ-জেটিতে দেশে প্রথমবারের মতো ‘নবযাত্রা’ ও ‘জয়যাত্রা’ নামে দুটি ডুবোজাহাজ (সাবমেরিন) আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনিং প্রদানকালে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, যাতে জনগণের সার্বিক উন্নতি করতে পারি। তবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের যা যা প্রয়োজনীয় তা আমরা সংগ্রহ করব। কারণ, এগুলো হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ডুবোজাহাজ দুটির কমান্ডিং অফিসারদ্বয়ের হাতে আনুষ্ঠানিক কমিশনিং ফরমান হস্তান্তর করেন এবং কমিশনিংয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে চীন থেকে ক্রয় করা ডুবোজাহাজ দুটির নামফলক উন্মোচন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দুটি সাবমেরিন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়ায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার হওয়ার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন সক্ষমতা অর্জন করল।
তিনি বলেন, বিশ্বের মাত্র গুটিকয়েক দেশ সাবমেরিন পরিচালনা করে থাকে। সেই তালিকায় আজ থেকে বাংলাদেশের নাম স্থান পাবে। এটি জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদার একটি বিষয়।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নতুন কমিশনকৃত সাবমেরিন দুটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং কোনো সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম নৌঘাঁটিতে পৌঁছলে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং চট্টগ্রাম নৌঘাঁটির কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. আবু আশরাফ তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীকে নৌবাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়।প্রধানমন্ত্রী পরে ত্রিমাত্রিক ফোর্স হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ বিএনএস বঙ্গবন্ধু ও নৌ কমান্ডোদের মহড়াও প্রত্যক্ষ করেন। দুটি হেলিকপ্টার ও দুটি এমপিএ বিমানও মহড়ায় অংশ নেয়।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় সাবমেরিন রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনায় সহায়তার জন্য স্থাপনার উদ্বোধন এবং ‘বিএনএস শেখ হাসিনা’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সাবমেরিন ঘাঁটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি সাবমেরিন দুটি ঘুরে দেখেন এবং সাবমেরিনের যাবতীয় সক্ষমতার বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়। অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধান, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, কূটনীতিক, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চীনের বন্দর থেকে সাবমেরিন দুটি গত ২২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে আসে এবং ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর সাবমেরিন দুটি বাংলাদেশে হস্তান্তর হরা হয়।
ডিজেল ইলেকট্রিক সাবমেরিন দুটি ৭৬ সেন্টিমিটার লম্বা ও ৭ দশমিক ৬ মিটার প্রশস্ত এবং অত্যাধুনিক টর্পেডো ও মাইন সজ্জিত। সাবমেরিন দুটির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৭ নটিক্যাল মাইল এবং এর ওজন ১ হাজার ৬০৯ টন।
আইএসপিআর জানায়, সাবমেরিন দুটি পরিচালনার জন্য দুই দেশের নৌবাহিনীর সদস্যদের ট্রায়াল ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।
কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মান বজায় রেখে যথাসময়ে সব উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, কাজে অবহেলার জন্য দায়ীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গতকাল বিকেলে ‘শেখ হাসিনা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট’ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত যিনিই হোন মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে অবশ্যই কাজ শেষ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। এর আগে শেখ হাসিনা ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে দৈনিক ৯ কোটি লিটার পানি সরবরাহ ক্ষমতাসম্পন্ন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টটির উদ্বোধন করেন। চট্টগ্রাম ওয়াসা নগরবাসীর চাহিদা পূরণে ২০০৬ সালে এই প্রকল্প গ্রহণ করে।
জাপান ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে ২০১০ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং গত নভেম্বরে দৈনিক ৯ কোটি ৩০ লাখ লিটার পানি সরবরাহে সক্ষম এই প্লান্টটির উত্পাদন কার্যক্রম শুরু হয়।