বুধবার ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮, ভোর ০৬:১০

কন্যা শিশু এত অনাকাঙ্ক্ষিত কেন?

Published : 2017-04-10 11:35:00

অনলাইন ডেস্ক: : গর্ভের শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিষিদ্ধ করা স্বত্বেও ভারতের অনেক জায়গাতেই তা বিদ্যমান রয়েছে এবং এর জনপ্রিয়তাও রয়েছে ব্যাপক। তারই ধারাবাহিকতায় চলছে কন্যা শিশুর ভ্রূণ হত্যা। এক পরিসংখ্যানে জানা গিয়েছে ভারতে প্রতিবছর গর্ভপাতের কারণে মারা যাওয়া প্রায় ছয় লাখ কন্যা শিশুর একটি বড় অংশই এমন হত্যাকাণ্ডের শিকার।

এখন প্রশ্ন হলো ভারতে কন্যা শিশু এত অনাকাঙ্ক্ষিত কেন? ব্যস্ত শহর মুম্বাই থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে একটি শুকিয়ে যাওয়া খাল। জনবিরল একটি এলাকা। খালটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের খুব কাছেই। সেখানে দাড়িয়ে মহাসড়কের ছুটে যাওয়া যানবাহন পর্যন্ত দেখা যায়। সেই খালটির মাটিতেই পোতা ছিল ১৯টি কন্যা শিশুর ভ্রূণ। মাটি খুঁড়ে সেগুলোকে উদ্ধার করা হয়কয়েক সপ্তাহ আগে।

অতিক্ষুদ্র এই কণ্যাশিশুগুলোর দেহাবশেষ ছিল ছোট ছোট নীল রঙের প্লাস্টিক ব্যাগে মোড়ানো। স্থানীয় পুলিশের ধারণা কন্যা শিশুর ভ্রূণ হত্যাকারীদের একটি বড় চক্র ওই এলাকাটিতে কন্যা শিশুর ভ্রূণ হত্যার অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। আসল ঘটনা প্রকাশ পায় যখন গর্ভপাতের সময় এক তরুণী মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে।

২৫ বছর বয়সী তরুনী সোয়াতি জামদাদির বাবা সুনীল যাদব জানান তার মেয়ের গর্ভে কন্যা শিশু থাকায় তার স্বামী তাকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করে। পরে সোয়াতি বাবা থানায়  অভিযোগ করেন। তার এই অভিযোগের সূত্র ধরেই ভ্রূণ হত্যাকারীদের চক্রটির সন্ধান পায় পুলিশ। কয়েক সপ্তাহ আগে ১৩ জনের একটি দলকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হয় পুলিশ। ওইদলের মধ্যে সোয়াতির স্বামী এবং তিনজন চিকিৎসকও ছিলো।

পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা দীপালি কারে বলছেন, "গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আমরা জেনেছি, এই চক্রে চারজন মধ্যস্থতাকারী রয়েছে। এই চক্রের একজন চিকিৎসক সপ্তাহে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ জন নারীর গর্ভপাত ঘটান।" পুলিশ জানিয়েছে গর্ভপাত যে হাসপাতালে করা হতো সেটি তারা সিলগালা করে দিয়েছে।

ভারতের আইন অনুযায়ী গর্ভের শিশুর লিঙ্গ আগে থেকে জানবার চেষ্টা করা বা এতে সাহায্য করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তারপরও দেশটিতে অনাগত সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ পরীক্ষা চলছে। ভারতীয় সমাজকর্মী বারশা দেশপান্ডে বহু বছর ধরে ভ্রূণ হত্যার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। তিনি জানিয়েছেন ভারতে গর্ভপাত জনিত কারণে প্রতিবছর ছয় লাখের মত কন্যা শিশু মারা যায়। যা কোন দুর্ঘটনা নয়।

ভারতে কন্যা শিশু এত অনাকাঙ্ক্ষিত কেন? এ প্রশ্নের জবাবে সমাজকর্মী বারশা দেশপান্ডে বলেছেন, "পিতামাতাকে মেয়ের বিয়ে দিতে গেলে যৌতুক দিতে হয়। এজন্য মেয়েদের সবসময়ই পরিবারের বোঝা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর একারণেই আরা এত অনাকাঙ্ক্ষিত। যৌতুকই ভারতে গর্ভের শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও কন্যা শিশুর ভ্রূণ হত্যার প্রধান কারণ।"

অপরদিকে যৌতুক প্রথাও ভারতে নিষিদ্ধ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে এই নিষেধাজ্ঞা খুব কমই বাস্তবায়িত হতে দেখা যায়। ছেলে শিশু জন্মে যে উৎসব করা হয় মেয়ে শিশুর জন্মে সে উৎসব করা হয় না। এ ধরনের মনোভাবের কারণে জন্মের আগেই কণ্যা শিশু হয়ে যায় নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের শিকার। সূত্র: বিবিসি বাংলা