সোমবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ১০:২৯

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে নতুন রুটে চালু হল ট্রেন ও বাস

Published : 2017-04-08 23:23:00
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা অফিস, দিনাজপুর প্রতিনিধি ও বেনাপোল সংবাদদাতা: দুই বাংলার সম্পর্কের বন্ধন মজবুত হল আরও। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে মৈত্রী এক্সপ্রেসের পর বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে চালু হল আরও একটি ট্রেন। একই সঙ্গে বাসে করে ঢাকা-খুলনা-কলকাতা রুটের সূচনাও হল। এ ছাড়া সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে রেলপথে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের চুক্তি অনুযায়ী দিনাজপুরের বিরল সীমান্ত দিয়ে ডুয়েল গেজ রেলপথে আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্য পরিবহন শুরু হয়েছে গতকাল থেকে।
নয়াদিল্লিতে হায়দরাবাদ হাউসে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক থেকে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে যাত্রার সূচনা করে খুলনা-কলকাতা রুটে দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন। এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
খুলনা-কলকাতা ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেনাপোল রেলস্টেশনে ভিডিও কনফারেন্স স্থলে উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। খুলনা ও কলকাতার মধ্যে নিয়মিত ট্রেন যোগাযোগ চালু বাংলাদেশ এবং ভারতের ‘কানেক্টিভিটিতে’ নিঃসন্দেহে বড় একটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে বলে মনে করেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। তিনি বলেন, ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত এই রুটে ট্রেন সার্ভিস চালু ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তরকারী একটি সিদ্ধান্তের ফলে ৪৩ বছর পর আবার চালু হল কলকাতা-খুলনার মধ্যে ট্রেনের এই সেবা। নতুন এই ট্রেন চালুর ফলে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক, চিকিত্সা ও ভ্রমণের কাজে যাতায়াতকারীরা উপকৃত হবে। পাশাপাশি দু’দেশের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্বের বন্ধন আরও জোরদার হবে।
রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, আগামী জুন মাসে বাণিজ্যিকভাবে এই ট্রেন চলাচল শুরু করবে।
উদ্বোধনী আনুষ্ঠানে বেনাপোল রেলস্টেশনে আরও উপস্থিত ছিলেন-যশোর-১ আসনের সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর-৫ আসনের সাংসদ স্বপন ভট্টাচার্য, খুলনা-২ আসনের সাংসদ মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন, যশোর জেলা প্রশাসক ড. হুমায়?ুন কবীর, বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার শওকাত হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুস ছালাম, বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন প্রমুখ।
৩৬ জন যাত্রী নিয়ে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা মৈত্রী এক্সপ্রেসটি বেলা ১১টায় এসে পৌঁছায় বেনাপোল রেলস্টেশনে। রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ যাত্রীদের স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রীদ্বয়ের উদ্বোধনের পরপরই মৈত্রী ট্রেনটি কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন পুলিশের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কলকাতার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এর আগে সকাল ৮টা ১০ মিনিটে পরীক্ষামূলক চলাচলের জন্য পাঁচটি বগি নিয়ে ‘দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস’ খুলনা রেলস্টেশন ছেড়ে যায়। স্থানীয় সাংসদ মিজানুর রহমান মিজান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রেলের পদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে বেনাপোলের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।
খুলনা স্টেশন মাস্টার কাজী আমিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে খুলনা-কলকাতা রুটে দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস পাঁচটি বগি নিয়ে সপ্তায় এক দিন চলাচল করবে। তবে পরবর্তী সময়ে বগি ও ট্রিপের সংখ্যা বাড়ানো হবে। ২০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সময় লাগবে সাড়ে ৩-৪ ঘণ্টা।
এদিকে বিকেলে ঢাকা-খুলনা-কলকাতা রুটে যাত্রীবাহী বাস উদ্বোধন শেষে শ্যামলী পরিবহনের সৌহার্দ্য একটি বাস বেনাপোলে এসে পৌঁছে। বিকেলের দিকে এটি খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
অন্যদিকে সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে ভারত, নেপাল, ভুটান এবং মিয়ানমারে রেলপথে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের চুক্তি অনুযায়ী দিনাজপুরের বিরল সীমান্ত দিয়ে রেলপথে আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্য পরিবহন শুরু হয়েছে গতকাল থেকে। দুপুরে দিল্লির রাধিকাপুর স্টেশনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ওই রুট যৌথভাবে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে দিনাজপুরের বিরল সীমান্ত দিয়ে ৪২টি তেলের ওয়াগনে ডিজেল নিয়ে পণ্যবাহী একটি ট্রেন বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নুমালিগড় তেল রিফাইনারি ডিপো থেকে এই ট্রেনটি যাত্রা করে। ট্রেনটি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের দিনাজপুরের পার্বতীপুর তেল ডিপো পর্যন্ত যায়। ট্রেনটিতে ২ হাজার ২শ’ টন জ্বালানি তেল ছিল। এখন থেকে এই রেলপথে জ্বালানি, পাথরসহ সবধরনের পণ্য পরিবহনের ফলে সংশ্লিষ্ট দেশের মধ্যে দ্রুত এবং পণ্য পরিবহন খরচ কমে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

আরও খবর