মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ০২:২৯

বন্ধ হচ্ছে সিটিং সার্ভিস: এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করুন

Published : 2017-04-05 22:38:00
রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস, গেটলক, ভিআইপি ইত্যাদি নাম ধারণ করে চলছে বাস-মিনিবাস। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এসব গণপরিবহনে আদায় করা হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। সরকারের নির্ধারিত ভাড়া যেখানে ৫ থেকে ৭ টাকা, সেখানে ক্ষেত্রবিশেষে গুনতে হচ্ছে ১০ থেকে ৫০ টাকা। শুধু তাই নয়, এ ধরনের গণপরিবহনে জায়গা হচ্ছে না অনেক অপেক্ষমাণ যাত্রীর। দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষ সেবার নামে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি সিটিং সার্ভিস নামধারী গণপরিবহনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নাগরিক ভোগান্তি।
সিটিং সার্ভিসের নামে কিছু বাস-মিনিবাস মালিক-কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে সাধারণ যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছিল। সম্প্রতি পরিবহন মালিকদের সংগঠন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, ১৫ এপ্রিল থেকে রাজধানী ঢাকায় সিটিং, গেটলক এবং স্পেশাল সার্ভিস নামে বাস ও মিনিবাস চলতে পারবে না। সিটিং সার্ভিসের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যাবে না। ভাড়ার তালিকা বাসের ভেতর দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে রাখতে হবে। ছাদের ওপরে ক্যারিয়ার সাইট অ্যাঙ্গেল ও ভেতরের অতিরিক্ত আসন খুলে ফেলতে হবে।
প্রতিটি বাস ও মিনিবাসে নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা আসন সংরক্ষণ করতে হবে। রঙচটা, রঙবিহীন, জরাজীর্ণ বাস মেরামত করে রাস্তায় নামাতে হবে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ভিজিল্যান্স টিম গঠন করে পরিদর্শন করা হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিআরটিএ এবং ডিএমপিকে চিঠি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির এই উদ্যোগকে যাত্রীকল্যাণ সমিতি, সুশীল সমাজ ও সাধারণ যাত্রীরা স্বাগত জানিয়েছে। আমরা মনে করি, এটি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এর ফলে যাত্রী হয়রানি যেমন কমে আসবে, তেমনি গণপরিবহনে চলমান নানা ধরনের নৈরাজ্য ক্রমাগত বন্ধ হয়ে আসবে।
সরকার রাজধানীর যানজট নিরসন ও যাত্রীদের সেবার মান বাড়ানোর জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু গণপরিবহনে সিটিং সার্ভিস নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া যায়নি। তারপরেও আশার কথা, পরিবহন মালিক সমিতি জনগণের ভোগান্তি অনুধাবন করে নিজেরাই উদ্যোগ নিচ্ছে। পরিবহন মালিকরা ব্যবসার পাশাপাশি নাগরিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে; বিষয়টি এখন যাত্রীরাও অনুধাবন করতে পারবে। মালিক সমিতির এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা আশা করি, রাজধানীর গণপরিবহনের ক্ষেত্রে মালিক সমিতির এই উদ্যোগ বাস্তবিকভাবেই কার্যকর করা হবে।
রাজধানীবাসীর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। তাই গণপরিবহনের পরিবর্তে বিভিন্ন নামে যেসব সিটিং সার্ভিস বাস-মিনিবাস চলাচল করছে সেগুলো বন্ধ করতে হবে। এর ফলে রাজধানীর গণপরিবহনে নৈরাজ্য কমে আসবে, আশা করা যায়। তাই মালিক সমিতির এই সিদ্ধান্তকে দৃশ্যমান করতে সরকারি কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।