রবিবার ৩০ এপ্রিল, ২০১৭, রাত ১০:৩৯

মায়াবী হরিণের দেশে

Published : 2017-04-04 20:12:00, Count : 2283
শারীফ অনির্বাণ: প্রাত্যহিক ব্যস্ততা আর জ্যামের শহরের যান্ত্রিকতা থেকে কিছুদিনের জন্য মুক্তি পেতে মন আনচান করছে। একটু আধটু প্রশান্তির বিশ্রাম পেতে লোকালয় ছেড়ে নির্জন কোথাও ডুব মারতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু কোথায় যাবেন ভেবে ঠিক করতে পারছেন না? নৌকা বিলাস আপনার অতি পছন্দের; সমুদ্রের গর্জন শুনতে বেশ ভালো লাগে। আবার সবুজ শ্যামল প্রকৃতিও কাছে টানে খুব?

তাহলে আপনার জন্য ভ্রমনের সবচেয়ে মোক্ষম জায়গা হলো নিঝুম দ্বীপ। নদী, সমুদ্র, প্রাকৃতিক বন আর চোখ জুড়ানো মায়াবী হরিণের দেশ হাতিয়ার ‘নিঝুম দ্বীপ’ আপনার সকল ক্লান্তি-অবসাদ কয়েকদিনের জন্য দুর করে আপনাকে দিতে পারে নতুন উদ্যম।  

নিঝুম দ্বীপ:

নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা ছোট্ট একটি ভূ-খ্ল। বল্লারচর, কামলারচর, চর ওসমান ও চরমুরি এই চারটি প্রধান দ্বীপ ও বেশ কয়েকটি ছোট চরের সমন্বয়ে ১৯৫০ সালের শুরুর দিকে দ্বীপাঞ্চলটি জেগে ওঠে। যার আয়তন প্রায় ১৪,০৫০ একর। প্রথমে স্থানীয় জেলেরা দ্বীপটি আবিষ্কার করে। তারা এর নাম দেয় বালুয়ার চর, যা পরবর্তীতে বল্লার চরে রূপান্তরিত হয়। তবে কেউ কেউ বলেছেন, দ্বীপটির প্রাচীন নাম ছিল চর ওসমান। ওসমান নামের এক ব্যক্তি মহিষের দল নিয়ে সর্বপ্রথম এই দ্বীপে বসবাস শুরু করেন। শুরুতে ‘চর ওসমান’ নামে পরিচিত হলেও দ্বীপটি সম্পূর্ণ নিরব হওয়ায় ১৯৭৯ সালে সাবেক মন্ত্রী আমিরুল ইসলাম খান এই দ্বীপের নাম দেন  ‘নিঝুমদ্বীপ’।

দ্বীপটি মূলত বেশ কিছু চরের সমষ্টি। এর মাঝে বয়ে চলেছে নদী আর খাল, যেন অবিকল সুন্দরবন। উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় শীতকালে শীতের তীব্রতাও তুলনামূলকভাবে এখানে কম। ফুরফুরে সামুদ্রিক বাতাস আর মনোলোভা প্রকৃতি মনে এনে দেবে দারুণ সুখের অনুভূতি। সমপ্রতি দ্বীপের বেশ দক্ষিণে জেগে উঠেছে নতুন এক চর, ভ্রমণপিয়াসীরা যার নাম দিয়েছেন ‘ভার্জিন আইল্যান্ড’।

কী কী দেখবেন?
নিঝুমদ্বীপে বেড়ানোর মূল আকর্ষণ এখানকার বন। এখানে রয়েছে বিশাল আকারের শ্বাসমূলীয় বন। ৭০’এর দশকে এখানে বন বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০১ সালে নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের মর্যাদা পায়।

নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের প্রধান প্রাণী চিত্রা হরিণ। ১৯৭৮ সালে এই বনে সর্বপ্রথম সুন্দরবন থেকে চার জোড়া চিত্রা হরিণ অবমুক্ত করা হয়। তাদের থেকে বংশ বিস্তার করে এ বনে বর্তমানে হরিণের সংখ্যা বিশ হাজারেরও বেশি। সুন্দরবনের মতো বন হলেও কোন হিংস্র প্রাণী না থাকায় বনে খুব কাছ থেকেই সহজে চিত্রা হরিণ দেখা যায়।

আপনি যদি প্রকৃতিপ্রেমী হন, তাহলে তো কথাই নেই। মূল দ্বীপসহ আশপাশের দ্বীপগুলোতে শীতকালে আসে হাজার হাজার অতিথি পাখি। এদের মধ্যে আছে সরালি, লেনজা, জিরিয়া, পিয়ং, চখাচখি, রাঙ্গামুড়ি, ভূতিহাঁসসহ নানা রকম হাঁস, রাজহাঁস, কাদাখোঁচা, জিরিয়া, বাটান, গুলিন্দা ছাড়াও রয়েছে হরেক রকমের গাংচিল, কাস্তেচরা ইত্যাদি জলচর নানা পাখি। কদাচিত্ আসে পেলিক্যান। আর বছর জুড়ে সামুদ্রিক ঈগল, শঙ্খচিল, বকসহ নানা স্থানীয় পাখি নিশিবক, কানিবক, গোবক, পানকৌড়ি, ধূসরবক, কাদাখোঁচা, বালিহাঁস, লালপা, নানান জাতের মাছরাঙ্গা তো আছেই। পৃথিবী বিপন্ন ইন্ডিয়ান ইস্কিমার বা দেশী গাঙ চষার অন্যতম বিচরণস্থল এই দ্বীপ। এছাড়াও দ্বীপের আশপাশের জঙ্গলেই আছে শেয়াল, বন্যশূকর, নানা রকম সাপ ও বানর, উদ্বিড়াল, মেছোবাঘ, খেকশিয়াল ইত্যাদি।

দলবেঁধে যদি জঙ্গলে হাঁটার স্বাদ মিস করতে না চান তাহলে ‘নামার বাজারের পাশের খাল ধরে নৌকায় বা ছোট ট্রলারে চড়ে যেতে হবে চৌধুরীর খালে। এই খাল একেবারে জঙ্গলের ভেতরে চলে গেছে। বেশি হরিণ দেখতে হলে নৌকায় কিংবা বনের পাশে কোথাও নিজেদের আড়াল করে নীরবে অপেক্ষা করতে হবে।

বাংলাদেশের প্রকৃতি মানুষের কলুষতার হাত থেকে সামান্য মুক্ত হলেই যে কি অবিশ্বাস্য প্রাণিসম্পদের সম্ভার ধারণ করতে পারে, তা নিঝুমদ্বীপে না গেলে বোঝা অসম্ভব। তবে দ্বীপে নামলেই যে এসব আরামসে দেখবেন এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। পাখি বা হরিণ দেখতে হলে আপনাকে খুব ভোরে উঠতে হবে। মূল দ্বীপেই স্থানীয় গাইডদের সাথে গিয়ে হরিণ দেখে আসতে পারবেন। অথবা নামার বাজার থেকে ভাড়ায়চালিত মোটর সাইকেলযোগে পার্শ্ববর্তী চোঁয়াখালি নামক স্থানে গিয়ে খুব কাছ থেকে হরিণ দেখতে পাবেন। পাখি দেখতে হলে ট্রলারে করে পার্শ্ববর্তী দ্বীপগুলোতে যেতে হবে, পেরোতে হবে অনেকটা কাদা। কবিরাজের চর ও দমারচর পাখি দেখার জন্য বেশ উত্তম জায়গা। আর অ্যাডভেঞ্চার পিয়াসী হলেও নিঝুমদ্বীপ আপনাকে নিরাশ করবেনা।

জঙ্গলে হাঁটাহাঁটি তো আছেই, সাথে ধরুন সমুদ্রের বালুকাবেলায় ক্যাম্পিং করে থাকা অথবা বার-বি-কিউয়ের আয়োজন, ধুধু চরে হেঁটে বেড়ানো মহিষের বিশাল পাল, কিংবা নৌকায় করে সাগর ভ্রমণ করার মতো এখানে আছে অনেক কিছুই। এছাড়াও নিঝুমদ্বীপে পর্যটকদের জন্য ওয়েলকাম ড্রিংকস হিসেবে রয়েছে কচি ডাবের পানি। তবে এখানে ডাব বিক্রির জন্য কোনো হকার নেই। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে গাছ থেকে ডাব পাড়িয়ে খেতে হয়।

নিঝুম দ্বীপের সমুদ্রের বুকে হেলে পড়ে অস্তগামী সূর্য, পাখির কলতান যেনো হাজার বছরের নিস্তব্ধতাকেও জাগিয়ে তুলতে সক্ষম। এই জনপদের যেদিকে চোখ যায় যতদূর চোখ যায় কেবল সারি সারি কেওড়াগাছ আর তার কোলঘেঁষে বয়ে চলা নদী মুহুর্তেই মায়াবী জাদুর বন্ধনে বেধে ফেলে পর্যটকদের মন। সমুদ্রের বুক থেকে শুরু হয়ে সরু খাল ধরে গহীন বনের বুক চিড়ে বেড়ে ওঠা এই দ্বীপটির চারপাশে কেবল সবুজের বিচরণ। সেই সাথে রয়েছে সমুদ্রের স্বচ্ছ নোনাজল। চলতিপথে পানির নিচের সবুজদৃশ্য ও মাছের ছুটোছুটির দৃশ্য দেখে পর্যটকদেরকে বারবার পানিতে ঝাপিয়ে পড়ার ইচ্ছে জাগিয়ে তোলে।

কখন যাবেন?

নিঝুমদ্বীপ ভ্রমণের সবচাইতে উপযুক্ত সময় হলো শীতকাল। বর্ষাকালে গেলে কাদায় গোসল করার সম্ভাবনা শতভাগ। আর গ্রীষ্মকালে গেলে মোকাবেলা করার সম্ভাবনা রয়েছে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের । সবদিক বিবেচনা করে শীতকালটাই নিঝুমদ্বীপ ভ্রমণের জন্য সবচাইতে উপযুক্ত সময়।

কিভাবে যাবেন?

নদীপথে:
ঢাকার সদরঘাট থেকে ‘এমভি ফারহান’ (০১৭৮৫৬৩০৩৬৬)  নামে একটা লঞ্চই সরাসরি হাতিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। বিকেল সাড়ে ৫টায় যাত্রা শুরু করে হাতিয়ার তমরুদ্দীনঘাট পর্যন্ত পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ১২ ঘণ্টা। ডেকের টিকেট মূল্য ৩৫০ টাকা,  কেবিন সিঙ্গেল ২ হাজার টাকা, ডাবল ৪ হাজার টাকা। হাতিয়া নেমে মাছ ধরার ট্রলারে জনপ্রতি ২০০ টাকা দিয়ে পৌঁছাতে পারেন নামার বাজারে। ট্রলার না পেলে মোটর সাইকেলে (জনপ্রতি ৩০০ টাকা) করে যেতে পারেন মোক্তারের ঘাট। সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ৫-১০ মিনিটে মেঘনাপার হয়ে পৌঁছাবেন নিঝুমদ্বীপে। এরপর আপনাকে আবার মোটর সাইকেল (জনপ্রতি ৫০ টাকা) অথবা রিকশা (১০০ টাকা) করে নামার বাজারে যেতে হবে।

সড়ক পথে:
এছাড়া যারা ঢাকা থেকে সড়কপথে যেতে চান তাদের জন্য ঢাকার যাত্রাবাড়ী তথা সায়েদাবাদ থেকে রয়েছে নোয়াখালীর বাস। ঢাকা থেকে প্রথমে যেতে হয় মাইজদী সোনাপুর। সোনাপুর থেকে যেতে হবে চেয়ারম্যানঘাট। সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যানঘাটের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। যানবাহন হিসেবে রয়েছে বাস, টেম্পু ও টু-স্ট্রোক বেবিট্যাক্সি। সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যান ঘাট যেতে বেবিতে ভাড়া পড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মতো। চেয়ারম্যান ঘাট পৌঁছে সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার অথবা সী-ট্রাকে করে প্রথমে হাতিয়া চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যেতে হয় হাতিয়ার নলচিরাঘাটে। তারপর নলচিরাঘাট থেকে যেতে হয় দক্ষিণ দিকে জাহাজমারা নামক ঘাটে। সময় লাগে ৩০ মিনিটের মতো। আবার জাহাজমারা থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে যেতে হয় নিঝুমদ্বীপে। তবে, দলবেঁধে গেলে সরাসরি চেয়ারম্যান ঘাট থেকে ট্রলার রিজার্ভ করে নিঝুমদ্বীপে যাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে মাঝারি সাইজের মাছ ধরা ট্রলারে দরদাম করে ভাড়া মিটিয়ে নিতে পারেন, ৪ থেকে ৫ হাজারের মধ্যে। উল্লেখ্য এই পথে নিঝুমদ্বীপে যাওয়ার সময় জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

ট্রেন পথে:
ট্রেনে করে যেতে চাইলে প্রথমে কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে নোয়াখালী রেলওয়ে ষ্টেশন যেতে হবে। এরপর বাসে নোয়াখালী চেয়ারম্যানঘাট হয়ে বাসের রুট অনুযায়ী নিঝুমদ্বীপে যাওয়া যায়। এছাড়া বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সদরঘাট থেকেও সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে চট্টগ্রাম থেকে একটি জাহাজ হাতিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

কোথায় থাকবেন :
নিঝুমদ্বীপের মূল জনবসতির নাম হলো ‘নামার বাজার’। এখানকার পর্যটন রিসোর্টে থাকতে পারবেন। থাকতে পারেন জেলা পরিষদ নির্মিত ডাক বাংলো ‘নিঝুম রিসোর্টে’ (০১৭১১-১৭৩৪৩৪)। এখানে থাকতে রুমপ্রতি ভাড়া পড়বে ৫০০ থেকে  ১৫০০ টাকা পযন্ত। নিঝুম রিসোর্টে পাঁচ বেডের ডরমিটরি রুম আছে, ভাড়া বেশ কম। এছাড়া আরেকটু আরামে থাকতে চাইলে নামার বাজারেই আছে হোটেল শাহীন (০১৮৬৮৬১২৩২৩)। সেখানেও থাকতে পারবেন, যদিও খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি পড়বে। সিংগেল বেডের রুম প্রতি ভাড়া গুনতে হবে ১৫০০ টাকা (এটাচ বাথসহ)। আর ডাবল বেডের রুম পাবেন ১২০০-১৩০০ টাকার মধ্যে। নামার বাজারেই আছে মসজিদ বোর্ডিং, এখানেও খুবই কম খরচে থাকা যায়।

এছাড়াও দ্বীপে থাকতে পারেন সরকারি উপজেলা কমপ্লেক্স অথবা বন বিভাগের ডাক বাংলোয়, তবে এগুলোর জন্য আগে থেকে অনুমতি নিয়ে রাখতে হয়। আর ক্যাম্পিং করতে চাইলে মূল দ্বীপেই করা ভালো। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আশপাশের চরগুলোতে মাঝে মধ্যে ডাকাত হানা দিয়ে থাকে।

নিঝুম দ্বীপের দর্শনার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য হলো, নিঝুমদ্বীপে কোথাও বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। গোটা দ্বীপেই সোলার প্যানেল অথবা জেনারেটর ব্যবহার করে বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হয় সীমিত সময়ের জন্য। কাজেই বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বুঝে শুনে ব্যবহার করাই ভালো।

কি খাবেন?
নিঝুমদ্বীপে খাওয়া-দাওয়ার জন্য আলাদা কোন নিয়ম নেই। অন্য সব পর্যটনকেন্দ্রের মত এখানেও আপনাকে নিজ দায়িত্বে পছন্দমত খেতে হবে। তবে মানসম্মত হোটেল এখানে তেমন নেই। নামার বাজারের এসব হোটেল থেকেই খাবার-দাবারের কাজ সেরে নিতে হবে আপনাকে। খাবারের দাম এখানে অনেক কম পড়বে, তবে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ছাড়া অন্যান্য খাবারের ক্ষেত্রে সংগত কারণেই তেমন বৈচিত্র পাবেন না। তবে আপনি যদি অতিমাত্রায় মিশুক মানুষ হন তবে স্থানীয়দের দু’একজনের বাড়িতে বাজার করে দেওয়ার বিনিময়ে আতিথিয়তা গ্রহণ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে খাবারের ক্ষেত্রে পেতে পারেন একটু বাড়ির স্বাদ।

নিঝুম দ্বীপে গিয়ে যেসববিষয়েভালোমত মনে রাখবেন:

  • নিঝুম দ্বীপে যাওয়াটা বেশ সময় ও শ্রম সাপেক্ষ, তাই বয়স্ক অথবা কম বয়সীদের সেখানে না নিয়ে যাওয়াই ভালো।
  • গরমের সময় সমুদ্র বেশ উত্তাল থাকে। এ সময় গেলে আবহাওয়া বিষয়ে খোঁজ খবর করে যাওয়া ভালো।
  • লঞ্চ সব সময় একদম ঠিক সময়ে ছাড়ে, কাজেই সময়ের ব্যাপারে একটু বেশি সতর্ক থাকবেন।
  • নিঝুম দ্বীপের জঙ্গলকে সরকার সংরক্ষিত অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। তাছাড়া এই গোটা দ্বীপ বাংলাদেশের সম্পদ। কাজেই যত্রতত্র ময়লা ফেলবেন না।
  • এখানকার স্থানীয় মানুষ বেশ ভদ্র ও নিরীহ। অকারণে তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করলে তারা সহযোগিতা করতে চাইবেনা, সেক্ষেত্রে আপনার ভ্রমণ মোটেই সুখকর হবেনা।
  • শিকারের বাতিক থাকলে সেটা ভুলে যাওয়াই ভালো। দ্বীপের প্রাণী ও পাখিদের রক্ষার জন্য সরকার ও বন বিভাগ তো বটেই, এখানকার স্থানীয় মানুষও বেশ সচেতন।
  • আশপাশের চরে পাখি দেখতে চাইলে জোয়ার থাকা অবস্থাতেই পৌঁছানো ভালো, কারণ ভাটার টান শুরু হয়ে গেলে চরে নৌকা ভিড়তে পারবেনা এবং প্রায় কোমর সমান কাদা পার হয়ে চরে পৌঁছাতে আপনার ওপর দিয়েও ধকল কম যাবেনা।
  • অকারণে জঙ্গলে গাছের পাতা ছিড়বেন না বা ডাল ভাঙবেন না, এগুলো হরিণের খাবার। পাখিদের উত্ত্যক্ত করবেন না।

আপনার ভ্রমণ আনন্দদায়ক ও সুখস্মৃতিময় হোক।


ভ্রমণবিলাসীদের জন্য চিত্রা হরিণের নিস্তব্ধ নিঝুম দ্বীপ নিয়ে একটি ভিডিও পরিবেশনা: