বৃহস্পতিবার ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ০৪:০৭

অটিজম: জনসচেতনতা বাড়াতে হবে

Published : 2017-04-02 22:44:00
অটিজম সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছর ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়েছে। অটিজমকে সাধারণভাবে শিশুর মনোবিকাশগত জটিলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অটিজমের লক্ষণগুলো একদম শৈশব থেকেই, সাধারণত তিন বছর থেকে প্রকাশ পেতে থাকে। অটিজমে আক্রান্তরা সামাজিক আচরণে দুর্বল হয়, পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে কম সক্ষম হয়।
দেশে অটিজম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি ও অটিস্টিক শিশুদের জন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গতকাল প্রধানমন্ত্রী-কন্যা, গ্লোবাল অটিজম পাবলিক হেলথ ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশের জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান সায়মা ওয়াজেদ হোসেনকে ‘চ্যাম্পিয়ন ফর অটিজম ইন সাউথইস্ট এশিয়া রিজিয়ন’ মনোনীত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। অটিজম আক্রান্ত শিশুদের পাশে এসে দাঁড়িয়ে নিজেকে এই সম্মানের যোগ্য করে তুলেছেন সায়মা ওয়াজেদ। তার এই অর্জনে আমরা গর্বিত; আমাদের পক্ষ থেকে রইল অভিনন্দন।
সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও অটিস্টিকের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। অথচ অটিজম চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি। গ্রামে কিছুদিন আগে কিংবা বলা যেতে পারে এখনও মনে করা হয় অটিস্টিক শিশু ও ব্যক্তিরা জিন বা ভূতের আসরের শিকার। মূলত সচেতনতার অভাবেই অটিজমের মতো একটি রোগকে পরিবারের লোকজন কম গুরুত্ব দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোতে অটিস্টিক শিশুদের প্রতি অভিভাবক ও সমাজ হয়ে উঠে বৈরী। ফলে অনাদর অবহেলায় তারা পরিণত হয় সমাজের বোঝা হিসেবে। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক অবস্থায় অটিজম রোগকে চিহ্নিত করে সঠিক চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হলে অটিজম আক্রান্ত অনেক শিশুই স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাবা-মা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না যে শিশুটি আদৌ অটিস্টিক কি না? তাই অটিজম প্রতিরোধে প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে বাবা-মাকেই। তাদের সঙ্গে এমন কোনো আচরণ করা যাবে না যাতে করে তাদের মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মনে রাখতে হবে যত দ্রুত অটিস্টিক শিশুকে শনাক্ত করা যায় এবং যত তাড়াতাড়ি শিশুকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ত করা যায় তত দ্রুত তার উন্নতি করা সম্ভবপর হবে। এ লক্ষ্যে অভিভাবক ফোরাম গঠন করা যেতে পারে। সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে অটিজম সম্পর্কে সচেতন করতে এ ধরনের ফোরাম বা সংগঠনকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে। তাহলে অটিজমকে জয় করার প্রয়াস অনেকটাই সফল হতে পারে।
অটিস্টিক শিশুরা বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে অত্যন্ত পারদর্শী হয়। তাই এ ধরনের শিশুকে বিশেষ প্রয়োজনসম্পন্ন শিশু বা বুদ্ধিবৃত্তিক চাহিদাসম্পন্ন শিশু বলা হয়। দেখা গেছে, মেধা বিকাশের সুযোগ পেলে এরা সমাজকে অনেক কিছু দিতে পারে। সঠিক প্রশিক্ষণ, সমন্বিত সেবা ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে রাষ্ট্র, সমাজ এবং সামর্থ্যবান প্রতিটি ব্যক্তি ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে অটিজম আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াবে-এটাই প্রত্যাশা।