বৃহস্পতিবার ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ০৪:০২

১৯ ঘন্টা পর মায়ের কোলে ফিরল সেই নবজাতক

Published : 2017-04-02 21:24:00, Updated : 2017-04-03 00:53:06
বগুড়া সরকারী মোহাম্মাদ আলী হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক ১৯ ঘন্টা পর মায়ের কোলে ফিরে এসেছে। গতকাল বিকেলে বগুড়ার গাবতলি উপজেলার মাজবাড়ি এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে মা হোসনে আরা ও বাবা রুবেল হোসেনের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। এসময় হাসপাতালের চিকিত্সক-নার্সসহ রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

শিশুটিকে তার মা-বাবার কাছে হস্তান্তরের পর বিকেলে হাসপাতালের কনফারেন্স হলে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী শিশুটি উদ্ধার অভিযানের বর্ননা দেন। তিনি জানান, ৩ দির বয়সী শিশুটিকে চুরি করেছিলো গাবতলি উপজেলার মাজবাড়ি গ্রামের মাহফুজারের স্ত্রী রত্না।

এরপর সে শিশুটিকে একই গ্রামের নিঃসন্তান দম্পতি লাবনি-ফুলমিয়ার কাছে নিয়ে যায়। শিশুটির জন্ডিসের উপসর্গ ছিলো এবং হাসপাতালে চিকিত্সকদের পরামর্শ ছিলো প্রতিদিন রোদের উঞ্চতায় তাকে কিছু সময় রাখার। আর রোদে রাখার সময়ই হাসপাতালের বারান্দায় নানির কাছ থেকে কোলে নেওয়ার নাম করে শিশুটিকে চুরি করা হয়েছিলো। নিঃসন্তান দম্পতি শিশুটিকে ওই দিনে বিকেলে জন্ডিস ছাড়ানোর জন্য সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার ঢেকুরিয়া এলাকার এক কবিরাজের নিকট ঝাঁড়ফুক করতে নিয়ে যায়। এ কাজে ফুলমিয়ার স্বজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী বকুল সহযোগিতা করেন।

বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পেয়ে ফুলমিয়ার বাড়িতে গতকাল বেলা ৩টার দিকে অভিযান চালানো হয়। পুলিশি উপস্থিতি টের পেয়ে নবজাতককে বাড়ির বারান্দায় ফেলে রেখে ফুলমিয়া পরিবার নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে অক্ষত অবস্থায় চুরি যাওয়া সেই নবজাতককে উদ্ধার করা হয়।

তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান চালানো হবে বলেও জানান সনাতন চক্রবর্তী।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, মা ও নবজাতক সুস্থ রয়েছে। তবে নবজাতকের ওপর দিয়ে বেশ ধকল গেছে। এ কারণে নবজাতকের দিকে চিকিত্সকদের বিশেষ নজর রয়েছে।

প্রসঙ্গত, বগুড়া সদর উপজেলার ঝোপগাড়ি গ্রামের মো. রুবেলের স্ত্রী হোসনে আরা (২৫) গত ২৮ মার্চ দুপুরে বগুড়া সরকারী মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডের ৩৫ নম্বর বেডে ভর্তি হন। ২৯ মার্চ সকাল সাড়ে দশটার দিকে সিজারের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। ১ এপ্রিল সকাল সাড়ে দশটার দিকে অচেনা এক নারী ওই নবজাতককে তার নানীর কাছ থেকে কৌশলে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বগুড়ায় ব্যাপক তোলপাড়া শুরু হয়।

সেখানেই বিষয়টি অনেকের চোখে পড়ে। শিশু চুরির ঘটনা মিডিয়ায় আসার পর অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তি রবিবার সকালে বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালের জমাদার সর্দার(স্টাফ) রমজান আলীকে চুরি হওয়া শিশুটির বিষয়ে তথ্য দেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে সকাল ৯ টার দিকে বিষয়টি জানালে পুলিশ দ্রুত তত্পরতা শুরু করে।

পুলিশের এক অফিসার প্রথমে কাজীপুরের ঢেকুরিয়ায় যায় এবং বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর রত্না লাবনী-ফুলমিয়া দম্পতির বাড়ি গাবতলির মাজগ্রামে আসে। পরে ফুলমিয়ার বাড়ির মেঝেতে শুইয়ে রাখা অবস্থায় চুরি হওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। শিশু চোর রত্না ও শিশু ক্রেতা ফুলমিয়ার বাড়ি একই গ্রামে। আর রত্নার পিতার বাড়ি বগুড়ার বারপুর এলাকায়। এভাবেই চুরি হওয়া শিশুটি উদ্ধার করে পুলিশ। তবে কতো টাকায় শিশুটি বিক্রি হয়েছিলো তা পুলিশ জানতে পারেনি।

এদিকে দীর্ঘ ১৯ ঘন্টা পর চুরি হওয়া সন্তানকে পেয়ে মা হোসনে আরার চোখ মুখে এখন শুধুই  হারিয়ে যাওয়া রত্ন ফিরে পাওয়ার আনন্দে হাসির ছোঁয়া। সন্তানকে ফিরে পেয়ে মা তাকে বুকে জড়িয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন। রাতে নির্ঘুম কাটানোর পর তার মুখে এখন অনাবিল আনন্দের পরশ। যা হাসপাতালের সকলকে ছুঁইয়ে যায়।