শনিবার ২০ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ০৯:১২

মাগুরায় ৪ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা ঋণদান সমিতি!

Published : 2017-04-01 23:05:00
মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরায় জনতা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় পাঁচ শতাধিক গ্রাহকের অন্তত ৪ কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সুযোগে প্রতিষ্ঠানটি অফিস কক্ষে তালা লাগিয়ে সটকে পড়ার পর গত কয়দিনে ফিরে না আসায় স্থানীয় আমানতকারীদের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছে।
‘আয় থেকে দায় শোধ, সঞ্চয়ের মাধ্যমে পুঁজি গঠন হোক’ স্লোগান নিয়ে জনতা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে ওই প্রতিষ্ঠানটি ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মাগুরায় তাদের কার্যক্রম শুরু করে। শহরের ভায়নার মোড়ে আল আমিন মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় প্রতিষ্ঠানটি মাসিক ৫ হাজার টাকা চুক্তিতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া গ্রামের খন্দকার আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে ভাড়া নিয়ে সেখানে আটজন কর্মচারী নিয়োগ দেন বলে জানা গেছে।
শাহরিয়ার রহমান নামে একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ডলি নামে একজন হিসাবরক্ষক, একজন পিয়ন ও চারজন মাঠকর্মী নিয়োগের মাধ্যমে এই সমিতিটি মাগুরায় এতদিন কার্যক্রম চালিয়ে এলেও গত কয়দিন ধরেই তারা মোবাইল ফোন বন্ধ করে পালিয়ে রয়েছে বলে স্থানীয় আমানতকারীরা জানিয়েছেন। আমানতকারীদের অভিযোগ, শুরুতে তারা স্থানীয় চায়ের দোকানি ও কাপড় ব্যবসায়ীদের ছোট ছোট ঋণ দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা
অর্জনের চেষ্টা করে। যেটিকে পুঁজি করে গত আট বছরে প্রতিষ্ঠানটি অন্তত পাঁচশ’ আমানতকারী সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়। যার বিপরীতে অন্তত ৪ কোটি টাকা তাদের ঘরে জমা পড়ে। মাগুরা গণপূর্ত বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কার্য সহকারী আবদুল আজিজ পালিয়ে যাওয়া এই প্রতিষ্ঠানের একজন আমানতকারী। পেনশনের ৬ লাখ টাকা তিনি ডিপিএস হিসেবে সেখানে জমা করেন। অন্যদিকে প্রতিমাসে ১৫০০ টাকা করে সঞ্চয় হিসেবে জমা করেন। সর্বসাকলে সেখানে তার প্রায় ৯ লাখ টাকা গচ্ছিত রয়েছে। অথচ অবসর জীবনের এতগুলো টাকা হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে পথে নামা ছাড়া তার আর কোনো উপায় নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। অপর আমানতকারী মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালি গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকীর স্ত্রী নাসিমা খাতুন জানান, শহরের বড় বড় মার্কেটের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বাসাবাড়ির ঝি পর্যন্ত অন্তত পাঁচশ’ আমানতকারী বিভিন্ন অঙ্কের টাকা এখানে জামানত হিসেবে রেখেছেন। যার পরিমাণ অন্তত ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা হবে। তার নিজেরও এখানে সাড়ে ৯ হাজার টাকা গচ্ছিত রয়েছে। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরেই সঞ্চয় সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। শুধু তাই নয়, অফিসের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ভাড়াকৃত বাড়ির মালিক হাফিজুর রহমান জানান, ১২ থেকে ১৪ শতাংশ হারে মুনাফার কথা বলে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় মানুষকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। ছোট ছোট পুঁজির কয়েকজন ব্যবসায়ীকেও ওই হারে মুনাফা দিয়ে তারা আস্থা অর্জন করে। এতে প্রতিদিনই সেখানে নতুন নতুন আমানতকারীর ভিড় বাড়তে থাকে। যে কারণে তিনি নিজেও গত আট বছরের ঘর ভাড়ার প্রায় ৬ লাখ টাকাই সেখানে গচ্ছিত রেখেছেন। এতে তার এতদিনের ভাড়ার টাকা তো গেছেই, উপরন্তু স্থানীয় আমানতকারীরাও তার ওপর চড়াও হচ্ছেন। যে কারণে তিনি বাধ্য হয়ে গতকাল সদর থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন।
জনতা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডের কর্মচারীরা ঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তাদের যোগাযোগের নম্বরগুলোও বন্ধ রাখায় এই প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে এ বিষয়ে সদর থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন জানান, সমবায় অধিদফতরের পক্ষ থেকে জনতা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে খোঁজ করা হচ্ছে শুনেছি। তবে ওই সমিতির কোনো আমানতকারী এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।