শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৩:৩৯

খালেদা জিয়া যতবার আটক ও কারাভোগ করেছেন

Published : 2018-02-08 14:35:00, Updated : 2018-02-08 20:17:28

অনলাইন ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে দুইবার কারাগারে কারাভোগ করেছেন। ৮ ফেব্রæয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম জিয়াকে ৫ বছর কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। এরপর আদালত থেকে তাকে নেয়া হয়েছে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে। বর্তমানে তিনি সেখানেই আছেন। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিগত তত্ত¡বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি গ্রেপ্তার হন। তাকে সংসদ ভবন এলাকার স্থাপন করা বিশেষ কারাগারে রাখা হয়। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের আদেশে মুক্ত হন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি প্রাথমিক সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন খালেদা জিয়া। এরপর তিনবার পুলিশ তাকে আটক করে। তবে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়নি। 

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর আটক হন তিনি। ১৯৮৭ সালে হোটেল পূর্বাণীতে এক অনুষ্ঠান থেকে আটক করে আরও কয়েকজন নেতার সঙ্গে তাকে কিছু সময় মতিঝিল থানায় নেওয়া হয়। অবশ্য পুলিশ সে সময় তাকে গ্রেপ্তার বা আটকের বিষয়ে কোনো কিছু বলেনি।

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সেনাবাহিনীর একটি কুচক্রী মহলের হাতে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মর্মান্তিকভাবে নিহত হওয়ার পর দলের হাল ধরেন খালেদা জিয়া।

২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত জরুরি সরকার মতায় আসে। এই সরকারের নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। প্রথমে তাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার জন্য বিদেশে সপরিবারে নির্বাসনে পাঠানোর চেষ্টা করে। এরপর তাকে গ্রেফতার করে এক বছর কারাগারে বন্দী রাখা হয়। পরে আদালতের আদেশ তিনি মুক্তি পান।

২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে আদালতের নির্দেশে সেনানিবাসের বাসভবন  থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এই বাড়িতে তিনি স্বামী শহীদ জিয়াউর রহমানের সাথে ৩৮ বছর ছিলেন। তার নামে তৎকালীন সংসদ বাড়িটি বরাদ্দ দিয়েছিল।

২০১৩ সালে নির্বাচনের আগে ২৯ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া জনগণকে জাতীয় পতাকা হাতে ঢাকায় মার্চ করার কর্মসূচি আহ্বান করেন। সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে এ কর্মসূচি ভুন্ডুল করে দেয়। তার বাসভবনের সামনে বালুর ট্রাক বসিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। ওই দিন বাসভবন থেকে তাকে আসতে দেয়া হয়নি। ফলে গেটে দাঁড়িয়েই তিনি বক্তৃতা দেন। ৯৩ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আদালতে হাজিরা দিয়ে বাসায় ফেরেন তিনি।

২০১৫ সালে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’কে সামনে রেখে নতুন নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হয়। এ অবস্থায় ৩ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে গুলশান কার্যালয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করা হয়। বের হতে চাইলে তাকে ল্য করে ছোড়া হয় মরিচের গুঁড়া। এরপর তাকে দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর কাছ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। বিচ্ছিন্ন করা হয় তার অফিসের বিদ্যুৎ লাইন, ডিশলাইন, ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক।  বেগম জিয়া ও তার সাথের লোকদের অভুক্ত রাখার জন্য গুলশান অফিসে খাবার সরবরাহও বন্ধ করে দেয়া হয়।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনি একমাত্র প্রার্থী হিসেবে পঞ্চম সাধারণ নির্বাচন থেকে অষ্টম নির্বাচন পর্যন্ত চারটি নির্বাচনে পাঁচটি করে আসনে প্রার্থী হয়ে চারবারই সব আসনে জয়ী হন। নবম সংসদ নির্বাচনে তিনটি আসনে দাঁড়িয়ে তিনটিতেই তিনি জয়লাভ করেছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে পরবর্তী সময়ে বিরোধীদলীয় নেত্রী থেকে আবারো নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রথম রেকর্ড তিনিই সৃষ্টি করেন। ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়াই সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন। বগুড়া-৬ আসনে দুই লাখ ২৭ হাজার ৩৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মাহবুব আলম ভোট পান ৫৪ হাজার ৭৭৭। বাংলাদেশের ইতিহাসে সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর সর্বোচ্চ  ভোটের মাধ্যমে রেকর্ড স্থাপনের এমন নজির অতীতে দেখা যায়নি। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সব দুর্যোগ এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন আন্দোলনে নিজেকে অনির্বাণ শিখা হিসেবে প্রজ্বলন করে রেখেছেন। এ জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে তিনি প্রস্তুত, ৭ নভেম্বর সে কথা নেতাকর্মী এবং দেশবাসীকে অবহিত করেছেন।