বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ০১:১১

বিশ্বের যে ৮টি শহর খাবার পানিশূন্য হতে পারে

Published : 2018-02-08 10:31:00, Updated : 2018-02-08 10:35:13

অনলাইন ডেস্ক : আধুনিক বিশ্বে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন প্রথম বড় কোনো শহর যেটি খাবার পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন কেপটাউনের মতো পরিণতি বিশ্বের অনেক শহরের জন্য অপেক্ষা করছে। ভূপৃষ্ঠের ৭০ ভাগই পানি। কিন্তু সুপেয় পানির সরবরাহ খুবই কম। মাত্র ৩ শতাংশ।

বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি মানুষের সুপেয় পানির অভাব রয়েছে। আরো ২৭০ কোটি মানুষ বছরে অন্তত এক মাস পানির সঙ্কটে পড়ে। ২০১৪ সালে বিশ্বের ৫০০ বড় শহরের ওপর পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে এগুলোর প্রতি চারটির মধ্যে একটি শহরে পর্যাপ্ত পানির সমস্যা হচ্ছে। অর্থাৎ এসব শহরের কর্তৃপক্ষ প্রতিটি মানুষের জন্য বছরে ১৭০০ ঘনমিটার পানি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে সুপেয় পানির সরবরাহ চাহিদার চেয়ে ৪০ শতাংশ কম হবে। এখানে ৮টি শহরের নাম করা হলো যেগুলো কেপ টাউনের মত পানিশূন্যতার সঙ্কটে পড়তে পারে।

সাও পাওলো

ব্রাজিলের বাণিজ্যিক ই শহরটি বিশ্বের ১০টি সবচেয়ে জনবহুল শহরগুলোর একটি। জনসংখ্যা দুই কোটি ১৭ লাখ। ২০১৫ সালে এই শহরের প্রধান জলাধারের পানি তারণ ক্ষমতার চার শতাংশেরও নীচে চলে গিয়েছিল।

এক পর্যায়ে এই শহরের পানি সরবরাহের ক্ষমতা বড়োর ২০ দিনে নেমে আসে। লুটপাটের ভয়ে পুলিশ দিয়ে পানির ট্রাক পরিবহন করতে হয়েছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে আবারও সাও পাওলোর জলাধারের পানি ধারণ ক্ষমতার মাত্র ১৫ শতাংশে নেমে আসে।

ব্যাঙ্গালোর

ভারতের ব্যাঙ্গালোর শহরটি প্রযুক্তি শিল্পের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠার সাথে সাথে দ্রুত নতুন নতুন বাসভবন তৈরি হতে থাকে। আর শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পানি ও পয়োনিষ্কাশনের তাল মেলাতে গলদঘর্ম হচ্ছেন কর্তৃপক্ষ।

পাশাপাশি পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এতই পুরনো হয়ে পড়েছে যে সরবরাহের অর্ধেক পানি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া, শহরের জলাধারগুলো এতটাই দুষিত হয়ে পড়েছে যে এগুলো কৃষিকাজে ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের অযোগ্য। একটি লেকের পানি খাওয়ার জন্য দূরে থাক, গোসলের জন্য উপযোগী নয়।

বেইজিং

২০১৪ সালে, চীনের রাজধানীতে প্রতিটি মানুষ মাত্র ১৪৫ ঘনমিটার পানি পেয়েছিলো, যেখানে বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ১০০০ ঘনমিটারের কম পেলেই সেটাকে পানি-সঙ্কট বলা যেতে পারে।

বিশ্বের জনসংখ্যার ২০ শতাংশই বসবাস করে চীনে। কিন্তু বিশ্বের সুপেয় পানির মাত্র ৭ শতাংশ রয়েছে সেদেশে। এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০০০ সাল থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে চীনের সুপেয় পানির রিজার্ভ ১৩ শতাংশ কমে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চীনা সরকার বিভিন্ন বিকল্প সূত্র থেকে বড় শহরগুলোতে পানি নিয়ে আসছে, সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং পানির দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কায়রো

মিশরের পানির চাহিদার ৯৭ শতাংশ আসে নীল নদ থেকে। তবে তীব্র দূষণে আক্রান্ত হয়েছে এই নদটি। পানি দূষণের কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, এসব সব দেশের যে তালিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করেছে, মিশর তার ওপরের দিকে। জাতিসংঘের মতে মিশরে ২০২৫ সাল নাগাদ পানির প্রচণ্ড সঙ্কট দেখা দেবে।

জাকার্তা

অনেক উপকূলীয় শহরের মতো ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার ঝুঁকিতে পড়েছে। সেইসাথে, শহরের এক কোটি মানুষের বিরাট একটি অংশ পাইপের সরবরাহ না পেয়ে নিজের মত করে কুপ খুঁড়ে পানি ওঠাচ্ছে। ফলে পানির স্তর দিন দিন নেমে যাচ্ছে। পরিণতিতে, জাকার্তার ৪০ শতাংশ এলাকা এখন সমুদ্র স্তরের নীচে চলে গেছে।

মস্কো

বিশ্বের সুপেয় পানির ২৫ শতাংশই রাশিয়াতে। কিন্তু শিল্প বর্জ্যের কারণে পানি দূষণের মাত্রা মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে সেখানে। মস্কোর জন্য এই অবস্থা খুবই উদ্বেগের কারণ এই শহরের পানির ৭০ শতাংশ আসে ভূ্-উপরস্থ সূত্র থেকে। সরকারি হিসাবে রাশিয়ায় সুপেয় পানির রিজার্ভের ৩৫ থেকে ৬০ শতাংশ পুরোপুরি নিরাপদ নয়।

ইস্তাম্বুল

সরকারি হিসাবে তুরস্কের ইতিমধ্যে পানির অভাব চলছে। ২০৩০ সাল নাগাদ পরিস্থতি আরো খারাপ হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইস্তাম্বুলে শুকো মাসগুলোতে পানির সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। ২০১৪ সাল থেকে শহরের জলাধারের রিজার্ভ ধারণ ক্ষমতার ৩০ শতাংশেরও নীচে নেমে যাচেছ।

লন্ডন

লন্ডনে পানির সঙ্কটের কথা হয়তো কেউ তেমন ভাবেননা, কিন্তু বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। বছরে বড়জোর ৬০০ মিমি বৃষ্টি হয় বলে লন্ডনের পানির ৮০ শতাংশই আসে নদী থেকে।

সে কারণে নগর কর্তৃপক্ষ বলছেন, পানির চাহিদা মেটানো দিন দিন কষ্টকর হয়ে পড়েছে এবং ২০৪০ সাল নাগাদ পরিস্থিতি সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছুতে পারে। শহরে হোসপাইপের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার করা ইদানীং প্রায় শোনা যাচ্ছে। সূত্র: বিবিসি