মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৩:৫৬

পথে পথে তল্লাশি, ঢাকামুখী পরিবহণ কমছে

Published : 2018-02-07 14:44:00, Updated : 2018-02-07 16:39:08
সংগৃহিত ছবি

অনলাইন প্রতিবেদক : বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার রায়কে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি মহাসড়কগুলো রয়েছে কড়া নজরদারিতে।

রাজধানীর প্রবেশ পথসহ মহানগরের ভেতরে গণপরিবহণে তল্লাশি বাড়িয়েছেন তারা। যাতে রায় বিপক্ষে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঢাকায় জড়ো হয়ে কোন আন্দোলন করতে না পারে।

এদিকে বুধবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সায়দাবাদ, গুলিস্তান, মহাখালী ও গাবতলী ঘুরে দেখা গেছে দূর পাল্লার ও ঢাকামুখি পরিবহনের সংখ্যা বেলা বাড়ার সঙ্গে ক্রমশ কমে আসছে। বাস টার্মিনালগুলোতে থমেথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) খালেদা জিয়ার রায় বিপক্ষে গেলে বিএনপি সমর্থকরা ঢাকায় জড়ো হয়ে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহনে ব্যাপক তল্লাশির পাশাপাশি রাজধানীতে নিরাপত্তা চৌকির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।  

এদিকে বুধবার সকাল থেকে চট্টগ্রামজুড়ে তৎপর পুলিশ। ঢাকা-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মহাসড়কসহ চট্টগ্রামে প্রবেশ পথের সব কটি সড়কে অবস্থান নিয়ে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচল কমে গেছে। চট্টগ্রাম বিমান বন্দর সড়কসহ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কাজে ব্যবহৃত সড়কসমূহে যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। 

এর আগে মঙ্গলবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগরী এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সব ধরনের মিছিল জমায়েত নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। চট্টগ্রামের পুলিশও একই ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। 

বৃহস্পতিবার ভোর থেকে বন্দরনগরীতে সব ধরনের দেশীয় অস্ত্র বহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের সিমেন্ট ক্রসিং থেকে পতেঙ্গার ১১ নম্বর ঘাট পর্যন্ত সড়কে বুধবার বিকাল ৪টা থেকে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর ও  নরায়ণগঞ্জেও বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে পুলিশ, সন্দেহ হলেই যানবাহনে চালানো হচ্ছে তল্লাশি। 

বৃহস্পতিবার জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার তারিখ রয়েছে। এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন সাজা হতে পারে।

এদিকে বিএনপির অভিযোগ করছে, সরকার খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই ‘মিথ্যা’ এই মামলাকে রায় পর্যন্ত টেনে এনেছে। রায় বিপক্ষে গেলে তারা রাজপথে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।

এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে এ ধরনে পরিস্থিতি তৈরী হওয়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা চলছে সাধারণ মানুষের মনে।

পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন  বলেন, রায়কে কেন্দ্র করে আমরা সতর্ক রয়েছি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই আমরা নেব।

মঙ্গলবার পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে তল্লাশি অভিযান, টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে বলে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের স্বস্তি যাতে নষ্ট না হয়, তাদের মধ্যে যেন আতঙ্ক তৈরি হতে না পারে, সে চেষ্টা আমরা করছি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাসে বিএনপি-জামায়াত জোটের টানা অবরোধ-হরতালে নাশকতার কথা মনে করে উৎকণ্ঠা কাজ করছে পরিবহন খাতের মালিক শ্রমিকদের মধ্যেও।

পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সরকারসমর্থক সংগঠনগুলো যে কোনো পরিস্থিতিতে মাঠে থাকার ঘোষণা দিলেও সাধারণ চালকরা বলছেন, রাস্তায় ঝামেলা হলে যানবাহনেরই ক্ষতি হয় বেশি। ফলে বৃহস্পতিবার গাড়ি বের করা নিয়ে অনেকেই শঙ্কায় ভুগছেন।

দারুস সালাম থানার ওসি সেলিমুজ্জামান বলেন, রায় ঘিরে তারা গাবতলী এলাকায় বাড়তি জনবল নিয়োজিত করেছেন। সন্দেহ হলে যে কোনো বাস, ট্রাক বা পথচারীদের তল্লাশি করা হচ্ছে। আর আবদুল্লাহপুর এলাকার দুটি চেকপোস্টে জনবল বৃদ্ধি ছাড়াও পুলিশ সদস্যদের সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

একই ধরনের কথা বলেছেন ডেমরা থানার ওসি এস এম কাওছার। 

র‌্যাব-১১ এর মুন্সিগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো. নাহিদ হাসান জনি জানান, তারা রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের নিরাপত্তা জোরদার করেছেন। চেক পোস্টে তল্লাশির পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে টহল।

রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলোতে আবাসিক হোটেল, বোর্ডিং হাউস আর মেস বাড়িগুলোর দিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। 

গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, তার এলাকায় বৃহস্পতিবার সব ধরনের সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাঁচ জনের বেশি একসঙ্গে চলাফেরা না করতে বলা হয়েছে। এছাড়া যানবাহনেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

রায়কে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খখলা ঠেকাতে প্রস্তুত থাকার কথা বলেছেন নরায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ মতিয়ার রহমানও।

রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান জানান, তারা সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ না করলেও সর্তক রয়েছেন এবং সময় বুঝে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।