রবিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, রাত ১২:০৭

রায়কে ঘিরে বিএনপিতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

Published : 2018-02-07 09:48:00

অনলাইন ডেস্ক : বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এই রায়কে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রায়ের দিন বড় জমায়েত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এমন পরিস্থিতিতে দল, সার্বিক রাজনীতি এবং রায়ের বিষয়ে নিজের অবস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে জাতিকে অবহিত করতে আজ সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া সরকারি হার্ডলাইনের মধ্যেও কিভাবে রায়ের দিনের কর্মসূচি সফল করা যায়, সেটা ঠিক করতে আজ রাতে গুলশান কার্যালয়ে সভায় বসবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রায়কে ঘিরে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রাম সফল করতে নানা পরিকল্পনা করছে বিএনপি। বিশেষ করে রায়ের দিনে দেশব্যাপী বড় জমায়েত করার সিদ্ধান্ত্ম রয়েছে দলটির। এমনই সময় রায়ের দিন সভা সমাবেশ-মিছিল নিষিদ্ধ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি চলছে বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তারও। তাই রায়ের দিন শন্ত্মিপূর্ণ কর্মসূচি হলেও সেটা সফল করতে ব্যাপক বেগ পেতে হবে বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা। সঙ্গত কারণে সব ধরনের বাধা উপেক্ষা করে গণজমায়েতের কর্মসূচি সফলে করণীয় ঠিক করতে আজ রাতে স্থায়ী কমিটির সভা আহ্বান করেছেন বিএনপি প্রধান।

এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ের আগে সংবাদ সম্মেলন করে নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে গুরম্নত্বপূর্ণ বার্তা দিতে চান বিএনপি চেয়ারপারসন। এর অংশহিসবে আজ দলের গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে পারনে তিনি। মামলা নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য ও দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার পাশাপাশি নিজের নির্দোষের বিষয়টিও জাতিকে অবহিত করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

দলের সিনিয়র এক নেতা জানান, সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন দলীয় নেতাকর্মী, দেশবাসী, বিচারক, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও প্রশাসন এবং সরকারের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। একই সঙ্গে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশকে রক্ষার আহ্বান জানাবেন। এ ছাড়া গণতন্ত্র ফেরাতে সর্বদলীয় জাতীয় ঐক্য গঠনে সবচেয়ে বেশি গুরম্নত্ব দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রায়ের দিন বড় জমায়েত করার দিকে এখন সবচেয়ে বেশি মনোযোগী বিএনপি। তবে গণগ্রেপ্তারসহ সরকারি হার্ডলাইনের কারণে প্রতি পদে পদে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে দলটিকে। এরই মধ্যে আগামীকাল রায়ের দিন ঢাকায় সব ধরনের মিছিল-সমাবেশ বন্ধের ডিএমপির নিষেধাজ্ঞার কারণে ভাবনা আরও বেড়েছে। এরপরও যেকোনো মূল্যে রায়ের দিন ঢাকায় শান্ত্মিপূর্ণ গণজমায়েত করে নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে চায় দলটি। এ জন্য চলছে ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি। আন্দোলন সফলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানিয়েছেন, নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও নির্দেশনা পাওয়া মাত্র কর্মসূচি সফলের প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।

রায়ের দিন বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে কিনা জানতে চাইলে বিএনপির মুখপাত্র রম্নহুল কবির রিজভী বলেন, দল থেকে এ ব্যাপারে আগেই আহ্বান জানানো হয়েছে। বিএনপি গণতন্ত্রের রীতির বাইরে কোনো পথ গ্রহণ করে না। কারণ, গণতন্ত্রের কৃতিত্ব তো বিএনপির, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার। সুতরাং গণতান্ত্রিক রীতির মধ্যে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মধ্যে, গণতন্ত্রের আওতার মধ্যে যতটুকু প্রতিবাদ করার ততটুকুই করা হবে। নিপীড়ন-নির্যাতন যাই করম্নক, যত অত্যাচারই করম্নক, এখন সারা বাংলাদেশে একটাই আওয়াজ ‘আমার নেত্রী, আমার মা বন্দি হতে দেব না’।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ৮ ফেব্রম্নয়ারি রায়ের দিনকে সামনে রেখে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত্ম ১২০০-এর অধিক নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।