শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, সকাল ০৮:৪৮

খালেদা জিয়ার সাজা হলে কি করবে বিএনপি? 

Published : 2018-02-06 10:26:00, Updated : 2018-02-06 12:08:56

অনলাইন ডেস্ক : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা হবে ৮ ফেব্রুয়ারি। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গুছিয়ে আনছে বিএনপি। দলের সিনিয়র নেতারা তাদের বাসা-অফিসে চেয়ারপারসনের মামলার নানা দিক নিয়ে পর্যালোচনা করছেন। তবে হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রায়ের দিনক্ষণ ঘোষণা করায় অস্বস্তিও রয়েছে দলটিতে। বিএনপির সমমনা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে দলটির পরিচালনা সুষ্ঠু ও অবাধ রাখতে একটি কমিটি করা হয়েছে। যে কমিটি খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখবে।এ পেক্ষাপটে ৭ ফেব্রুয়ারি বেগম জিয়া সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন বলে জানা গেছে।এর আগে সোমবার সিলেটে মাঝার জিয়ারত করেছেন খালেদা জিয়া।  

বিএনপির নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়ে অপ্রত্যাশিত কিছু হলে তা মোকাবিলায় যথেষ্ট পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে দলের ৭৫টি টিম তৃণমূলে এ বিষয়ে দলীয় নির্দেশনা পৌঁছে দিয়েছে।বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো বলছে, খালেদা জিয়ার মামলা মোকাবিলায় স্বল্প মেয়াদে কিছুটা চাপ সইতে হবে দলটিকে। দীর্ঘমেয়াদে কোনও সমস্যা দেখছেন না বিএনপির নেতারা। এক্ষেত্রে খালেদা জিয়া জেলে থাকলে সরকারের ওপরই চাপ প্রয়োগ হবে বলে মনে করেন দলটির কয়েকজন নেতা। তবে বিএনপিকে রাজনৈতিক পরিপক্কতার পরিচয় দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। 

দলের অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার বিষয়ে দলীয়ভাবে এখনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। চলতি মাসেই নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বৈঠকের পর এ বিষয়টি ঠিক করা হবে। দলের কৌশল নির্ধারণ করার বিষয়ে স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যে বলেন, স্বল্প মেয়াদে হরতাল, বিক্ষোভ-সমাবেশের মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে। আর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হিসেবে আইনি লড়াই ও সাধারণ মানুষের কাছে বিষয়টিকে তুলে ধরার চেষ্টা করবে বিএনপি।

বিএনপির নীতি নির্ধারনী ফোরাম স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক করেছেন বেগম জিয়া। দলের নেতারা বলেছেন, রায় নিয়ে সরকার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে চাইলে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি হবে ফয়সালার দিন। সরকারের পতনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ বলছে, দেশে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা-অরাজকতা বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করা হলে তা প্রতিরোধ করা হবে।

বিএনপির মধ্যম সারির এক নেতা বলেন, নিঃসন্দেহে এই রায়ের ফসল সরকার ঘরে তুলতে চাইবে। সরকারের টার্গেট বিএনপিকে নেতৃত্ব শূন্য করা। তারা সেই লক্ষ্য নিয়েই এগুচ্ছে। কিন্তু সরকারের পাতানো ফাঁদে পা দেবে না বিএনপি। এই নেতার ভাষ্য, ম্যাডামের সাজা হলে আন্দোলনের মাঠে কারা সক্রিয় থাকবে তাদের চিহ্নিত করে সরকার তাদের কৌশল ঠিক করে বিএনপিকে দুর্বল করতে চাইবে। রায়টা বিপক্ষে যাওয়া বিএনপির শক্তি পরীক্ষার একটা টেস্ট কেইসও হতে পারে।

বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিগত সময়ে নানা ইস্যুতে মাঠে জোরালো অবস্থান না দেখিয়ে আমরা শক্তি সঞ্চয় করেছি। ম্যাডামের সাজা হলে হুট করে শক্তি প্রয়োগ করা হবে কিনা এ নিয়ে আলাপ আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের প্রায় ১১ মাস বাকি। তাই বুঝে শুনে পা ফেলার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। অতীতের মতো ভুল করে আর প্রায়শ্চিত্ত করতে রাজি নন তারা। তাই বলে খালেদা জিয়ার সাজা হলে নেতাকর্মীরা ঘরেও বসে থাকবে না বলে জানান তিনি।

বিএনপির আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণায় সাজা হলে তাৎক্ষণিক উচ্চ আদালতে জামিন চেয়ে আবেদন করার পরিকল্পনা অনেক আগেই নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে যাতে নিম্ন আদালতে সাজা হলেও আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে আইনগত কোনো বাধা না থাকে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণার দিনকে (আগামী ৮ ফেব্রয়ারি) ফয়সালার দিন উল্লেখ করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ওইদিন বিএনপির চেয়ারপারসনের গায়ে যদি ফুলের আঁচড়ও পড়ে বাংলাদেশের মানুষ গর্জে উঠবে।

আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, যদি সুবিচার হয় তাহলে এই মামলায় খালেদা জিয়া বেকসুর খালাস পাবেন। রাজনৈতিকভাবে সাজা দেয়া হলে রাজনৈতিকভাবেই সেটি মোকাবেলা করা হবে। খালেদা জিয়ার মামলার রায় দ্রুততার সঙ্গে করানো হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, নজিরবিহীন তাড়াহুড়ার মধ্যে দ্রুততার সঙ্গে এই মামলা শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে। দেশনেত্রীর আইনজীবীরা পরিস্কার করে বলেছেন যে, জাস্টিস হারিড ইজ জাস্টিস বারিড।

এদিকে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্ক অবস্থানে থাকার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। রায়ের দিনের আগে-পরে রাজপথে নেতাকর্মীদের অবস্থান রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যে কোনো ধরনের সহিংসতা হলে প্রতিহত করার কথাও জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। রায় ঘিরে কোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশও। এরই মধ্যে এ ব্যাপারে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সতর্ক করা হয়েছে। শুরু হয়েছে ধরপাকড়ও।

৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টন ভিত্তিক নিউ ইংল্যান্ড বিএনপি’র নেতারা বলেছেন, অন্যায়ভাবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো রায় হলে প্রবাসীরা তা মানবে না। প্রয়োজনে সুদূর প্রবাস থেকেও সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে।
 

সর্বশেষ সংবাদ