সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, সকাল ০৮:১০

ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নও ফাঁস!

Published : 2018-02-05 15:18:00, Updated : 2018-02-05 19:01:58

অনলাইন ডেস্ক : এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের মতো এবার ইংরেজি প্রথম পত্রের প্রশ্নও ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা শুরুর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে সকাল ৮টা ৪ মিনিটে ইংরোজি প্রথম পত্রের ‘ক’ সেটের প্রশ্ন হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রুপে পাওয়া যায়। যার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া গেছে।

সোমবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষাটি শুরু হয়। শেষ হয় দুপুর ১টায়। রোববার (০৪ ফেব্রারুয়ারি) রাত থেকে ফেসবুক, হোয়াসটঅ্যাপ, ইমোসহ বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে নজর রাখার পর সকাল ৮টা ০৪ মিনিটে ইংরেজি প্রথম পত্রের ক সেটের প্রশ্নপত্রটি হোয়াটসঅ্যাপের ‘English 1st part 2018’ নামের একটি গ্রুপে পাওয়া যায়। এরপর ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নটি ছড়িয়ে যায়। পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া প্রশ্নের সঙ্গে ওই প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়।

তবে রোববার রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে প্রশ্ন দেওয়ার দাবি করছে একটি ফেসবুক আইডি।

ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকার বলেন, ইংরেজি প্রথম পত্র প্রশ্নও ফাঁস হয়েছে আপনার কাছ থেকেই প্রথম জানলাম। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়সহ আমরাও তদারকিতে আছি।

এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্ন একই কায়দায় ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া যায়। বাংলা প্রথম পত্রের বহুনির্বাচনি অভীক্ষার ‘খ’ সেট প্রশ্নপত্র পরীক্ষার প্রশ্ন ও ফেসবুকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নের হুবহু মিল ছিল।  পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগেই তা ফেসবুকে পাওয়া যায়।

এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে পরীক্ষা শুরুর আগে প্রায় ঘণ্টা খানেক আগে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের নৈর্ব্যক্তিক (বহুনির্বাচনি) অভীক্ষার ‘খ’ সেটের উত্তরসহ প্রশ্নপত্র পাওয়া যায় ফেসবুকে। যার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল যায়।

এদিকে প্রশ্নফাঁস ভয়ঙ্কর রূপ নেয়ায় দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্ট নাগরিকরা বলছেন, সরকারের এত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকতে প্রশ্ন ফাঁসকারীদের চিহ্নিত ও ফাঁসের উৎস বের করতে না পারা হতাশাজনক। দিনের পর দিন প্রশ্নফাঁসের কারণে পাবলিক পরীক্ষার ওপর থেকে জনগণের আস্থা উঠে গেছে। এভাবে কোনো দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থা চলতে পারে না। সরকারকে এবার কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় তালগোল পাকানো, দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্রের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতার দায়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগ করা উচিত। তিনি পদত্যাগ না করলে সরকারের উচিত তাকে বরখাস্ত করা।