বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ০১:০৮

সত্যেন্দ্রনাথ বসুর প্রয়াণ

Published : 2018-02-04 17:20:00
পদার্থবিজ্ঞানী, কোয়ান্টাম স্ট্যাটিসটিকসের উদ্ভাবক, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার পথিকৃত্ সত্যেন্দ্রনাথ বসুর জন্ম ১৮৯৪ সালের ১ জানুয়ারি। ভারতের নবপ্রতিষ্ঠিত কলকাতা বিজ্ঞান কলেজে সত্যেন্দ্রনাথ বসু ১৯১৫ সাল থেকে ড. মেঘনাদ সাহার সাহচর্যে মিশ্র গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে গবেষণায় মনোনিবেশ করেন।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের রিডার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি এখানে ২৪ বছর একনিষ্ঠভাবে গবেষণাকর্ম সম্পাদন করেন।

১৯২৪ সালে তাঁর ‘প্ল্যাঙ্কস ল অ্যান্ড দি লাইট কোয়ান্টাম হাইপথেসিস’ শীর্ষক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়, যেটি বিজ্ঞানী আইনস্টাইন পাঠ করে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হন। আইনস্টাইন সত্যেন্দ্রনাথের এই প্রবন্ধটি জার্মান ভাষায় অনুবাদ ও ব্যাখ্যাসহ বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নামানুসারে পরমাণুর এক ধরনের কণিকার নাম রাখা হয়েছে ‘বোসন কণা’। আপেক্ষিক তত্ত্বের কতকগুলো জটিল গাণিতিক সমীকরণের পূর্ণ সমাধান করে বিজ্ঞানের ইতিহাসে তিনি আরও একটি কীর্তি স্থাপন করেন। অধ্যাপক বসু ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের পদার্থবিজ্ঞান শাখার সভাপতি এবং মূল সভাপতি নির্বাচিত হন।

তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ইমেরিটাস প্রফেসর পদে নির্বাচিত হন। ভারত সরকার তাঁকে জাতীয় অধ্যাপক নিযুক্ত করে।

বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন। তিনি কিছুকাল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসভার মনোনীত সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার ব্যাপারে অধ্যাপক বসু অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

এ লক্ষ্যে তিনি কলকাতায় ‘বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এ পরিষদের মুখপত্ররূপে মাসিক জ্ঞান ও বিজ্ঞান প্রকাশ করেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই বিজ্ঞানীকে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘দেশিকোত্তম’ এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করে।

১৯৭৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সত্যেন্দ্রনাথ বসুর প্রয়াণ ঘটে।