রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ০২:৫২

কোন দিকে যাচ্ছে দেশের নির্বাচনী রাজনীতি?

Published : 2018-02-04 10:15:00, Updated : 2018-02-04 17:53:32

অনলাইন ডেস্ক : ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়ার অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। সরকারের পক্ষ থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কাও করা হচ্ছে। অন্যদিকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি। এ রায়কে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন এ রায় কে কেন্দ্র করে ঝিমিয়ে পড়া বিএনপি আবার চাঙ্গা হচ্ছে। নিতে বড় রকমের ফয়দা। খালেদা জিয়ার মামলার রায় কী হবে সেটা বলে দেবে রাজনীতির গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যাবে। রায় যদি বিএনপির পক্ষে যায় তাহলে এক ধরনের, আর বিপক্ষে গেলে অন্য ধরনের কর্মকাণ্ড আসবে। এদিকে এ রায় কেন্দ্র করে বিএনপির এতাধিক নেতা ও কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আতঙ্কে আছেন অনেকে।নির্বাচনকালীর সকালের ফমূলা দিয়েছেন শেখ হাসিনা।খালেদা জিয়া তা মানতে নারাজ। তিনি দিয়েছেন ৬ শর্ত।

বিএনপির দাবি অগ্রাহ্য করে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনাই থাকবেন। জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে। দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের কট্টর অবস্থানে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে এটা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। আবারও কি জ্বালাও-পোড়াও পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটবে, নাকি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে সাধারণ নির্বাচন-এ নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। সোমবার সিলেট সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার এ সফর ঘিরে জেলা বিএনপিতে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল থেকে সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজ অবস্থান জানান দিতে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

৩ ফেব্রুয়ারি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ছয় শর্তে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি শর্তগুলো তুলে ধরেন।

শর্তগুলো হলো-ভোট হতে হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, জনগণকে ভোটকেন্দ্রে আসার মতো পরিবেশ তৈরি করতে হবে, ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে, ভোটের সময় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে, সেনাবাহিনী মোবাইল ফোর্স হিসেবে কাজ করবে এবং যন্ত্রে ভোটের জন্য ইভিএম/ডিভিএম ব্যবহার করা যাবে না। সভায় ছয় শর্ত তুলে ধরার পর খালেদা জিয়া নির্বাহী কমিটির সদস্যদের কাছে জানতে চান তারা এর সঙ্গে একমত কি না। এ সময় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উচ্চ স্বরে জানান, তারা একমত। উদ্বোধনী বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তন হতে হবে নির্বাচনের মাধ্যমে। আমি যেখানেই থাকি না কেন আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাভ  নেই। দলের নেতাকর্মী ও এ দেশের মানুষের সঙ্গে আছি।  এ সময় দলের নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ-প্রতিবাদ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই দল ঘোষণার কাজ শুরু করেছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। দলকে প্রস্তুত করতে শনিবার থেকেই দলটির ১৫টি সাংগঠনিক টিম দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় গেছে।৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী সফর শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সিলেটের হজরত শাহজালাল (রাঃ) মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়। এরপর তিনি নির্বাচনী বক্তব্য রাখেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে জানিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নৌকা স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। নৌকা উন্নয়নের পথ দেখায়। আগামী ডিসেম্বরে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, আপনাদের কাছে আমরা সেই নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। আপনারা হাত তুলে ওয়াদা করুন, নৌকায় ভোট দেবেন। এর আগে ৩১ জানুয়ারি নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি কোনোদিনই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার পক্ষে ছিল না। তারা (বিএনপি) অসাংবিধানিকভাবে সহায়ক সরকারের দাবি করে আসছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের সরকার গণতন্ত্রকে সবসময় সমুন্নত রাখবে। সে জন্য সংবিধান পরিপন্থী কোনো সরকারব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করব না। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন হচ্ছে সংবিধান। সংবিধান অনুযায়ী সহায়ক সরকার বলে কোনো সরকার গঠন করার বিধান  নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনকালীন সরকারের কথা বলেছিলাম। তার মানে, সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করবে, সরকারের পরিসর ছোট করা হবে। সরকার নির্বাচনকালীন শুধু রুটিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে, কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে না।

খালেদা জিয়ার রায় প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এ রায়কে ঘিরে  কেউ বিশৃঙ্খলা বা ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেছন, ধমক দিয়ে কোনো লাভ হবে না। খালেদা জিয়ার ওপর  কোনো অন্যায় অবিচার হলে জনগণ তার জবাব দেবে।

বিএনপির দাবি করছে এ রায় আগে থেকেই প্রস্তুত করা। পাল্টা যুক্তি দিয়ে সরকারি দল থেকে বলা হচ্ছে, রায় কী হবে সেটা বিএনপি আগে থেকে কীভাবে জানল?। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি  চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায় পূর্বনির্ধারিত। সরকার আগে থেকেই এই রায় লিখে  রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী যা চাইবেন, বিচারে তারই প্রতিফলন হবে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রায়ে আদালত খালেদা জিয়াকে সাজা দেবে, এ রকম নিশ্চয়তাই মির্জা ফখরুলকে কে দিলো?।