বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ০১:১৫

মিয়ানমারকে অস্ত্র সরবরাহ করছে উ. কোরিয়া

Published : 2018-02-03 17:31:00, Updated : 2018-02-03 17:43:37

অনলাইন ডেস্ক : রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ এবং জাতিসংঘের আরোপিত অবরোধ উপেক্ষা করে মিয়ানমারকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে উত্তর কোরিয়া। জাতিসংঘের স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের এ সংক্রান্ত একটি গোপনীয় প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়া থেকে সিরিয়ায় অস্ত্র সরবরাহেরও তথ্য পাওয়া গেছে।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর খুন, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়। এর ফলে প্রতিবেশি বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এই হামলাকে 'জাতিগত নিধনযজ্ঞ' বলে অভিহিত করেছে।

অপরদিকে পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত রাখতে বাধ্য করতে ২০০৬ সালে থেকে উত্তর কোরিয়ার ওপরে অব্যাহত অবরোধ আরোপ করে আসছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ওই পরিষদের অবরোধ কমিটির কাছে সম্প্রতি একটি গোপনীয় প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছেন জাতিসংঘের স্বাধীন পর্যবেক্ষকেরা। শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) ওই প্রতিবেদন দেখতে পাওয়ার দাবি করেছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকরা বলছেন চিহ্নিত করতে না পারা একটি দেশ তাদের জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে মিয়ানমারের ব্যালেস্টিক মিসাইল সিস্টেম সংগ্রহের প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। এছাড়া উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে প্রচলিত অস্ত্র ও ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য লকেট লাঞ্চার সংগ্রহ করেছে মিয়ানমার।

জাতিসংঘে মিয়ানমারের প্রতিনিধি হাউ দো সুয়ান রয়টার্সের কাছে দাবি করেছেন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয়ের কোনও কার্যক্রম চলমান নেই। এছাড়া উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অবরোধ প্রস্তাব মেনে চলারও দাবি করেন মিয়ানমারের দূত।

জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকরা বলছেন, তারা ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির তদারকি প্রতিষ্ঠান সায়েন্টিফিক স্টাডিস এন্ড রিসার্চ সেন্টারের কাছে উত্তর কোরিয়ার পাঠানো ৪০ টিরও বেশি চালান খতিয়ে দেখেছেন। তদন্তে তারা দেখেছেন জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ও অন্য অবরোধ ভঙ্গ করে ব্যালেস্টিক মিসাইল ও রাসায়নিক অস্ত্র তৈরির উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়া যাওয়ার পথে নাম উল্লেখ না করা কয়েকটি দেশ উত্তর কোরিয়ার এরকম দুইটি চালান আটকে দেয়। তদন্তকারীরা ওই চালান দুটির জাহাজ পরিদর্শন করেন। ওই জাহাজ দুটিতেই এসিড-প্রতিরোধক টাইলস ছিলো। জাহাজ দুটিতে থাকা এধরনের যে পরিমাণ টাইলস ছিলো তা দিয়ে বড় একটি শিল্প প্রকল্প নির্মাণ সম্ভব। চালান আটকে দেওয়া একটি দেশ পর্যবেক্ষকদের জানান, আটকে দেওয়া চালানের টাইলস দিয়ে রাসায়নিক কারখানার অভ্যন্তরীণ দেওয়াল নির্মাণ সম্ভব।

২০১৩ সালে নিজেদের রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসে সম্মত হয় সিরিয়া। তবে কূটনৈতিক ও অস্ত্র পরিদর্শকদের সন্দেহ সিরিয়া গোপনে রাসায়নিক অস্ত্র কারখানা চালু রেখেছে অথবা রাসায়নিক অস্ত্রের সামর্থ্য বাড়ানোর নতুন চেষ্টা করছে। জাতিসংঘে সিরিয়ার দূতাবাস এই প্রতিবেদন বিষয়ে রয়টার্সের করা মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।