সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, সকাল ০৮:০৬

যতীন্দ্রমোহন বাগচীর প্রয়াণ

Published : 2018-02-01 17:49:00
যতীন্দ্রমোহন বাগচীর জন্ম ১৮৭৮ সালের ২৭ নভেম্বর, ভারতের নদীয়া জেলার জামশেদপুরে।

তিনি ছিলেন রবীন্দ্রানুসারী কবিদের মধ্যে অন্যতম এবং বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতিমান কবি। পল্লীপ্রীতি ছিল তাঁর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। তাঁর কাব্যবস্তু নিসর্গ-সৌন্দর্যে চিত্ররূপময়। গ্রামবাংলার শ্যামল-স্নিগ্ধ রূপ, পল্লীজীবনের সুখ-দুঃখ, ভাগ্যহত ও নিপীড়িত নারীর প্রতি সমবেদনা তাঁর কবিতায় আন্তরিকতার সঙ্গে সহজ-সরল ভাষায় তাত্পর্যমণ্ডিতভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

ভারতের কলকাতার ডাফ কলেজ থেকে বিএ পাস করে যতীন্দ্রমোহন বাগচীর কর্মজীবন শুরু হয় বিচারপতি সারদাচরণ মিত্রের প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে। এরপর নাটোরের মহারাজের প্রাইভেট সেক্রেটারি ও জমিদারির সুপারিনটেনডেন্ট পদে এবং ওএফএন গুপ্ত কর কোম্পানিতে উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন।

যতীন্দ্রমোহন অল্প বয়স থেকেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ভারতী, সাহিত্য প্রভৃতি বিখ্যাত পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হলে তিনি কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। যতীন্দ্রমোহন বহু সাহিত্য পত্রিকায় গঠনমূলক অবদান রেখেছেন। তিনি মানসী পত্রিকার সম্পাদক ও যমুনা পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া পূর্বাচল পত্রিকার সম্পাদক ও স্বত্বাধিকারী ছিলেন।

যতীন্দ্রমোহন বাগচীর জনপ্রিয় কবিতার মধ্যে ‘কাজলা দিদি’ ও ‘অপরাজিতা’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-লেখা, রেখা, অপরাজিতা, নাগকেশর, বন্ধুর দান, জাগরণী, নীহারিকা, মহাভারতী, কাব্যমালঞ্চ, নাগকেশর, পাঞ্চজন্য, পথের সাথী প্রভৃতি। এ ছাড়া তিনি রচনা করেছেন উপন্যাস পথের সাথী এবং স্মৃতিচিত্র রবীন্দ্রনাথ ও যুগসাহিত্য।

১৯৪৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি যতীন্দ্রমোহন বাগচীর প্রয়াণ ঘটে।