শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৩:৩৮
৩০ জানুয়ারি ১৯৭২

জহির রায়হানের অন্তর্ধান

Published : 2018-01-30 18:26:00
কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হানের অন্তর্ধান দিবস আজ। ১৯৭২ সালের এই দিনে নিখোঁজ হওয়ার পর আর তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি। তাঁকে কারা কেন নিখোঁজ বা হত্যা করেছে, এ নিয়ে বিতর্ক আছে। জহির রায়হানের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট ফেনীতে।

বাল্যকাল ও কৈশোরে কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউট ও আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষাগ্রহণ করেন। দেশ বিভাগের পর ১৯৪৭-এ দেশে ফেরেন। স্থানীয় আমিরাদ হাই স্কুল থেকে ১৯৫০ সালে ম্যাট্রিক এবং জগন্নাথ কলেজ থেকে ১৯৫৩ সালে আইএসসি পাস করেন। সাহিত্যের প্রতি বিশেষ ঝোঁকের কারণে বিজ্ঞান ছেড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন বাংলা বিভাগে। ’৫৮-তে বিএ অনার্স পাস করেন, সেই সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যান কমিউনিস্ট আন্দোলনে। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনে কারাবরণের পর ফটোগ্রাফি শিখতে চলে যান কলকাতায়।

চলচ্চিত্র জগতে সিরিয়াস হন ’৫৬-এর শেষদিকে। ’৬১-তে চিত্রনায়িকা সুমিতা দেবী ও ’৬৮-তে চিত্রনায়িকা সুচন্দার সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন। ’৬১-তে মুক্তি পায় তাঁর পরিচালিত প্রথম ছবি কখনো আসেনি। এরপর মুক্তি পায় সোনার কাজল, কাচের দেয়াল, বেহুলা, আনোয়ারা, সঙ্গম, জীবন থেকে নেয়া ইত্যাদি। ’৭১-এ ভারতে গিয়ে নির্মাণ করেন বাংলাদেশে পাকিস্তান বাহিনীর গণহত্যার প্রামাণ্য চলচ্চিত্র 'Stop Genocide'।

তাঁর উর্দু ছবি বাহানা তত্কালীন পাকিস্তানের প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি। ‘হাজার বছর ধরে’, ‘আরেক ফাল্গুন’, ‘বরফ গলা নদী’ তাঁর সাড়া জাগানো উপন্যাস। অনেক সরব ছোটগল্পও লিখেছেন তিনি।

উপন্যাসের জন্য ১৯৭২ সালে তিনি বাংলা একাডেমির মরণোত্তর পুরস্কারে ভূষিত হন।

স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে অগ্রজ শহীদুল্লা কায়সারকে খুঁজতে গিয়ে ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি মিরপুর থেকে তিনি নিখোঁজ হয়ে আর ফিরে আসেননি।