শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৩:৫৩

অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের প্রয়াণ 

২৯ জানুয়ারি ১৯৭৬

Published : 2018-01-29 16:32:00
কবি, ঔপন্যাসিক ও সম্পাদক অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের জন্ম ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯০৩। রবীন্দ্রনাথ ও শরত্চন্দ্রের পরে সাহিত্যজগতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘কল্লোল যুগের’ লেখকদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম।

পিতার কর্মস্থল নোয়াখালী শহরে তাঁর জন্ম হয়। তবে পরিবারের আদিনিবাস ছিল বর্তমান মাদারীপুর জেলায়।

তাঁর বাবা রাজকুমার সেনগুপ্ত নোয়াখালী আদালতের আইনজীবী ছিলেন। অচিন্ত্যকুমারের শৈশব, বাল্যজীবন ও প্রাথমিক শিক্ষা নোয়াখালীতেই সম্পন্ন হয়। বাবার মৃত্যুর পর তিনি ভারতের কলকাতায় অগ্রজ জিতেন্দ্রকুমার সেনগুপ্তের নিকট চলে যান এবং সাউথ সাবার্বান স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, সাউথ সাবার্বান কলেজ (বর্তমান আশুতোষ কলেজ) থেকে আইএ এবং ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সসহ বিএ পাস করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে এমএ ও পরবর্তী সময়ে বিএল ডিগ্রি লাভ করেন।

অচিন্ত্যকুমার কল্লোল পত্রিকা প্রকাশনার দায়িত্ব নেন। তিনি বিচিত্রায়ও কিছুদিন কাজ করেন। তিনি অস্থায়ী মুন্সেফ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ক্রমে সাব জজ, জেলা জজ ও ল কমিশনের স্পেশাল অফিসার পদে উন্নীত হয়ে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

প্রবাসী পত্রিকায় নীহারিকা দেবী ছদ্মনামে অচিন্ত্যকুমারের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। তিনি উপন্যাস ও ছোটগল্প রচনায় বিশেষ কৃতিত্ব দেখান। তিনি উপন্যাসের আঙ্গিকে আবেগপূর্ণ ভাষায় ধর্মগুরুদের জীবনীও (যেমন-পরমপুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণ চার খণ্ডে) লিখেছেন।

তাঁর প্রথম উপন্যাস বেদে; এটি আঙ্গিক, রচনাভঙ্গি ও বিষয়বিন্যাসে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি বিশিষ্ট উপন্যাস। তাঁর লেখায় আধুনিকতা অতি প্রবলভাবে ফুটে উঠেছে। ছোটগল্প শিল্পী হিসেবেও তিনি খ্যাত।

বিচার বিভাগে চাকরির বদৌলতে তিনি বাংলাদেশের নানা স্থানে ঘুরে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সংস্পর্শে আসেন; এসব অন্তরঙ্গ পরিচিতজনের জীবনের নানা কাহিনি অচিন্ত্যকুমার তাঁর ছোটগল্পগুলোতে নিপুণভাবে এঁকেছেন। টুটাফাটা তাঁর প্রথম ছোটগল্পের বই। তাঁর স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ কল্লোল যুগ পাঠক মহলে বেশ সাড়া জাগায়।

১৯৭৬ সালের ২৯ জানুয়ারি অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের প্রয়াণ ঘটে।