শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, সকাল ০৮:৪৫

আফ্রিকায় সামরিক ঘাঁটি করছে ভারত

Published : 2018-01-29 15:58:00, Updated : 2018-01-29 16:05:09

অনলাইন ডেস্ক : দেশের বাইরে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পথে নয়াদিল্লি। ভারত মহাসাগরের বুকে সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলসের সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেলেছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

'হর্ন অব আফ্রিকা' থেকে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার দক্ষিণে, অ্যাসাম্পশন আইল্যান্ডে ভারতীয় সামরিক পরিকাঠামো বাড়ানোর প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়ে দিল সেশেলসের ক্যাবিনেট। তার পরই নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় দু’দেশের মধ্যে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর সেশেলসের রাজধানী ভিক্টোরিয়ায় গিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। শনিবার (২৭ জানুয়ারি) চুক্তিপত্রে সই হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেশেলসের শাসক এবং বিরোধী, দুই দলই এই চুক্তিকে সমর্থন করছে। ফলে চুক্তিতে সেশেলস পার্লামেন্টের সিলমোহর পড়া সময়ের অপেক্ষা।

ভারত মহাসাগরে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে পূর্বে এবং পশ্চিমে অনেকগুলি দেশের সঙ্গেই যোগাযোগ বাড়াচ্ছে ভারত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অর্থাৎ ভারত মহাসাগরের পূর্বাংশে ভিয়েতনাম, ব্রুনেই এবং ফিলিপাইনে ভারতীয় নৌসেনার নিয়মিত উপস্থিতি রয়েছে। ভারত মহাসাগরের পশ্চিমাংশেও একই ভাবে সামরিক উপস্থিতি সুনিশ্চিত করতে সেশেলস এবং মরিশাসের সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে আলোচনা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি।

২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সেশেলস সফরের সময়েই সে দেশের সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেলেছিল ভারত সরকার। কিন্তু সে চুক্তি রূপায়ণের পথে বাধা তৈরি হয়। কারণ সেশেলসের পার্লামেন্টে চুক্তি রূপায়ণের প্রস্তাবটি আটকে যায়। সেই থেকে ঝুলেই ছিল চুক্তি। যে প্রেসিডেন্টের আমলে চুক্তি হয়েছিল, সেই জেমস মিশেল ২০১৬ সালে পদত্যাগ করেন এবং নতুন প্রেসিডেন্ট হন ড্যানি ফরে।

২০১৭ সালে ড্যানি ফরে জানিয়ে দেন, ভারত-স্যেশেলস চুক্তি আইনি ভাবে বৈধ নয়। তিনি বলেন, ভারতের তরফে ওই চুক্তির আইনি বৈধতা থাকলেও, সেশেলসের তরফে নেই, কারণ স্যেশেলসের পার্লামেন্ট ওই চুক্তিতে অনুমোদন দেয়নি। চুক্তিটি নিয়ে যে নতুন করে ভাবতে হবে, সে ইঙ্গিত স্পষ্ট করেই দেন ফরে।

এর পরেই ফের সক্রিয় হয় ভারত। পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর ২০১৭ সালের অক্টোবরে সেশেলসে যান। শুধু প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নয়, বিরোধী দলের সঙ্গেও তিনি বৈঠকে বসেন। কারণ সেশেলসের পার্লামেন্টে (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) প্রেসিডেন্টের দল সংখ্যালঘু। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যিনি মাত্র ১৯৩ ভোটে হেরে গিয়েছিলেন, সেই ভারতীয় বংশোদ্ভুত নেতা বেভেল রামকলাবনের দল স্যেশেলস ন্যাশনাল পার্টিই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ।

দু’পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ভারত-স্যেশেলস চুক্তিতে বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়। ড্যানি ফরে এবং বেভেল রামকলাবন, দু’জনেই চুক্তির শর্তাবলীকে সবুজ সঙ্কেত দেন। তার পর ২২ জানুয়ারি ক্যাবিনেট সিলমোহর দেয় চুক্তির প্রস্তাবে। ভারতের বিদেশ সচিব এস জয়শঙ্কর সেশেলসের রাজধানী ভিক্টোরিয়ায় গিয়ে ২৭ জানুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরে জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, সেশেলসের এক্সক্লুসিভ ইকনমিক জোন বা নিজস্ব অর্থনৈতিক জলসীমাকে সুরক্ষিত রাখতে এবং জলদস্যুদের দমন করতে ভারত ও সেশেলস যৌথ ভাবে কাজ করবে। ২০১৬ সালের মার্চেই সেশেলসে ভারত কোস্টাল সার্ভিল্যান্স রাডার সিস্টেম চালু করেছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে। সেশেলসের সামরিক দক্ষতা বৃদ্ধিতেও ভারত সক্রিয় বলে জয়শঙ্কর জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ড্যানি ফরে বলেছেন, "এই প্রকল্প সেশেলসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই দুই দেশের মধ্যে যে আত্মীয়তা এবং ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, এই চুক্তি তারই প্রমাণ। আমাদের উন্নয়নের আকাঙ্খা পূরণের জন্য ভারতকে সহযোগী হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত।"

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সেশেলসের জন্য নয়, এই চুক্তি ভারতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভারত মহাসাগরে  সামরিক উপস্থিতি দ্রুত বাড়াচ্ছে চীন। ভারতকে ঘিরে বিভিন্ন দেশে বন্দর এবং পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে তারা। ভারতও কয়েকটি পাল্টা পদক্ষেপ করেছে, দেশের বাইরে তথা ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন অংশে সামরিক উপস্থিতি ভারত বাড়িয়েছে।

কিন্তু কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হর্ন অব আফ্রিকায় চীন পুরোদস্তুর সামরিক ঘাঁটি তৈরি করে ফেলেছে ২০১৭ সালেই। এ খবর ভারতের জন্য খুব স্বস্তিদায়ক ছিল না। ভারত মহাসাগরের পশ্চিমাংশে বড়সড় সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা দিল্লির জন্য খুব জরুরি হয়ে পড়েছিল। অবশেষে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েই গেল সেই লক্ষ্যে। আফ্রিকায় গড়ে ওঠা চীনা ঘাঁটি জিবুতি থেকে ২৪৫৩ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত অ্যাসাম্পশন আইল্যান্ডে পুরোদস্তুর সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার ছাড়পত্র পেয়ে গেল ভারত। এই চুক্তি চীনের ওপর চাপ বাড়াবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: আনন্দবাজার

 

সর্বশেষ সংবাদ