বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ০১:১৯

সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনীর খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

Published : 2018-01-29 13:32:00, Updated : 2018-01-29 16:07:07
ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনীর খসড়া মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে। সোমবার (২৯ জানুয়ারি) মন্ত্রিসভা বৈঠকে উত্থাপের পর অনুমোদন দেয়া হয়।এ সংশোধনীর ফলে সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মেয়াদ ২৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হলো। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এর আগে তিন দফায় ৩৫ বছর বেড়েছে সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ। ২০০৪ সালে সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীতে নারী আসন ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ করা হয়। ২০০৯ সালে ৪৫ থেকে তা ৫০ করা হয়েছে।

আগামী বছরের জানুয়ারিতে শেষ হবে নারী আসনের ১০ বছর মেয়াদ। এবার ১৫ বছর মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় সরকার। এ লক্ষ্যে সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনীর খসড়া আজ মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হতে পারে।

সংবিধানের ৬৫ (৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, 'সংবিধান (চতুর্দশ সংশোধন) আইন, ২০০৪ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অব্যবহিত পরবর্তী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে শুরু করিয়া দশ বৎসর কাল অতিবাহিত হইবার অব্যবহিত পরবর্তীকালে সংসদ ভাংগিয়া না যাওয়া পর্যন্ত পঞ্চাশটি আসন কেবল মহিলা-সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে।' 

সংবিধান অনুযায়ী ৩৫০ জন সংসদ সদস্য নিয়ে দশম জাতীয় সংসদ গঠিত হয়। সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে ৩০০ জন এবং সংসদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

২০০৪ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন করে সংরক্ষিত নারী সদস্যের ৪৫টি আসন সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টনের ব্যবস্থা করা হয়। তখন এর মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয় পরবর্তী সংসদের অর্থাৎ, নবম সংসদের প্রথম বৈঠক থেকে দশ বছর।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি। সেই হিসেবে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের মেয়াদ আছে ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী সদস্যদের সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০-এ উত্তীর্ণ করা হলেও ওই সময় আর মেয়াদ বাড়ানো হয়নি।

এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের (আইসিটি) বিতর্কিত ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা বিলুপ্তির বিধান রেখে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়ায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ও ৬৬ ধারা বিলুপ্তির কথা বলা হয়েছে। মানহানিকর তথ্য পরিবেশনের জন্য খসড়া আইনে ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।