শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, সকাল ০৮:৪৪

বিক্ষোভের মুখে রাবি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

Published : 2018-01-28 14:37:00, Updated : 2018-01-28 16:27:43

অনলাইন ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান নাসিমা জামান পদত্যাগ করেছেন।রোববার (২৮ জানুয়ারি) শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন।১ ফ্রেব্রুয়ারি থেকে তার পদত্যাগপত্র কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে সকাল থেকে তার কক্ষ অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত পরীক্ষা না নেয়া, ফল প্রকাশে বিলম্বসহ সেশন জটের জন্য নাসিমা জামানের উদাসিনতাই দায়ী। তার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা। তাদের এ দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন, বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকও।

২০১৭ সালের ২ আগস্ট  সভাপতির কক্ষে বঙ্গবন্ধুর ছবি না টানানো ও দায়িত্বে অবহেলাসহ সাত অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নাসিমা জামানের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিভাগের ১১ জন শিক্ষক।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অনাস্থা জানানো শিক্ষকরা বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে অধ্যাপক নাসিমা জামানের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভাগ পরিচালনায় তাঁকে সার্বিক সহায়তা করে আসছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তিনি একাডেমিক কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করছেন। নিজের ইচ্ছা অন্য সকল শিক্ষকদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। একাডেমিক কমিটির সভায় কোরাম সংকটের আশঙ্কায় প্রচলিত নিয়ম ভঙ্গ করে ক্রমাগত জরুরি সভা ডাকছেন। তিনি (সভাপতি) নিজ বিভাগের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অন্য বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট অপপ্রাচার চালাচ্ছেন।’

অভিযোগে আরো বলা হয়, ‘বিভাগীয় সভাপতির ইঙ্গিতে বিভাগের আরেক শিক্ষক মোছা. রুখসানা বেগম শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের কাছে বিভাগের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর, কুরুচিপূর্ণ ও মর্যাদাহানিকর কথাবার্তা বলে বেড়াচ্ছেন। এর প্রেক্ষিতে বিভাগের ১৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ১১ জন বিধি মোতাবেক তলবি সভা আহ্বানের জন্য সভাপতি বরাবর আবেদন করলে তিনি সভা আহ্বান করেন। কিন্তু পরে সম্পূর্ণ বিনা কারণে সভা শুরুর কিছুক্ষণ পূর্বে তা স্থগিত করেন এবং উপ-উপাচার্যের মৌখিক নির্দেশনায় তা করেছেন বলে দাবি করেন। অথচ উপ-উপাচার্য এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেননি বলে দাবি করেন।

এ ছাড়া সংবিধান অনুযায়ী সরকারি অফিসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের নিয়ম থাকলেও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি তা করেন না বলে অভিযোগ করা হয়। শিক্ষকদের অভিযোগ, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি (সভাপতি) বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। বিভাগের সকল প্রকার কেনাকাটা একক সিদ্ধান্তে করেন। এ ছাড়া সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পরও তিনি বেশির ভাগ সময় কর্মস্থলে থাকেন না এবং বিধি মোতাবেক কাউকে দায়িত্বও দিয়ে যান না। ফলে বিভাগের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে চরম বিঘ্ন ঘটে। অভিযোগ আমলে নিয়ে বিভাগের শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ রাখতে উপাচার্যকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান শিক্ষকরা।

অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করা শিক্ষকরা হলেন- অধ্যাপক ড. মো. আমিনুর রহমান, ড. এস এম রাজী, ড. কফিল উদ্দিন আহমেদ, ড. মো. রুহুল আমিন, ড. এস এম এক্রাম উল্যাহ, সহযোগী অধ্যাপক ড. ফরহাত তাসনীম, মো. তারেক নূর, সহকারী অধ্যাপক মোসা. কামরুন নাহার, ড. এ কে এম মাহমুদুল হক, ড. মো. সুলতান মাহমুদ, এস এম মোখলেসুর রহমান।

এর আগে গত ৩১ জুলাই সোমবার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোছা. রুখসানা পারভীনের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে বিভাগের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ দেন ওই ১১ শিক্ষক। ওই দিন বিকেলে অভিযুক্ত মোছা. রুখসানা পারভীনও তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগের কিছু শিক্ষক ষড়যন্ত্র করছেন উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর পাল্টা অভিযোগ দেন। শিক্ষকদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নাসিমা জামান বলেন, ‘অনাস্থা জানিয়ে প্রশাসনকে দেওয়া অভিযোগ বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানি না। যে তলবি সভা আহ্বান করা হয়েছিল, তা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের আমি জানিয়েছিলাম। তাঁরা আমাকে মৌখিকভাবে সভা স্থগিত করতে বলেছিলেন, এ জন্য সভা স্থগিত করেছিলাম।

 

আরও খবর

সর্বশেষ সংবাদ