শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৩:৫২

‘রিয়াদের সঙ্গে মুশফিকের পার্টনারশিপটা বড় হলে জিততে পারতাম’

Published : 2018-01-28 08:54:00
ফাইল ফটো

অনলাইন ডেস্ক : আরেকটি স্বপ্নের সলিল সমাধি। সিরিজে দুর্দান্ত শুরুর পরও এমন পরাজয় মানাটা কঠিনই। হয়েছেও তাই। ম্যাচ শেষে মন খারাপ নিয়েই সংবাদ সম্মেলনে আসলেন অধিনায়ক। আরো একটি ফাইনাল আরেকটি হার। কিন্তু এভাবে দল হারবে সেটা ভাবতে পারেননি তিনি। শ্রীলঙ্কার কাছে যে এমন হার আশা করেননি ম্যাশ।

অন্যদিকে এমন হারের পর বিসিবি সভাপতি বলেছেন হাথুরুর পরিকল্পনার কাছেই হেরেছে বাংলাদেশ।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ফাইনালে শোচনীয় এ হারকে দু:খজনক অভিহিত করে বলেন, এভাবে হারা উচিৎ হয়নি। আমরা জিততে চেয়েছিলাম। জেতা উচিৎ ছিল। কিন্তু আমরা পারিনি। এভাবে হারাটা অবশ্যই দু:খজনক।

কী কারণে পরপর দুই ম্যাচে এমন শোচনীয় ব্যাটিং ব্যর্থতা? বেশি কী চাপ নিয়ে ফেলেছিলেন ব্যাটসম্যানরা? ব্যাটিং ব্যর্থতার আসল কী কারণ? মাশরাফি বললেন, বড় ম্যাচে চাপ তো একটু থাকেই। এটা তো এক বিষয়। আমার মনে হয় এই উইকেটে ব্যাটসম্যানদের যেভাবে খেলা উচিৎ সেভালো খেলেনি। হয়তো শট সিলেকশনে ভুল ছিল। আসলে কী ঘটেছিল তা ব্যাটসমানরাই ভালো বলতে পারবেন।

মাশরাফি যোগ করেন, প্রথম ১০ ওভারে রান করা কঠিন ছিল। ব্যাটসম্যানদের আরো ধৈর্য্য ধরা উচিৎ ছিল। রিয়াদের সঙ্গে মুশফিকের পার্টনারশিপটা বড় হলে আমরা জিততে পারতাম।

নট আউট পর্বে বারবার হার। বাংলাদেশ তবে কী দক্ষিণ আফ্রিকার মতো চোকার্স হয়ে গেল? এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক বলেন, দেখেন দক্ষিণ আফ্রিকা অনেক বড় দল। তারা সবসময় তিনের মধ্যে র‌্যাঙ্কিংয়ে থাকে। আমরা ওদের মতো বড় দল নই। আগে ওদের মতো বড় দল হই তখন তুলনা করা যাবে।

এদিকে ম্যাচে টেস্টের অধিনায়ক ইনজুরিতে পড়ে দুই সপ্তাহের জন্য চলে গেছেন মাঠের বাইরে। নিশ্চিতভাবে মিস করছেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট। এ অবস্থায় টেস্ট অধিনায়ক সাকিবের অনুপস্থিতি কঠিন করে তুলতে পারে সময়টা। দলের এমন বিপদের মুহূর্তে যদি বলা হয় টেস্টে ফিরতে, কী করবেন মাশরাফি? সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন শুনে খানিকটা অবাক হলেও ওয়ানডে অধিনায়ক ইতিবাচক জবাবই দিলেন।

ম্যাশ জানালেন, যদি টিমের প্রয়োজন হয়, অবশ্যই চেষ্টা করব। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ(সহ অধিনায়ক) আছে। আমার বিশ্বাস ও দলকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। আর সিনিয়র খেলোয়াড় যারা আছে, তাদের সহযোগিতা তো থাকবেই।

মাশরাফি যখন কথা বলছিলেন, তখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবে সহ-অধিনায়কেরই যখন অধিনায়ক হওয়ার কথা, মাশরাফি তাই মাহমুদুল্লাহকে অধিনায়ক ধরেই দলের ঢাল হলেন। কিছুপরেই আবার মাহমুদুল্লাহকেই প্রথম টেস্টের অধিনায়ক ঘোষণা করে বিসিবি।

তবে সাকিবের ছিটকে পড়াকে দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখেছেন ম্যাশ। বাস্তবতা বুঝেও আশা করছেন টেস্ট সিরিজ জিতেই দল আসল চেহারায় ফিরে আসবে।

প্রথমত এটাই চ্যালেঞ্জ (সাকিবের অনুপস্থিতি) দলের জন্য। যদি বলেন, এখান থেকে কীভাবে উঠে আসা যায়, ভাল খেলা যায়, বলবো টেস্ট সিরিজটা আমাদের জন্য খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ানডে সিরিজ হেরেছি এজন্য না, ওয়ানডের সঙ্গে টেস্টের একটা পার্থক্য থাকেই। টেস্ট সিরিজ জিতলে হয়ত টিমের পুরো চেহারাটাই অন্যরকম হয়ে যাবে। আমরা এখন টেস্টের দিকে তাকিয়ে আছি।

নড়াইল এক্সপ্রেস বলেন, সাকিব না থাকায় যে কেউই বলবে আমাদের জন্য অসুবিধার। কিন্তু ইনজুরির সঙ্গে কিছু করার নেই। এখন সাকিবের সুস্থ হওয়া পর্যন্ত যে কয়টা ম্যাচ আছে, খেলতে হবে।

উল্লেখ্য, এই স্বপ্নভঙ্গের যেন শেষ নেই! শিরোপা উঁচিয়ে ধরার স্বপ্নযাত্রায় বাংলাদেশ প্রথম নাম লেখায় ২০০৯ সালে। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার মারুফ-মুরালির ব্যাটে হয়েছিল স্বপ্নভঙ্গ। ২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে দ্বিতীয় সুযোগ, পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ম্যাচেও জুটেছে জিততে না পারার দুঃসহ স্মৃতি। ২০১৬ সালে টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে হওয়া এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের কাছে হার। এবার লঙ্কানদের বিপক্ষে ৭৯ রানের হার। ফাইনালে আর কত হার দেখতে হবে টাইগার সমর্থকদের তা সময়ই বলে দিবে।