বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ০১:১৫

প্রধান বিচারপতিকে অভিশংসন করার কথা ভাবছে কয়েকটি বিরোধী দল

Published : 2018-01-25 11:31:00

অনলাইন ডেস্ক : ভারতের প্রধান বিচারপতিকে অভিশংসন বা সংসদীয় পদ্ধতিতে বিচার করা যায় কী না, তা নিয়ে কয়েকটি বিরোধী দল চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। সিপিআইএম দল এ নিয়ে কয়েকটি বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে।

তবে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এখনও বিষয়টি নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে নি। এর আগে দেশের প্রধান বিচারপতিকে যেমন কখনও অপসরণের কথা কেউ চিন্তাও করে নি, তেমনই অন্য কোনও বিচারপতিকে ইমপিচও করা হয় নি ।

ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের চারজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সপ্তাহ দুয়েক আগে যেদিন সংবাদ সম্মেলন করে প্রধান বিচারপতির কর্মপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, সেটা যেমন ছিল একটা অভূতপূর্ব ঘটনা, তেমনই যদি প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অপসারণের প্রস্তাব আনা হয়, সেটিও হবে আরেকটি অভূতপূর্ব ঘটনা।

যদিও এখনও সিদ্ধান্ত হয় নি, তবে ভারতের কয়েকটি বিরোধী দল নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা শুরু করেছে যে প্রধান বিচারপতিকে ইমপিচ করা যায় কী না। এ নিয়ে মূলত উদ্যোগ নিয়েছে সিপিআইএম।

কেন প্রধান বিচারপতিকে ইমপিচ করার উদ্যোগ নিচ্ছেন তারা, জানতে চেয়েছিলাম সিপিআইএম-এর পলিটব্যুরো সদস্য মুহম্মদ সেলিমের কাছে, "যখন বরিষ্ঠতম চার বিচারপতি সংবাদ সম্মেলন করে বললেন যে বেঞ্চ গঠন করা নিয়ে একদেশদর্শীতা হচ্ছে, তখনও আমরা চাই নি বিষয়টা নিয়ে বেশী বিতর্ক হোক। কারণ বিচারালয়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন করা যায় না।"

"কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই তো প্রশ্ন উঠেছে, কোনও ব্যক্তির ব্যাপার নয় এটা। অনেক পূতিগন্ধ বেরচ্ছে এখান থেকে যেটা দূর করার দরকার আছে দেশের স্বার্থে এবং ন্যায়ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে," বলছিলেন মুহম্মদ সেলিম। সেলিম একথাও বলছিলেন যে ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব আনা হবেই, এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনও আসে নি। তারা বিভিন্ন দলের সঙ্গে এখনও আলাপ আলোচনা চালাচ্ছে।

প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস, বা সংখ্যার দিক থেকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দল তৃণমূল কংগ্রেস এখনও এ নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে নি। কিন্তু সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি জানিয়েছেন যে আলোচনা ফলপ্রসূ হলে আসন্ন বাজেট অধিবেশনেই ওই প্রস্তাব আনা যেতে পারে।

ভারতের কোনও বিচারককে অপসারণ করার বিষয়টি বেশ জটিল। বলছিলেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোক গাঙ্গুলি। তিনি বলেন, "ইমপিচমেন্টের জন্য সবথেকে প্রথমে যেটা দরকার তা হল প্রস্তাবের পক্ষে সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষর। সেটা স্পীকারের কাছে জমা পড়বে। তিনি সেই প্রস্তাব পাঠাবেন একটা কমিটির কাছে। এই কমিটিতে কারা থাকবেন, সেটা ঠিক করার ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির একটা ভূমিকা থাকে।"

"কিন্তু এখানে যেহেতু তাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনার কথা বলা হচ্ছে, তাই সেটা কী পদ্ধতিতে হবে, সেটা বলা কঠিন। আগে তো কখনও প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আসে নি। তিনি আরও জানান, "ওই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে স্পীকারের অনুমতি সাপেক্ষে সংসদের উভয় কক্ষে আলোচনা হবে, ভোট নেওয়া হবে। ভোটে প্রস্তাব পাশ হলে তবেই সেটা রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে, যিনি সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেবেন।"

তবে গাঙ্গুলি অবশ্য আরোও বলছিলেন, যে কারণে প্রধান বিচারপতির অপসরণের কথা চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে, তা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে তিনি নিজেও সন্দিহান। "তিনি যখন আইনজীবী ছিলেন, সেই সময়ের একটা সরকারি জমি নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তবে এটাও আবার সংবাদমাধ্যমে জানা যাচ্ছে যে তিনি নাকি ওই জমিটা শেষপর্যন্ত পান নি। আর দ্বিতীয় যে কারণটা বলা হচ্ছে, তাঁর প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে চারজন বিচারপতি চীফ জাস্টিসের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই কারণে ইমপিচ করা কঠিন বলেই আমার ব্যক্তিগত মতামত।"

এর আগে দুজন বিচারপতিকে পদ থেকে অপসারণ করার পদ্ধতি শুরু হলেও কাউকেই শেষ পর্যন্ত অভিশংসন করতে হয় নি। একজনের ক্ষেত্রে ওই প্রস্তাবটি পরাজিত হয়, আর অন্যজন, কলকাতা হাইকোর্টের এক তৎকালীন বিচারপতির ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব নিয়ে ভোটের আগেই নিজেই পদত্যাগ করেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা