মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৩:৫৫

বিক্ষোভকারীদের পিটুনি দিয়ে ভিসিকে উদ্ধার করল ছাত্রলীগ

Published : 2018-01-23 18:35:00, Updated : 2018-01-23 18:41:43
সংগৃহিত ছবি

অনলাইন প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিপীড়নবিরোধী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে অবরোধ করে রাখা উপাচার্য আখতারুজ্জামানের সহায়তায় এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেছেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা।

উপাচার্যকে উদ্ধারে এসে এক দফায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তাদের হাতাহাতি হয়। পরে রড নিয়ে এসে পিটুনি দেয়া হয় অন্তত তিন জনকে।

মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) বেলা সোয়া ১২টা থেকে বিকাল সোয়া তিনটা পর্যন্ত উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তাকে অবরোধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। আর ঘণ্টা তিনেক পর সেখানে আসে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

গত ১৫ জুলাই সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে কর্মসূচিতে ছাত্রলীগের চড়াও হওয়া এবং সেদিন মেয়েদের প্রতি কটূক্তি ও ‘যৌন হয়রানি’র ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বহিষ্কার দাবি করে আসছিল বিক্ষোভকারীরা।

নিপীড়নবিরোধী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই আন্দোলনে মূলত বামপন্থী বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেয় এই কর্মসূচিতে।

আজকের এই কর্মসূচিতে ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মো ফয়েজ, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি তুহিন কান্তি দাশ, বাম নেত্রী উম্মে হাবিবা বেনজীর এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কয়েকজন নেতা নেতৃত্ব দেন।

তারা উপাচার্যকে তার কক্ষের বাইরে এসে তাদের সঙ্গে কথা বলার দাবি জানচ্ছিল। কিন্তু উপাচার্য তার পক্ষের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন।

১১টার দিকে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জড়ো হয় শ দুয়েক শিক্ষার্থী। পরে তারা উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে যায়। কিন্তু কার্যালয়ের কর্মীরা ভেতর থেকে লোহার ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা ফটকে ধাক্কা দিতে থাকে। এক পর্যায়ে সেটি ভেঙে যায়। এরপর ভেতরে ঢুকে কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা।

সিনেট ভবনে অ্যাকাডেমিক মিটিংয়ে যোগ দিতে উপাচার্য বেলা তিনটা ১০ মিনিটে বের হন তার কক্ষ থেকে। এরপর তাকে, প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী এবং শিক্ষক সমিতির নেতাদেরকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভকারীরা। তারা ‘যৌন নিপীড়নে’ জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদেরকে তখনি বহিষ্কারের দাবি জানাতে থাকেন।

এ সময় হ্যান্ডমাইকে একজন বলতে থাকেন, ‘আপনাকে এই মুহূর্তে ছাত্রলীগের কর্মীদেরকে বহিষ্কার করতে এবং প্রক্টরকে পদত্যাগ করাতে হবে। অন্যথায় আমরা আপনাকে ছাড়ব না। কোনো অ্যাকাডেমিক মিটিং হবে না।’

উপাচার্য এ সময় বলেন, ‘তদন্ত কমিটি হয়েছে, এর প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু এর জন্য সময় লাগবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩ এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী তাদের বিচার হবে। সময়ের প্রয়োজন। আমাদেরকে আইন অনুসারে সব করতে হবে।’

এ সময় বিক্ষোভকারীরা সমস্বরে সবাই না বলে চিৎকার করেন বলেন, ‘আইনের অযুহাত মানব না। যা করার এখনই করতে হবে।’

প্রায় আধা ঘণ্টা উপাচার্য এভাবেই আটকা পড়েন বিক্ষোভকারীদের মাঝখানে।

এই পরিস্থিতিতে দৃশ্যপটে আসে ছাত্রলীগ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আবিদ আল হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সের নেতৃত্বে কয়েকশ নেতা-কর্মী উপাচার্যকে বিক্ষোভকারীদের কবল থেকে উদ্ধার করে তার কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হাতাহাতি হয়। তারা বিক্ষোভকারীদের হ্যান্ডমাইক আছড়ে ফেলে ভেঙে ফেলেন।

এরপর উপাচার্যের কক্ষের এক পাশে ছাত্রলীগ এবং অপরপাশে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নিয় স্লোগান দিতে থাকে। এর মধ্যে ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক জাকির কিছু নেতা-কর্মী নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে তারা আবার ফিরে আসেন।

বেলা চারটার দিকে ছাত্রলীগের ১০ থকে ১৫ জন কর্মী রড হাতে উপস্থিত হয় ঘটনাস্থলে। তারা উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করে রাখা শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়। এতে দুইজন মেয়ে এবং একজন ছেলে আহত হয়।

কিছুক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে আসা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের একটি বড় মিছিল ঘটনাস্থলে আসে। এই মিছিলেরও নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক জাকির।

উপাচার্য কার্যালয়ের দুই দিকের দুই গেটে অবস্থান নেয় দুই পক্ষ। ছাত্রলীগের মিছিলে আছে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। আর বিক্ষোভকারীদের পক্ষে আছেন শ দেড়েক।

বেলা সাড়ে চারটার দিকে বিক্ষোভকারীদেরকে তাড়া দিয়ে পেটানো শুরু করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ সময় বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ জায়গায় যেতে ছুটতে থাকে।