শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, রাত ০৪:৪২

আপনার দিন শেষ: প্রধানমন্ত্রীকে রিজভী

Published : 2018-01-23 15:17:00
সংগৃহিত ছবি

অনলাইন প্রতিবেদক : আপনার দিন শেষ। আপনার বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। এই ঘণ্টা আপনার জন্য বাজছে। এটা বিদায় ঘন্টা। আপনাকে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতেই হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে এসব মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আরাফাত রহমান কোকো স্পোর্টিং ক্লাব আয়োজিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর তৃতীয় মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

এদেশের মানুষ দেশকে ভালোবাসে উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এই দেশপ্রেমিক মানুষ শেখ হাসিনার বর্বরতা আর মানবে না। তিনি যে বেড়াজাল তৈরি করবেন তা ছিন্ন করবেই। অনেক রক্ত নিয়েছেন, অনেক লাশ নিয়েছেন। অনেক লুটপাট করেছেন। জনগণের অর্থ তছরুফ করেছেন। মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করে নিজের কথাকে জোর করে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। আর বিরোধী দলের কথাকে অবদমিত করার চেষ্টা করছেন। এটা আর হবে না।
 
রিজভী বলেন, ডিএনসিসি নির্বাচন বন্ধ করে দেয়া হল। কেনো করে দেয়া হল। কারণ সরকার দেখেছে এখানে যদি যেকোন ভাবেই নির্বাচন হয় এবং জনগণ যদি ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে তাহলে তারা জিতবে না। এবং সেই কারণেই তাদের আজ্ঞাবহ এবং তাদের বাড়ির লোক একেবারে উঠানের লোককে বৈঠকখানায় বসালো প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে;  যিনি প্রধানমন্ত্রীর বাহিরে এক পা যাবেন না। তিনি চাকরি জীবন থেকে তার দৃষ্টান্ত রেখে এসেছেন। তিনি তো ফাঁকফোকড় রাখবেন, এটাই স্বাভাবিক। এটার উপর যেকোন ভুক্তভোগী মানুষই রিট করলে উচ্চ আদালয়ের রায় তাদের পক্ষে যাবেই।
 
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা করা হয়েছে বা আজকে হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঠিকঠাক হয়ে যাবে। কারণ তারা তাদের পছন্দের লোককে সেখানে বসিয়ে দিবে। এখানে তো জনগণের ভোট দেয়ার জায়গা নেই।  তাদের যে পার্লামেন্ট, যে পার্লামেন্টে একই ধরনের আওয়াজ হয়, সঙ্গীত সেখান থেকে উচ্চারিত হয়, গাওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দেখবেন কোন রিটও হবে না। আমার যতটুকু মনে হয়। সবকিছুই সাজানো গোছানো আছে। সেটা তারা করতে পারবে।
 
ন্যায় বিচার ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে, মানুষের বিচার পাওয়ার অধিকার কারো নেই বলেও মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী।
 
তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা শেষ। খাতায় না লিখলেও পাস করে যাবে। প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে প্রচুর অর্থের বিনিময়ে। আজ সবই ফাঁস হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর পিএর শত শত কোটি টাকা, এটা কি প্রশ্ন ফাঁসের টাকা। পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেয়ার টাকা!
 
‘অর্থমন্ত্রী বলেছেন, পার্লামেন্টে যারা নাই তাদের অংশগ্রহণ থাকবে না। তাহলে কারা থাকবে? পার্লামেন্টে যারা আছে তারা তো ভোটারবিহীন। তারপরও তিনি গর্ব করে কথা বলেন। চোরের মায়ের বড় গলা। চৌর্যবৃত্তির এমন পর্যায়ে গেছে তারা কিছু মনে করে না। জনগণকে তারা তালাক দিয়েছেন।’
 
বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার আগামী নির্বাচন নিয়ে দূরভিসন্ধি, মান্টারপ্ল্যান করছেন। আরেকটা ভোটারবিহীন নির্বাচন করবেন। তারা  লুটপাটের জন্য আবারও ক্ষমতায় আসতে চায়।
 
রিজভী বলেন, তারা অনাচার অবিচার করছে একটাই উদ্দেশ্যে, তাদেরকে ফাঁকফোকড়ের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে হবে। এই সোনার হরিণ তারা খোয়াতে রাজি নয়। সোনার হরিণ কোনভাবেই হাতছাড়া করতে রাজি নয়। এটা করতে দিয়ে যত ধরনের খুনখারাপি গুম হত্যা রক্তগঙ্গা বইয়ে দিতে হয় তারা তা করবে। জনগণের এই প্রতিবাদের মুখেও সরকার মনে করছে আমি যদি গুম করি, আমি যদি দুর্নীতি করি, একের পর এক বিরোধী দলের তরুণ নেতাদের যদি লাশ ফেলে রাখি জনগণ ভয়ে চমকে যাবে, তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলবে না। প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের কথা বলবে না।  অবাধ ভোটের কথা বলবে না। এই কারণেই তারা সকল নীল নকশা করে যাচ্ছে। নীল নকশা অনুযায়ী অনেকদিন ধরেই কাজ করছে।
 
আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, কোকো শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার, তিনি তার আক্রোশের শিকার, বর্বরতার শিকার।
 
আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা আবিবুল বারী রায়হানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম, জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দলের সভাপতি কাজী শামীম তারেক প্রমুখ।

সর্বশেষ সংবাদ