শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, সকাল ১০:৪৬

বছর জুড়ে র্দুগন্ধময় বর্জ্য আর মল ময়লার পানিতে ডুবে থাকে মাওনা চৌরাস্তা

খরাতেও মহাসড়ক থেকে পানি সরে না, দুর্ভোগ চরমে

Published : 2018-01-20 17:18:00, Updated : 2018-01-20 17:26:25

অনলাইন ডেস্ক : ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ওড়াল সেতুর দুই পাশে গত দুই বছরেরও অধিক সময় ধরে মল ময়লা পানি ও দুর্গন্ধময় বর্জ্য জমে আছে। শিল্পাঞ্চলের এমন গুরুত্বপুর্ন পৌর শহরে দূর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়েই প্রতিদিন চলছে নিত্যদিনে কাজ চলে বাণিজ্যিক কার্যক্রম।

জমে থাকা পানি আর বর্জ্যরে কোন অভিভাবক নেই। দিন দিন ভারতে ময়লার স্তুপ। দায় স্বীকার করছে না কেউ। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি তাই এই নগরবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে প্রতিদিন। দুর্গন্ধযুক্ত আর মল ময়লার পানিতে চলতে চলতে অতিষ্ট স্থানীয় বাসিন্দা আর ব্যবসায়ীরা। আগামী বর্ষার আগেই উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে মানুষ পড়বে চরম দুর্ভোগে। 

ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, প্রায় দুই বছরে এই জমাটবাধা পানি নিয়ে আলোচনা বিভিন্ন দপ্তরের টেবিলে গড়িয়েছে বহুবার। সরকারি ও রাজনৈতিক পর্যায়ে এ শহরটির এই অংশ পরিচ্ছন্ন করার ইচ্ছা থাকলেও তা আলোর মুখ দেখছেনা বহুদিনেও। প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি বাড়ছে, সেই সাথে বাড়ছে ময়লা পানি ও বর্জ্যরে পরিমাণ।

জমে থাকা পানিতে প্রায়ই মানববর্জ্য ভাসতে দেখা যায়। বেপরোয়া গতিতে যাওয়া গাড়ির চাকার সংস্পর্শে পানি ছড়িয়ে পড়ে রাস্তার পাশে চলা পথচারীদের শরীরে। গাজীপুরের শ্রীপুরের অন্যতম ব্যস্ত এই শিল্প শহরের রাস্তাকেন্দ্রীক বিপনী কেন্দ্রগুলোতে নাক চেপে প্রবেশ করতে হয় ক্রেতাদের।

অভিযোগ আছে শহরের বহুতল বাড়ি গুলোর বর্জ্য অপসারণের পাইপ কোনো কোনো স্থানে সরাসরি আবদ্ধ ড্রেনে সংযুক্ত করা আছে। ফলে প্রতিনিয়ত মানববর্জ্য মিশে যাচ্ছে সড়কে জমে থাকা পানিতে। তা ছাড়া শহরে থাকা খাবার দোকানসহ অধিক পানি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বর্জ্য অপসারণের সুনির্দিষ্ট স্থান না থাকায় তা রাস্তার পাশে ফেলে। দূর্গন্ধযুক্ত পানির ছোঁয়ায় অনেকে চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগও করেন।

মাওনা চৌরাস্তা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে হোটেল,বিপনী কেন্দ্রগুলো তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাঁশ, কাঠ ও লোহার তৈরি মই স্থাপন করেছে। ক্রেতা ও পথচারীরা ময়লা পানি ও বর্জ্য এঁড়িয়ে মই ব্যবহার করে বিপনী কেন্দ্রে প্রবেশ করে। ব্যস্ততম সড়কে লাগাতার চলা যানবাহনের চাকায় ময়লা ও বর্জ্য মিশে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। শহরের ওড়াল সেতুর দুই পাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে একই চিত্র।

মাওনা চৌরাস্তা এলাকার মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী রুহুল আমীন জানান, গুরুত্বপূর্ণ শহরের বর্জ্য অব্যবস্থাপনার এমন চিত্র দেখে বিষ্মিত হই।  জনপ্রতিনিধিরা তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে শহর পরিচ্ছন্নতার কথা বলেন কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ দেখা যায় না। এমন অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ব্যবসা বাণিজ্য করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতারা অসন্তুষ্ট এমন পরিবেশ দেখে। আশপাশের শাতাধিক কলকারখানার শ্রমিকরা নিয়মিত এ শহরে চলাচল করে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে। শহরের এমন অপরিচ্ছন্নতার কারনে আমরা ব্যবসায়ীরা লজ্জা পাই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য জানান, ময়লা পানিতে পথচারী ও বিপনী কেন্দ্রের ক্রেতাদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয় নিয়মিত। বর্ষা আর খরায় একই পরিস্থিতি। কোনো উন্নতি নাই ময়লা সরাতে। তিনি জানান বিভিন্ন বাড়ির শৌচাগারের অপসারণ পাইপ অনেক স্থানে ড্রেনে সংযুক্ত করা আছে।

 

শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান বলেন, ওই সড়কে ড্রেন নির্মান করেছে সড়র ও জনপথ। তারা ড্রেন তৈরির সময় আরও যত্নশীল হলে এমনটা ঘটতো না। এ বিষয়টি সম্পূর্ণ তাদের দায়ীত্বের মধ্যে পরে। জলাবদ্ধতা সমাধানে আমিও সড়ক ও জনপথের দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তরে যোগাযোগ করবো। 

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী কেবিএম সাদ্দাম হোসেন বলেন, যদিও ড্রেনগুলো আমাদের তৈরি নয় তবু খুব শিগগিরই নাগরিক দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানের জন্য জলাবদ্ধতা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি দেলোয়ার হুসেন বলেন কিছুদিন আগে পুলিশের উদ্যোগে ড্রেনগুলো থেকে ময়লা অপসারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন প্রত্যেকের নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। কিছুদিনের মধ্যেই আঞ্চলিক সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হবে। সে সময় জলাবদ্ধতার বিষয়টি সমাধান করা হবে নিশ্চয়।