শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, সকাল ০৮:৪৭

হাওয়া ভবন চাই না, লুটপাটও চাই না

Published : 2018-01-20 13:43:00, Updated : 2018-01-20 13:46:55
সংগৃহিত ছবি

অনলাইন প্রতিবেদক : বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, এই সরকার গরিব মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কিছু করতে পারেনি। তাই এই সরকারের পরিবর্তন প্রয়োজন । তবে এই সরকার পরিবর্তন করে হাওয়া ভবনের সরকার আসলে গরিব মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। আমরা হাওয়া ভবনও চাই না। লুটপাটও চাই না।

শনিবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনের সামনে পল্টন হত্যাকাণ্ডের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

২০০১ সালে ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে সিপিবি আয়োজিত এক মহাসমাবেশে বোমা মেরে পাঁচজনকে হত্যা করা হয়। এসময় আহত হন শতাধিক মানুষ।

সেলিম আরও বলেন, দুইটা শব্দের প্রতি আমাদের দেশের শোষক শ্রেণি  চরমভাবে ক্ষিপ্ত। একটা হচ্ছে সমাজতন্ত্র ও সমাজবিপ্লব আর আরেকটা হচ্ছে বাম গণতান্ত্রিক বিকল্প। স্বৈরাচারের পতনের পর উদারবাদী ধারায় পুঁজিবাদী বাজার অর্থনীতিকে চিরস্থায়ী করার জন্যই এর বাধা সৃষ্টিকারী কমিউনিস্টদের ধ্বংস করে দেয়ার জন্যই পল্টন ময়দানে হামলা হয়েছিল। সেইসঙ্গে প্রগতিশীল শক্তিকে শেষ করে দেয়ার জন্য যশোরে উদীচী কার্যালয়ে হামলা করা হয়।

সিপিবি সভাপতি আরও বলেন, আমাদের শোষক শ্রেণি তাদের স্বার্থের জন্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই দুই দলের মধ্যেই রাজনীতিকে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়। এজন্যই  বাম গণতান্ত্রিক শক্তির  ওপর বারবার হামলা। আর সেইসময় পাড়ায়, মহল্লায়, গ্রামেগঞ্জে যখন কমিউনিস্ট পার্টির বিস্তৃতি ঘটেছিল ঠিক তখনই সেই শক্তিকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করে দেয়ার জন্য এই হামলা হয়েছিল।

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, শুধু হামলা করেই তারা ক্ষান্ত হয় নাই। দীর্ঘ ১৭ বছর পরেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয় নাই। মিথ্যাচার করে বলা শুরু করলো এই মামলা কোনো সাক্ষী আসে না। আমি নিজে তিনবার যাওয়ার পর সাক্ষ্য নেয়া হয়। আগের দুইবার আসামিদের উপস্থিত করতে না পারার কারণে আমাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। মাঝখানে  সরকার ফাইনাল রিপোর্ট দিয়ে পল্টন হত্যাকাণ্ডের বিচার ডিসমিস করে দিয়েছিল। কিন্তু আমরা প্রতিবাদ করায় এটাকে আবার পুনুরজ্জীবিত করা হয়েছে। কিন্তু মাসের পর মাস যায়,বছরের পর বছর যায় এখনো আমরা সেই মামলার রায় আমরা পাইনি।

সেলিম আরও বলেন, পল্টনে যারা শহীদ হয়েছে তারা সমাজ বদলের জন্যই পতাকা হাতে নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। তাই চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এর আগে পল্টন হত্যাকাণ্ড দিবস উপলক্ষে মুক্তিভবনের অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

সর্বশেষ সংবাদ