বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ১২:৫৮

রামনারায়ণ তর্করত্নের প্রয়াণ

Published : 2018-01-19 18:18:00
নাট্যকার রামনারায়ণ তর্করত্নের জন্ম ১৮২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর, পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার হরিনাভি গ্রামে। শৈশবে মাতৃপিতৃহীন হলে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতৃজায়া কর্তৃক সন্তান-স্নেহে লালিত-পালিত হন। গ্রামের চতুষ্পাষ্ঠীতে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা শুরু হয়।পরে কলকাতা হিন্দু গভর্নমেন্ট সংস্কৃত কলেজে অধ্যয়ন করেন।

শিক্ষাজীবন শেষে তিনি কলকাতা হিন্দু-মেট্রোপলিটন কলেজের প্রধান পণ্ডিতের পদে নিযুক্তি লাভ করেন। এরপর কলকাতা হিন্দু গভর্নমেন্ট সংস্কৃত কলেজে যোগদান করেন। এ কলেজে সাতাশ বছর অধ্যাপনা করার পর ১৮৮২ সালে অবসর নেন।

এরপর আমৃত্যু নিজ গ্রাম হরিনাভিতে কাটিয়ে দেন। এখানে একটি চতুষ্পাঠী স্থাপন করে ছাত্রদের সংস্কৃত বিষয়ে শিক্ষাদান করেন। নাটক রচনায় তিনি প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিধিবদ্ধ পূর্ণাঙ্গ নাটক রচনার কৃতিত্ব তাঁর।

বাঙালির প্রত্যক্ষ ও বাস্তব জীবনাশ্রিত নাটকের প্রথম স্রষ্টা হিসেবে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। কুলীন কুলসর্বস্ব তাঁর সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় ও সার্থক নাটক। এতে কুলীনদের বহুবিবাহ প্রথার হূদয়হীনতার চিত্র হাস্যরসের মধ্য দিয়ে উপস্থাপিত হয়। এ নাটক রচনার জন্য তিনি রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরীর কাছ থেকে পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।

বেলগাছিয়া রঙ্গমঞ্চে অভিনয়ের জন্য তাঁকে দিয়ে লেখানো হয় রত্নাবলী নাটক। অপর সামাজিক নাটক নব-নাটক রচনার জন্য তিনি কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছ থেকে দুইশ’ টাকা পারিতোষিক পান। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির নাট্যশালায় এটি বহুবার অভিনীত হয়।

তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য নাটক হচ্ছে-বেণীসংহার, যেমন কর্ম তেমন ফল (প্রহসন ১৮৬৫), মালতীমাধব, উভয় সঙ্কট (প্রহসন, ১৮৬৯), চক্ষুদান (প্রহসন, ১৮৬৯), রুক্মিণী হরণ, স্বপ্নধন, ধর্মবিজয়, কংসবধ ইত্যাদি। এছাড়া ১৮৫৩ সালে পতিব্রতোপাখ্যান নামে তাঁর একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। নাটক রচনায় নৈপুণ্যের জন্য ‘দি বেঙ্গল ফিলহার্মোনিক আকাদেমি’ তাঁকে ‘কাব্যোপাধ্যায়’ উপাধিতে ভূষিত করে। তৎকালীন জনসাধারণ তাঁকে ‘নাটকে রামনারায়ণ’ নামে আখ্যায়িত করে।

রামনারায়ণ তর্করত্ন ১৮৮৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মারা যান।