সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, সকাল ০৮:০৮

শ্রীলঙ্কাকে বাংলাদেশের ৩২০ রানের চ্যালেঞ্জ

Published : 2018-01-19 16:41:00
অনলাইন ডেস্ক : তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের হাফ-সেঞ্চুরিতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলংকাকে জয়ের জন্য ৩২১ রানের টার্গেট দিলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩২০ রান করে বাংলাদেশ। তামিম ৮৪, সাকিব ৬৭ ও মুশফিকুর ৬২ রান করেন।

শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) টস ভাগ্যে জয় পান বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেন তিনি। অধিনায়কের সিদ্বান্তকে যথার্থ প্রমাণ করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও আনামুল হক বিজয়।

শ্রীলংকার বোলারদের বিপক্ষে মারমুখী মেজাজে ছিলেন বিজয়। তাই বিজয়ের ব্যাটে চড়েই রানের চাকা ঘুড়ছিলো বাংলাদেশের। অন্যপ্রান্তে ব্যাট হাতে খানিকটা মন্থর ছিলেন তামিম। মূলত বিজয়কে সঙ্গ দিতেই নিজেকে সংযত রেখেছিলেন তিনি। তাই রান তোলার গতি ধরে রেখে ১০ ওভারে বিনা উইকেটে দলের রান ৫০ রানে নিয়ে যান তামিম-বিজয়।

তবে দলীয় ৭১ রানে বিচ্ছিন্ন হতে হয় তামিম-বিজয়কে। ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৭ বলে ৩৫ রান তুলে শ্রীলংকার মিডিয়াম পেসার থিসারা পেরেরার শিকার হন বিজয়। এ জুটির কল্যাণেই বড় সংগ্রহের ভীত পেয়ে যায় বাংলাদেশ।

এরপর ক্রিজে তামিমের সঙ্গী হন সাকিব আল হাসান। দলকে ভালো অবস্থায় নিতে গিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪০তম ও শ্রীলংকার বিপক্ষে চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন তামিম। সেঞ্চুরির পথে এগোতে তিনি। কিন্তু আগের ম্যাচের স্কোরেই থেমে যেতে হয় তাকে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ৮৪ রানে অপরাজিত থাকলেও এবার ঐ স্কোরেই থেমে যেতে হয় তাকে। ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০২ বলে নিজের ইনিংস সাজান তামিম। 

সাকিবের সাথে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৮৬ বলে ৯৯ রান যোগ করেন তামিম। সেখানে তার অবদান ছিলো ৫০ বলে ৫৪ এবং সাকিবের সংগ্রহ ছিলো ৩৬ বলে ৪০ রান।

দলীয় ১৭০ রানে তামিমের বিদায়টা ক্ষতি করেনি বাংলাদেশকে। কারন সাকিব ও মুশফিকুর রহিম দলের স্কোর সচল রাখেন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৬তম ও শ্রীলংকার বিপক্ষে ষষ্ঠ হাফ-সেঞ্চুরি তুলেও নেন সাকিব। তবে ৬৭ রানে গিয়ে থামতে হয় সাকিবকে। ৭টি চারের সহায়তায় নিজের ৬৩ বলের ইনিংসটি সাজান তিনি।

সাকিবের বিদায়ের মাহমুুদুল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটেও হাফ-সেঞ্চুরির জুটি গড়েন মুশফিকুর। মাত্র ৪৪ বল মোকাবেলা করে ৫০ রান যোগ করেন তারা। ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৩ বলে ২৪ রান করে মাহমুদুল্লাহ ফিরে গেলেও, দলকে বড় স্কোরের পথেই রেখেছিলেন মুশফিকুর।

কিন্তু পেরেরার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ৬২ রানেই থেমে যান মুশফিক। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৮তম ও শ্রীলংকার বিপক্ষে দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি পাওয়া ইনিংসে ৫২ বল মোকাবেলায় ৪টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন মুশি।

মুশফিকুরের আউটের পর উইকেট গিয়ে দ্রুতই বিদায় নেন মাশরাফি ও নাসির হোসেন। ম্যাশ ৬ ও নাসির শূন্য হাতে ফিরেন। তবে শেষদিকে ১২ বলে ২৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩২০ রানে পৌঁছে দেন হার্ড-হিটার সাব্বির রহমান। এই নিয়ে দ্বাদশবারের মত তিনশ’ বা ততোধিক দলীয় রান সংগ্রহ করলো বাংলাদেশ। শ্রীলংকার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।

সাব্বিরের ছোট্ট ইনিংসে ৩টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। অার ৫ বলে ৬ রানে অপরাজিত ছিলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। শ্রীলংকার পেরেরা ৩টি ও ফার্নান্দো ২টি উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
 
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ৩২০/৭ (তামিম ৮৪, এনামুল ৩৫, সাকিব ৬৭, মুশফিক ৬২, মাহমুদউল্লাহ ২৪, সাব্বির ২৪*, মাশরাফি ৬, নাসির ০, সাইফ ৬*; লাকমল ০/৬০, প্রদিপ ২/৬৬, দনঞ্জয়া ১/৪০, থিসারা ৩/৬০, গুনারত্নে ১/৩৮, হাসারাঙ্গা ০/৫১)