মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৩:৫৪

আজিজুর রহমানের জন্ম

Published : 2018-01-18 19:10:00
কবি এবং গীতিকার আজিজুর রহমানের জন্ম ১৯১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি, কুষ্টিয়া জেলার হরিপুর গ্রামে। তিনি দৈনিক পয়গাম-এর সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ বেতারে চাকরিতে বহাল ছিলেন।

তাঁর রচিত জনপ্রিয় গানগুলো হচ্ছে ‘ভবের নাট্যশালায় মানুষ চেনা দায় রে’, ‘কারও মনে তুমি দিও না আঘাত’, ‘আকাশের ওই মিটি মিটি তারার সাথে, ‘এই পৃথিবীর পান্থশালায়’, ‘আমি রূপনগরের রাজকন্যা’, ‘বুঝি না মন যে দোলে বাঁশিরও সুরে’, ‘দেখ ভেবে তুই মন আপন চেয়ে পর ভালো’, ‘পলাশ ঢাকা কোকিল ডাকা আমারই দেশ ভাই রে’ ইত্যাদি।

আজিজুর রহমান প্রায় ৩০০-এর ওপরে কবিতা রচনা করেছেন। এর মধ্যে ‘নৈশনগরী’, ‘মহানগরী’, ‘সান্ধ্যশহর’, ‘ফেরিওয়ালা’, ‘ফুটপাত’, ‘তেরশ পঞ্চাশ’, ‘সোয়ারীঘাটের সন্ধ্যা’, ‘বুড়িগঙ্গার তীরে’, ‘পহেলা আষাঢ়’, ‘ঢাকাই রজনী’, ‘মোয়াজ্জিন’, ‘পরানপিয়া’ উল্লেখযোগ্য। কবিতা দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও গান রচনার মধ্যে তাঁর প্রতিভার পূর্ণ প্রকাশ ঘটে। তাঁর রচিত গান আজও অত্যন্ত জনপ্রিয়। রাজধানীর বুকে, হারানো দিন, আগন্তুক প্রভৃতি ছায়াছবিতে তিনি গান রচনা করেছেন।

এছাড়া ডাইনোসরের রাজ্যে, জীবজন্তুর কথা, আবহাওয়ার পয়লা কেতাব তাঁর উল্লেখযোগ্য অনুবাদগ্রন্থ। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থপঞ্জির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আজাদীর বীর সেনানী : কুমারখালীর কাজী মিয়াজান, পাঁচমিশালী গানের সঙ্কলন উপলক্ষের গান, দেশাত্মবোধক গানের সঙ্কলন এই মাটি এই মন, ছুটির দিনে।

আজিজুর রহমানকে গড়াই নদীর নৈসর্গিক সৌন্দর্য সবসময় মোহিত করে রাখত। উচ্চশিক্ষা লাভের ভাগ্য না থাকলেও প্রবল ইচ্ছা ও অনুসন্ধিত্সার ফলে বহু বিষয়ক পুস্তকাদি স্বগৃহে পাঠ করে তিনি একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তিতে পরিণত হন। অভিনয়েও তাঁর উত্সাহ ছিল। গড়ে তোলেন একটি নাট্যদল।

তাঁর পিতামহ চাঁদ প্রামানিকের নামে হরিপুর গ্রামে গড়ে তোলেন চাঁদ স্মৃতি পাঠাগার। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বইয়ের খোঁজে আসতেন এই পাঠাগারে।

১৯৭৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।