মঙ্গলবার ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৩:৫০

৬ মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের নির্দেশ

Published : 2018-01-17 12:07:00, Updated : 2018-01-17 17:35:59

অনলাইন ডেস্ক : আগামী ৬ মাসের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠানে সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (১৭ জানুয়ারি) বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে নির্দেশ পালনের আদেশ দেয়া হয়েছে। মামলার আইনজীবী মনজিল মোরসেদ গণমাধ্যমকে এ খবর জানান।

এর আগে ডাকসুর সাবেক ভিপি, জিএসসহ তিনজনের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে একই বিষয়ে আরেকটি রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার (১৯ মার্চ) এ রুল জারি করেন। রুলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

গত ২৬ বছরে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি হবে না- তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর, রেজিস্ট্রারসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো.মোখলেছুর রহমান।রিট আবেদনটি দায়ের করেন ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমাদ, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মোশতাক হোসাইন ও বর্তমান শিক্ষার্থী জাফরুল হাসান নাদিম।

প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৯০ সালের ৬ জুন। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালে তিন দফায় তফসিল ঘোষণা করলেও নির্বাচন হয়নি। ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধু হলে ছাত্রদল নেতা আরিফ হোসেন তাজ খুনের পর একটি তদন্ত কমিটি ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন দেয়ার সুপারিশ করলেও সেই ছয় মাস আসেনি ২০ বছরেও। ২০০৫ সালের মে মাসে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের তখনকার উপাচার্য এস এম এ ফায়েজ ওই বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

ওই ঘোষণার পর ছাত্র সংগঠনগুলো নড়েচড়ে বসে। ছাত্রদল ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে একাধিকবার মিছিল সমাবেশ এবং ভিসির কাছে স্মারকলিপিও দেয়। তবে বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলো এগিয়ে আসেনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক দায়িত্ব নেয়ার পরই নির্বাচন দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনিও ঘোষণা অনুযায়ী কাজ করতে ব্যর্থ হন।