বুধবার ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ০১:১৯

স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম

Published : 2018-01-12 20:03:00, Updated : 2018-01-12 20:14:08
দার্শনিক, লেখক ও সংগীতজ্ঞ স্বামী বিবেকানন্দের জন্ম ১৮৬৩ সালের ১২ জানুয়ারি, কলকাতার এক উচ্চবিত্ত হিন্দু বাঙালি পরিবারে। তিনি ছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংসের প্রধান শিষ্য। রামকৃষ্ণ দেবের কাছ থেকে তিনি শেখেন, সকল জীবই ঈশ্বরের প্রতিভূ; তাই মানুষের সেবা করলেই ঈশ্বরের সেবা করা হয়। 

তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে হিন্দুধর্ম তথা ভারতীয় বেদান্ত ও যোগ দর্শনের প্রচারে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। অনেকে বিভিন্ন ধর্মমতের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক স্থাপন এবং হিন্দুধর্মকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্ম হিসেবে প্রচার করার কৃতিত্ব বিবেকানন্দকে দিয়ে থাকেন। ভারতে হিন্দু পুনর্জাগরণে তিনি ছিলেন অন্যতম পুরোধা। সেই সঙ্গে ব্রিটিশ ভারতে তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ধারণাটি প্রবর্তন করেন। 

বিবেকানন্দ রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। ছেলেবেলা থেকেই আধ্যাত্মিকতার প্রতি তিনি আকৃষ্ট হতেন। রামকৃষ্ণের মৃত্যুর পর বিবেকানন্দ ভারতীয় উপমহাদেশ ভালোভাবে ঘুরে দেখেন এবং ব্রিটিশ ভারতের আর্থসামাজিক অবস্থা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জন করেন। 

পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ১৮৯৩ সালের বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় ভারত ও হিন্দুধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হল-শিকাগো বক্তৃতা, কর্মযোগ, রাজযোগ, জ্ঞানযোগ, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বেদান্ত, ভারতে বিবেকানন্দ, ভাববার কথা, পরিব্রাজক, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য, বর্তমান ভারত, বীরবাণী (কবিতা-সঙ্কলন), মদীয় আচার্যদেব। 

তাঁর রচিত দুটি বিখ্যাত গান হল ‘খণ্ডন-ভব-বন্ধন’ (শ্রীরামকৃষ্ণ আরাত্রিক ভজন) ও ‘নাহি সূর্য নাহি জ্যোতি’। এছাড়া ‘নাচুক তাহাতে শ্যামা’, ‘৪ঠা জুলাইয়ের প্রতি’, ‘সন্ন্যাসীর গীতি’ ও ‘সখার প্রতি’ তাঁর রচিত কয়েকটি বিখ্যাত কবিতা। ‘সখার প্রতি’ কবিতার অন্তিম দুটি চরণ ‘বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর?/জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’ বিবেকানন্দের সর্বাধিক উদ্ধৃত একটি উক্তি।

১৯০২ সালের ৪ জুলাই স্বামী বিবেকানন্দের প্রয়াণ ঘটে।