শনিবার ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, রাত ০২:১৫

ফেন্সি ডাক গার্ডেনে ব্ল্যাক সোয়ানের তিনটি ছানা ফুটেছে

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক

Published : 2018-01-11 17:41:00
খুঁনসুটিতে মত্ত ব্ল্যাক সোয়ানের ছানাগুলো মায়ের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ছবি : রেজাউল করিম সোহাগ পার্কের ফেন্সি ডাক গার্ডেন লেকে ঘুরছে বিভিন্ন রঙের হাঁসের পাল। লেকের পাড়েই বেষ্টুনিতে একটি কালো মা ব্ল্যাক সোয়ান মায়ের সঙ্গে (রাজ হাঁসের মতো দেখতে, কিন্তু আকারে রাজ হাঁসের চেয়ে ৮০% বড়) তার ৩টি ছানা খুনসুটিতে মত্ত রয়েছে। গাজীপুর শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের সম্প্রতি ৩টি বাচ্চার জন্ম দিয়েছে ব্ল্যাক সোয়ান দম্পত্বি। ব্ল্যাক সোয়ানের কুচকুচে কালো ছোট ছোট ছানা দেখে শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার দর্শনার্থী দারুন উল্লসিত। নতুন অতিথি সোয়ান ছানা পেয়ে পার্কে বইছে আনন্দ।

সরেজমিন সাফারি পার্কের ফেন্সি ডাক গার্ডেনে গিয়ে দেখা যায়, একটি ব্ল্যাক সোয়ান ৩টি বাচ্চা নিয়ে ঘুরছে। সম্প্রতি বাচ্চা তিনটির জন্ম হয় । 

ফেন্সি ডাক গার্ডেনের দায়িত্বে থাকা জুনিয়র ওয়াইল্ড স্কাউট ইন্দ্রজিত দত্ত জানান, ব্ল্যাক সোয়ান সবজি, ভুট্রা ও দানাদার খাদ্য খায়। মা সোয়ান সারা দিন এই বাচ্চগুলোকে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। পার্কের লেকের পাশে বেষ্টুনির মধ্যে ছোট লেক তৈরি করে এদের রাখা হয়েছে। 

সাফারি পার্ক সূত্রে জানা যায়, ব্ল্যাক সোয়ান অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণপূর্ব ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে দেখা যায়। এদের আদি নিবাস অস্ট্রেলিয়ায় হলেও এগুলো দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সাফারি পার্কের কিনে আনা হয়। 

সাফারি পার্কের ওয়াইল্ড লাইফ সুপারভাইজার আনিসুর রহমান জানান, ব্ল্যাক সোয়ান নিজেরাই গাছের পাতা বা খরকুটু সংগ্রহ করে বাসা তৈরী করে তার ওপর ডিম পাড়ে। এরা এক মৌসুমে ৮টি পর্যন্ত ডিম দেয়। এদের লেজ থেকে ঠোঁট পর্যন্ত দৈর্ঘ্য ৫৬ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়।একটি স্ত্রী ব্ল্যাক সোয়ান ৭ থেকে ৮কেজি এবং পুরুষ ব্ল্যাক সোয়ান ৯ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়ে থাকে। এদের উজ্জল চোখ, দীর্ঘ বাঁকানো গলা ও খুব উজ্জল লাল রঙের ঠোঁট থাকে।

সাফারি পার্কের ফেন্সি ডাক গার্ডেনে ব্ল্রাক সোয়ান ছাড়াও মাথায় টুপ ওয়ালা মেন্ডারিন ও কেরোলিনা জাতের হাঁস রয়েছে। পুরো লেক জুড়ে বিভিন্ন জাতের হাঁস সাঁতরে বেড়ায়। লেকের পারে এদের থাকার জন্য ও ডিম পাড়ার প্রাকৃতিক ব্যবস্থা আছে।

পার্কের সহকারী ভেটেরিনানি সার্জন ডা. নিজাম উদ্দীন চৌধুরী জানান,ব্ল্যাক সোয়ানের বাচ্চাগুলো নিদিষ্ট আকারে বড় হলেই ফেন্সি ডাক গার্ডেনের প্রধান লেকের পানিতে ছাড়া হবে। ব্ল্যাক সোয়ানের বাচ্চাগুলো এ মৌসুমে দর্শনার্থীদের ব্যতিক্রমি আনন্দ দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পার্কের অপর ওয়াইল্ড লাইফ সুপারভাইজার সরোয়ার হোসেন খান জানান, ব্ল্যাক সোয়ান এ দেশে কেবল গাজীপুরে সাফারি পার্ক ও চট্রগ্রামের রাঙ্গুনীয়ায় শেখ রাসেল এভিয়্যারি এন্ড ইকো পার্কে  দেখা মেলে। তবে সাফারি পার্কে এদের সংখ্য অনেক বেশি। বর্তমানে এখানে ব্ল্যাক সোয়ান ২৬ টি, হোয়াইট সোয়ান ২২টি ও সদ্যজাত ব্ল্যাক সোয়ানের ৩টি ছানা রয়েছে। এদের মূলত নেদারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় বেশি দেখা যায়। 

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন  বলেন, পার্কের লেকে বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। প্রতি বছর স্বাভাবিকভাবেই হাঁসের বংশবৃদ্ধি হচ্ছে। এর আগেও ব্ল্যাক সোয়ান বাচ্চা দিয়েছিল। এবারও ৩টি বাচ্চার জন্ম হয়েছে। ফেন্সি ডাক গার্ডেন লেকে প্রায়ই প্রাকৃতিকভাবে বিভিন্ন পাখির আগমন ঘটে। পার্কে আগত দর্শনার্থীরা ফেন্সি ডাক গার্ডেন লেকে বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস পাখি দেখে মুগ্ধ হয়।