বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ০১:১৯

সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ

Published : 2018-01-09 22:04:00, Updated : 2018-01-10 13:51:44
লেখক, সংগীতস্রষ্টা ও ভাষাবিদ সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৪২ সালের ১ জুন। তিনি ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে যোগদানকারী প্রথম ভারতীয়। ব্রিটিশ ভারতের নারীমুক্তি আন্দোলনে সত্যেন্দ্রনাথের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। পারিবারিক পরিচয়ে তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথের অগ্রজ। ১৮৬৩ সালের জুন মাসে সত্যেন্দ্রনাথ ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে নির্বাচিত হন।

এরপর শিক্ষাধীন প্রশিক্ষণ (প্রবেশনারি ট্রেনিং) সমাপ্ত করে দেশে ফিরে আসেন। মনমোহন ঘোষ পরীক্ষায় কৃতকার্য না হলেও বারে ডাক পেয়েছিলেন। বোম্বাই প্রেসিডেন্সিতে কর্মে বহাল হন সত্যেন্দ্রনাথ। সে যুগে বোম্বাই প্রেসিডেন্সি গঠিত হয়েছিল বর্তমান মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও সিন্ধু প্রদেশের অংশবিশেষ নিয়ে। প্রাথমিক পর্যায়ে চার মাস বোম্বাই (অধুনা মুম্বই) শহরে বহাল হলেও, তাঁর প্রথম কার্যকর নিযুক্তি হয়েছিল আমেদাবাদে।

এরপর বদলি চাকরির সূত্রে তিনি সারাদেশ ভ্রমণ করেন। বাড়ি থেকে দূরে থাকতেন। তাই আত্মীয়স্বজন প্রায়ই তাঁর কাছে আসতেন এবং বেশ কিছুদিন করে কাটিয়ে যেতেন। নিয়মিত আসতেন তাঁর দুই অনুজ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৩৯-১৯২৫), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) ও বোন স্বর্ণকুমারী দেবী। বাংলার বাইরে বদলির চাকরির সূত্রে সত্যেন্দ্রনাথ বেশ কিছু ভারতীয় ভাষা শেখারও সুযোগ পেয়েছিলেন।

তিনি বাল গঙ্গাধর তিলকের গীতারহস্য ও তুকারামের অভঙ্গ কবিতাগুলো বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন। তাঁর অনুজ রবীন্দ্রনাথও তুকারামের কয়েকটি কবিতা বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। সত্যেন্দ্রনাথ যেখানেই বদলির সূত্রে গিয়েছিলেন, সেখানেই ব্রাহ্মসমাজের কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন। আমেদাবাদ ও হায়দ্রাবাদ (সিন্ধু প্রদেশ) শহরে ব্রাহ্মসমাজের প্রসারে তাঁর বিশেষ অবদান ছিল।

সত্যেন্দ্রনাথ মহারাষ্ট্র অঞ্চলের অগ্রণী সমাজ সংস্কারক ও প্রার্থনা সমাজ নেতৃবর্গের সংস্পর্শে আসেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মহাদেব গোবিন্দ রানাডে, কাশীনাথ ত্রিম্বক তেলঙ্গ, রামকৃষ্ণ গোপাল ভাণ্ডারকর ও নারায়ণ গনেশ চন্দবরকর। ৩০ বছর তিনি আইসিএস পদ অলঙ্কৃত করেছিলেন। ১৮৯৭ সালে মহারাষ্ট্রের সাতারার জজ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।

১৯২৩ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি মারা যান।