শনিবার ২০ জানুয়ারি, ২০১৮, ভোর ০৫:৪১

বদলানো বাংলাদেশকেই দেখছেন হাতুরাসিংহে

Published : 2017-03-31 00:53:00
স্পোর্টস রিপোর্টার: ডাম্বুলা থেকে কলম্বো এসে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল বুধবার। লম্বা বাস যাত্রায় সবাই ক্লান্ত। তাই সেদিন আর কোনো অনুশীলনই ছিল না।নির্ধারিত অনুশীলন ছিল কাল বৃহস্পতিবার।

তবে সেই অনুশীলনে সেরা একাদশের আটজন খেলোয়াড়ই যে নেই! ব্যাপারটা একটু খাপছাড়া মনে হল এক সাংবাদিকের কাছে। প্রশ্নটা তিনি কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহেকে করলেনও। কোচ দুই হাত দিয়ে তার দলকে আগলে রেখে জানিয়ে দিলেন-‘ব্যাপারটা হল, প্রতিদিনের অনুশীলনের প্রয়োজন নেই আমাদের। খেলোয়াড়রা যদি জানে তাদের প্রস্তুতিটা ভালো আছে, তাহলে তারা যে কোনো সময়ের জন্যই বিশ্রামে থাকতে পারে। তাছাড়া শ্রীলঙ্কায় যে প্রচণ্ড গরম, এমন আবহাওয়ায় ক্রিকেট খেলা খুবই কঠিন।’

হয়তো তার কথায় কেউ যেন আবার আত্মতুষ্টি বা আত্মতৃপ্তি খুঁজতে শুরু না করেন তাই খেলোয়াড়দের বিশ্রামের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত একটা ব্যাখ্যাও দিচ্ছিলেন কোচ-‘যখন খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকে এবং আমিও বুঝতে পারি যে তাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো আছে, তখন আমিও চাই তারা যেন মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং শারীরিকভাবে বিশ্রামে থাকুক। আর খেলার আগে এটার বড় প্রয়োজনও রয়েছে।’

প্রতিপক্ষ হিসেবে শ্রীলঙ্কা এবং শ্রীলঙ্কার মাটি কোনোটাই বাংলাদেশ দলের জন্য তেমন অপরিচিত কিছু নয়। তবে এবারই প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কোনো সিরিজে বাংলাদেশ খেলছে হট ফেভারিটের তকমা গায়ে নিয়ে। প্রথম ম্যাচ জিতে সিরিজে ১-০-তে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস এখন আকাশসম। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ বৃষ্টিতে বাতিল। আগামীকালের তৃতীয় এবং শেষ ম্যাচেই উত্তর মিলবে ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি উঠবে কার হাতে।

শুধু মাশরাফির হাতে। নাকি মাশরাফি-উপুল থারাঙ্গা দুজনেরই হাতে!

হিসাবটা সহজ। এ সিরিজে বাংলাদেশ আর হারছে না। শেষ ম্যাচে জিতলে ২-০-তে ট্রফি বাংলাদেশের। আর যদি শ্রীলঙ্কা জেতে শেষ ম্যাচ তবে ট্রফিতে উভয় দলের সমান ভাগ। টেস্ট সিরিজের মতো!

তবে টেস্ট সিরিজের ট্রফি ভাগে সন্তুষ্ট হলেও ওয়ানডে ট্রফিতে ভাগ দিতে রাজি নয় বাংলাদেশ। আর যে কায়দায় সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতেছে এবং পুরো দল যে দুর্দান্ত ফর্মে আছে-তাতে শনিবার সিংহলি স্পোর্টস ক্লাবে (এসএসসি) সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে আত্মবিশ্বাসের পাল্লাটা অবশ্যই বাংলাদেশের পক্ষে বেশি ভারি।

কোচ হাতুরাসিংহের কথাতেও সেই যৌক্তিকতাই মিলল-‘যদি প্রক্রিয়াটা ঠিক রাখতে পারি তবে সিরিজ জয়ের জন্য আমরা অনেক আত্মবিশ্বাসী। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চলতি সফরে আমরা অনেক ভালো ফলই করেছি। সন্দেহ নেই ঘরের মাটিতে শ্রীলঙ্কা অনেক শক্তিশালী দল। ঠিক মনে করতে পারছি না নিজ মাটিতে সিরিজ হচ্ছে অথচ শ্রীলঙ্কা কোনো ম্যাচ (ওয়ানডে) জেতেনি! এ হিসাবের দৃষ্টিকোণ থেকেই আমরা এগিয়ে থেকেই সিরিজের শেষ ম্যাচে খেলতে নামব। ১-০-তে এগিয়ে আমরা সিরিজে। সিরিজ হারানোর কোনো আশঙ্কাই নেই। সিরিজ বাঁচাতে হলে তাদের ভালো খেলতে হবে। আর সিরিজ জিততে হলে আমাদের নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে।’

সিরিজ ড্র এবং জয়ের প্রেসক্রিপশনটা জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশ কোচ!

-এমন টইটম্বুর আত্মবিশ্বাস কোথা থেকে পেল বাংলাদেশ?

কোচের উত্তর-‘কলম্বো টেস্টের জয়টাই আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।’

অথচ এবারের শ্রীলঙ্কা সফর বাংলাদেশের শুরু হয়েছিল বড় হার দিয়ে। গলে সিরিজের প্রথম টেস্ট ২৫৯ রানে হারে বাংলাদেশ। কিন্তু সেই হারে দল মনোবল হারায়নি। সিরিজের দ্বিতীয় এবং নিজেদের শততম টেস্টে যে কোনো মূল্যে ঘুরে দাঁড়ানোর পণ নেয় পুরো দল। আর এ জেদে নেতৃত্ব দেন দলের সিনিয়র খেলোয়াড়রা।

সেই প্রচেষ্টার জোরেই শততম টেস্টে লড়াকু ক্রিকেট খেলে শ্রীলঙ্কাকে হারায় বাংলাদেশ। বদলে যাওয়া বাংলাদেশের কাহিনি সেখান থেকেই শুরু। কোচও তাই জানালেন-‘যখন দল জিততে থাকে তখন সবকিছুই ভালো দেখায়। গল টেস্টের পর মাঠের লড়াইয়ে দলের খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষায় বদলে যাওয়াটা দেখতে পাই আমি। সেই হারের পর কীভাবে ঘুরে দাঁড়ানো যায়-সেই প্রসঙ্গে সবাই নিজেদের মধ্যে একে অন্যের সঙ্গে কথাবার্তা বলে। পরে মাঠের খেলায় সেই প্রতিজ্ঞার অনুবাদ করে দেখায়।’

শনিবার সিরিজের শেষ ওয়ানডেটা জিততে পারলে এবারের শ্রীলঙ্কা সফরকে সুখস্মৃতির সোনালি ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখবে বাংলাদেশ!