সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, সকাল ০৮:১০

ফেলানী হত্যা দিবস আজ

Published : 2018-01-07 09:57:00, Updated : 2018-01-07 10:04:09

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কুড়িগ্রামের অনন্তপুর-দিনহাটা সীমান্তের খিতাবের কুঠি এলাকায় ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্যরা ফেলানী খাতুন নামে এক কিশোরীকে গুলি করে হত্যা করে। বিএসএফ ১৮১ ব্যাটালিয়নের চৌধুরীহাট ক্যাম্পের জওয়ানদের এ ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়। ফেলানীর লাশ পাঁচ ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলেছিল। বিএসএফ নিজস্ব আদালতে এ ঘটনার জন্য দায়ী সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করে। বাবার সঙ্গে ফেলানী নয়াদিল্লিতে গৃহকর্মীর কাজ করত। বিয়ের উদ্দেশে সে দেশে ফিরছিল।

চোরাচালান বাংলাদেশ ও ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার  ক্ষেত্রে একটি সমস্যা। তবে অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফের অতি সক্রিয়তার ফলে সীমান্তে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম দিল্লিতে কাজ করতেন। তার সঙ্গে সেখানেই থাকত ফেলানী। দেশে বিয়ে ঠিক হওয়ায় বাবার সঙ্গে ফেরার পথে সীমান্ত পার হওয়ার সময় কাঁটাতারের বেড়ায় কাপড় আটকে যায় ফেলানীর। এতে ভয়ে সে চিত্কার দিলে বিএসএফ সদস্যরা তাকে গুলি করে হত্যা করে এবং পরে লাশ নিয়ে যায়। কাঁটাতারের বেড়ায় ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ সরকার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এর প্রতিবাদ জানানো হয়।

পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির পক্ষ থেকেও বিএসএফের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠকে ফেলানী হত্যার বিচারের জন্য চাপ দেওয়া হয়। ২০১২ সালে নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে ফেলানী হত্যার বিচার দ্রুত শুরু করা হবে বলে আশ্বাস দেন বিএসএফের মহাপরিচালক। এরই ধারাবাহিকতায় বিএসএফ সদর দফতর ‘জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্ট’ গঠন করে এবং আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের দুজন সাক্ষী, একজন আইনজীবী এবং বিজিবির একজন প্রতিনিধিকে ভারতে যেতে বলা হয়। সে অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কুড়িগ্রামের ৪৫ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জিয়াউল হক খালেদ, কুড়িগ্রাম আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকন এবং ফেলানীর বাবা ও মামাকে ভারতে গিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্টের মামলার রায়ে বি এস এফ সদস্য অমিয় ঘোষকে খালাস দেওয়া হয়েছির। এ রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি ফেলানির বাবা। তা ছাড়াও ভারত এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে। বর্তমানে মামলাটি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।