রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ০২:৫৪

মা হয়েছে ঐরাবত বেলকলি

Published : 2018-01-05 19:42:00
ছবি : রেজাউল করিম সোহাগ। অনলাইন ডেস্ক: গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে আবারও একটি মা হাতি বাচ্চা দিয়েছে। এবার মা হয়েছে ঐরাবত বেলকলি। শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে আটটার দিকে হাতিশালার পাশে জঙ্গলের ভিতরে ঐরাবত বেলকলি একটি শাবকের জন্ম দেয়। এ নিয়ে পার্কের হাতিশালায় দুটি মেয়ে শাবকের জন্ম হয়েছে। 

এর আগেও গত বছারের ২৭ আগস্ট প্রথমবারের মতো আবদ্ধ পরিবেশে  মুক্তিরানী নামে এক হাতি একটি মেয়ে শাবকের জন্ম দিয়েছিল। বাচ্চা ও মা হাতিটি পার্কের হাতিশালার আশপাশের বনে বাচ্চাকে নিয়ে অবস্থান করছে। কাউকেই কাছে ভিড়তে দিচ্ছে না। বাচ্চাটি স্বাভাবিক ভাবেই মায়ের দুধ পান করছে। গর্ভ ধারণের ২০ মাস পর ঐরাবত বেলকলি এ শাবকের জন্ম দিল। বর্তমানে নবজাতকসহ পার্কের আটটি হাতি হলো । এবারও মেয়ে শাবকের জন্ম দিল বেলকলি। 

পার্কসূত্রে জানা যায়, কয়েক দফায় পার্কে মোট ছয়টি হাতি আনা হয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশ দীর্ঘদিন পরিকল্পিত পরিচর্যার পর আবারো বাচ্চা দিল হাতি। বেলকলি হাতিটির প্রসব ব্যথা শুরু হলে একটি নির্দিষ্ট ঘন জঙ্গলে তাকে উন্মুক্ত করা হয়। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে মা হাতি বেলকলি একটি শাবকের জন্ম দিল।

প্রাণী পরিদর্শক সরোয়ার হোসেন খান জানান, হাতি দুই প্রকার। একটি এশিয়াটিক হাতি অন্যতি আফ্রিকান হাতি। পার্কে জন্ম নেওয়া এটি এশিয়াটিক হাতি। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংঙ্কা, নেপাল, মায়ানমারে এশিয়াটিক হাতির বসবাস। এশিয়াটিক (এশিয়) আকারে আফ্রিকান হাতি থেকে ছোট হয়।

তিনি জানান, হাতি দল বেধে থাকতে পছন্দ করে। কোনো দলে শাবকের জন্ম হলে দলের অন্য সদস্যরাও ওই শাবককে আদর করে। তার নিরাপত্তায় আলাদা নজর রাখে। একটি হাতি প্রতি দিন ৫-৭ মণ খাবার গ্রহন করে থাকে। 

অপর প্রাণী পরির্দশক আনিসুর রহমান জানান,পার্কে থাকা প্রত্যেকটি হাতির আলাদা নাম রয়েছে। পুরুষ দুটি হাতি, সেল বাহাদুর ও আমির বাহাদুর। নারী হাতিগুলো হলো মুক্তিরানী, পূজা রানী, বেলকলি ও কুসুম মালা। তিনি জানান পার্কে গত বছরের আগস্টে মুক্তিরানী নামে এক হাতি বাচ্চা দিয়েছিল। এবার বাচ্চা দিল বেলকলি নামে আরেকটি হাতি।  সতের থেকে বিশ বছরে ফিমেল (নারী) ও বিশ থেকে পঁচিশ বছরে মেইল (পুরুষ) প্রাপ্তবয়স্ক হয়। হাতি সাধারনত একটি শাবকের জন্ম দেয়। তবে দুটি হওয়ার ব্যতিক্রম ইতিহাসও রয়েছে। হাতি আশি থেকে একশ বছর বেঁচে থাকে। 

পরিচর্যাকারী (মাহুত) আবু তাহের জানান, হাতিটির প্রসব ব্যথা চোখে পড়লে বড় কর্মকর্তাদের জানানো হয়। পরে সাড়ে আটটার দিকে বনের ভিতরে একটি মেয়ে বাচ্চার জন্ম দেয় মা হাতি বেলকলি।

পার্কের সহকারী ভেটেরিনারি সার্জন ডা.নিজাম উদ্দিন চৌধুরী জানান, মা বেলকলি ও সদ্য জন্ম নেওয়া শাবক সুস্থ্য রয়েছে। আগে জন্ম নেওয়া  বাচ্চাটিও হাতির দলের সঙ্গে চলাফেরা করে। 

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন জানান, এ নিয়ে পার্কে দুটি হাতি বাচ্চা দিল।  গত বছরে হাতি মুক্তিরানী ও এবার হাতি বেলকলি বাচ্চা দিয়েছে। সদ্য জন্ম নেওয়া শাবকের একটি সুন্দর নাম ঠিক করা হয়েছে পরে ঘোষনা করা হবে। শাবকের নিরাপত্তায় মা হাতি জঙ্গলের ভিতরে অবস্থান করছে। মাহুত নিদিষ্ট সময়ে বনের ভিতরেই মা হাতিকে খাদ্য দেয়। শাবক মায়ের দুধ পান করছে সুস্থ রয়েছে।