বুধবার ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ০৯:০৪

দু:সময়ে পাকিস্তানের পাশে চীন

Published : 2018-01-03 12:52:00, Updated : 2018-01-03 13:15:46

অনলাইন ডেস্ক : নতুন বছরের প্রথম টুইট বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানকে অর্থ সহায়তা বন্ধের হুমকি দেন। হুমকির পরপরই পাকিস্তানকে সামরিক খাতে যে ২৫ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার সাহায্য দেওয়ার কথা ছিল স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এই জটিলতার মধ্যে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের মিত্র দেশ চীন।

সোমবার (১ জানুয়ারি) টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বোকার মতোই পাকিস্তানকে গত ১৫ বছরে ৩৩ বিলিয়ন ডলার সহযোগিতা দিয়েছে। বিপরীতে তারা আমাদের মিথ্যা ও শঠতা ছাড়া কিছুই দেয়নি। তারা আমাদের নেতাদের বোকা ভাবছে। আমরা আফগানিস্তানে যে জঙ্গিদের খুঁজছি তাদেরকেই তারা নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে। আর কিছু নয়।

ট্রাম্পের নিন্দার বিপরীতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, "সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তান প্রচুর চেষ্টা এবং আত্মত্যাগ করেছে। সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণের বিশ্বজনীন যুদ্ধে তাদের অবদান ব্যতিক্রমী। আন্তর্জাতিক দুনিয়ার উচিত সেটা স্বীকার করা।"

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াংয়ের এই মন্তব্য থেকে কূটনীতিকদের অনুমান, চীন এখন পাকিস্তানে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে। চীন পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি)-এর অংশ হিসেবে পাকিস্তানে ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে বেইজিং। যদিও পাক অধিকৃত কাশ্মীরকে অতিক্রম করে যাবে বলে এই মহাসড়ক প্রকল্প নিয়ে ইতিমধ্যেই আপত্তি জানিয়েছে ভারত।

গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে চীন, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের প্রথম ত্রিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আফগানিস্তান পর্যন্ত সিপিইসি নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা সেখানে ঘোষণা করেছে চীন। যদিও আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের মিত্রতা রয়েছে এবং তালিবানকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য আফগানিস্তান বরাবর পাকিস্তানের দিকেই আঙুল তুলে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন, দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব দূর করে তাদের মধ্যস্থতা করাই চীনের এখন লক্ষ্য। যাকে চীনের ত্রিপাক্ষিক কৌশল বলছেন তাঁরা।

এর সঙ্গেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরব সাগর এবং ভারত মহাসাগরে চীনকে অবাধ সুযোগ দিয়ে পাকিস্তান বিপুল চীনা বিনিয়োগ টানতে গিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের রোষানলে পড়েছে। তবে এর পাশাপাশি কূটনীতিকদের একাংশ মনে রাখছেন আর একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক। তা হল, আর কয়েক মাসের মধ্যেই পাকিস্তানে নির্বাচন। তাই এই সুযোগে যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী হাওয়া জোরালো করতে ঝাঁপাবে সব দলই। তার মধ্যে অন্যতম ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ। ফলে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির টুইট তাদের প্রচারে আর এক প্রস্ত সুযোগ করে দিল বলেই কূটনীতিকদের ওই অংশের অভিমত।