মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ১২:১৬

হুমকির পরপরই পাকিস্তানে অনুদান স্থগিত

Published : 2018-01-03 12:07:00

অনলাইন ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বছরের প্রথম টুইটে পাকিস্তানে সহায়তা বন্ধের হুমকি দেন। ওই হুমকি দেয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সামরিক খাতে পাকিস্তানকে যে ২৫ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার সাহায্য দেওয়ার কথা ছিল, আপাতত তা স্থগিত ঘোষণা করেছে হোয়াইট হাউজ।

সন্ত্রাস দমনের নামে পাকিস্তানের ‘প্রতারণা’ করছে বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তারপরেই মার্কিন প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে, 'এরপর থেকে দেশের মাটিতে সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে ইসলামাবাদ কতটা সক্রিয়, তা দেখে তবেই এ ধরনের সাহায্যের কথা ফের ভাবা হবে'।

এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর পরই রেডিও পাকিস্তান জানিয়েছে, পাক প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসি জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বৈঠক করেছেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পাক সেনাপ্রধানও। বৈঠকের পরে তাঁরা বলেছেন, "মার্কিন নেতৃত্বের ওই মন্তব্য দুর্বোধ্য। কারণ প্রকাশ্যে তারা তথ্যের অপলাপ ঘটিয়েছেন। দু’জাতির মধ্যে যে বিশ্বাসের সম্পর্ক রয়েছে, তাতেও যথেষ্ট আঘাত করেছেন। অস্বীকার করেছেন পাকিস্তানের কয়েক দশকের আত্মত্যাগকেও।"

ট্রাম্পের মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার রাতেই ইসলামাবাদে মার্কিন দূত ডেভিড হ্যালেকে তলব করেছে পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র সচিব তেহমিনা জানজুয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছেন হ্যালের কাছে। যদিও পরে পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কিছু জানায়নি।

ট্রাম্প টুইট বার্তায় বলেছেন, "জঙ্গি দমনের নামে ১৫ বছর ধরে পাকিস্তান আমাদের থেকে ৩৩০০ কোটি ডলার নিয়ে গিয়েছে। অথচ বিনিময়ে ঝুড়ি-ঝুড়ি মিথ্যে বলা ছাড়া কিছুই করেনি।" তার পরেই মার্কিন প্রশাসনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, "বিদেশের সামরিক খাতে ২০১৬ আর্থিক বছরে পাকিস্তানের জন্য যে ২৫ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার ধার্য করা হয়েছিল, তা এখনই খরচ করার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।’’ ওই কর্তার দাবি, "প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নিজের দেশের মাটিতে সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে পাকিস্তান দৃঢ় পদক্ষেপ করবে, এটাই যুক্তরাষ্ট্রের আশা।"