বৃহস্পতিবার ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮, ভোর ০৬:১৭

কবি জসীমউদ্দীনের জন্ম

Published : 2017-12-31 16:21:00
অনলাইন ডেস্ক : বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের কীর্তিমান কবি পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের জন্ম ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে। তিনি ১৯৩১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ পাস করেন। তাঁর লেখা ‘কবর’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যে এক অবিস্মরণীয় অবদান। ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ ও ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ কবির অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা, যেগুলো বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

জসীমউদ্দীনের কবিত্ব শক্তির প্রকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই। তখন থেকেই তিনি তাঁর কবিতায় পল্লীপ্রকৃতি ও পল্লীজীবনের সহজ-সুন্দর রূপটি তুলে ধরেন। পল্লীর মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর অস্তিত্ব যেন মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছিল। বাংলা কবিতার ধারায় জসীমউদ্দীনের স্থানটি বিশিষ্ট। তাঁর কবিতা অনাড়ম্বর কিন্তু রূপময়। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও লোকজীবন তাঁর কবিতায় নতুন রূপ লাভ করেছে।

বাংলাদেশের মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না ও জীবন সংগ্রামের কাহিনিই তাঁর কবিতার প্রধান উপজীব্য। তাঁর কবিতায় দেশের মাটির সাক্ষাৎ উপলব্ধি ঘটে। তাঁর গদ্য রচনাও বিশেষ আকর্ষণীয়; সরল, সরস, গভীর ও আন্তরিকতার স্পর্শে তা মন ছুঁয়ে যায়।

জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লী সাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। গাথাকাব্য, খণ্ডকাব্য, নাটক, স্মৃতিকথা, শিশুসাহিত্য, গল্প-উপন্যাসসহ সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করেছেন তিনি।

কবির কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে রাখালী (১৯২৭), নকশী কাঁথার মাঠ (১৯২৯), বালুচর (১৯৩০), ধানক্ষেত (১৯৩৩), সোজন বাদিয়ার ঘাট (১৯৩৪), হাসু (১৯৩৮), রঙিলা নায়ের মাঝি (১৯৩৫), রুপবতী, মাটির কান্না, এক পয়সার বাঁশী, সকিনা, সুচয়নী, ভয়াবহ সেই দিনগুলোতে, হলুদ বরণী, জলে লেখন, কাফনের মিছিল ও কবর। নাটকের বই হচ্ছে পদ্মাপার, বেদের মেয়ে, মধুমালা, পল্লীবধু, গ্রামের মেয়ে, ওগো পুস্পধনু ও আসমান সিংহ। আত্মকথা- যাদের দেখেছি, ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়, জীবনকথা ও স্মৃতিপট। এ ছাড়া চারটি উপন্যাস, চারটি ভ্রমণ কাহিনী, দুটি গানের বই রয়েছে।

জসীমউদ্দীন বাংলা সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরম্যান্স পুরস্কার (১৯৫৮), রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার ডিগ্রি (১৯৬৯), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।

১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ জসীমউদ্দীনের প্রয়াণ ঘটে।