বুধবার ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮, সন্ধ্যা ০৭:০৮

মিশরে খ্রিষ্টানরা কতটা নিরাপদ?

Published : 2017-12-31 10:14:00

অনলাইন ডেস্ক : মিশরে রাজধানী কায়রোতে কপটিক খ্রিষ্টানদের ওপর বন্দুকধারীর আক্রমণে ৯ জন নিহত হবার পর সে দেশের এই সংখ্যালঘুরা কতটুকু নিরাপদ, সে প্রশ্ন আবার উঠেছে।

দক্ষিণ কায়রোর হেলওয়ান এলাকায় এক বন্দুকধারী প্রথমে কপটিক খ্রিস্টান মালিকানাধীন একটি দোকানে আক্রমণ করে দুই ভাইকে হত্যা করে। এরপর সে একটি গির্জায় জোর করে ঢোকার চেষ্টা করার সময় তাকে বাধা দিলে সে গুলি চালায়, যাতে ৬ জন বেসামরিক লোক এবং দু'জন পুলিশ নিহত হয়। ইসলামিক স্টেট (আইএস) দাবি করেছে যে তাদের একজন 'সৈনিক' এই আক্রমণ চালিয়েছে।

মিশরে গত এক বছরে অনেকগুলো হামলায় ১০০ জনেরও বেশি খ্রিষ্টান নিহত হয়েছে এবং বেশির ভাগ হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেটের স্থানীয় শাখা। ২০১৭ সালে তান্তা, আলেকজান্দ্রিয়া এবং সিনাইয়ে তিনটি আক্রমণে অন্তত ৫২ জন খ্রিস্টান নিহত হয়। গত বছর ডিসেম্বর মাসে কায়রোর একটি কপটিক চার্চে প্রাথর্নার সময় বোমা বিস্ফোরণে নিহত হয় ২৯ জন।

মুসলিম প্রধান মিশরের ৯ কোটি জনসংখ্যার মধ্যে ১০ শতাংশ খ্রিষ্টান। এদের অধিকাংশই কপটিক। এপ্রিল মাসে সেন্ট মিনা মনাস্ট্রিতে এক হামলায় ৫০ জন নিহত হবার পর সেখানকার ফাদার এলাইজা এলভা মিনা বলেছিলেন, খ্রিষ্টানদের ইতিহাসই হচ্ছে এ রকম।

ইসলামিক স্টেটের মিশরীয় শাখা বলেছে, খ্রিষ্টানরা হচ্ছে তাদের 'সবচেয়ে পছন্দের শিকার।' আলেকজান্দ্রিয়ায় কপটিক খ্রিস্টানদের সবচেয়ে পুরোনো গীর্জা সেন্ট মার্কস ক্যাথেড্রালেও আইএস হামলা চালিয়েছে।

মিশরের প্রেসিডেন্ট সিসি সাম্প্রতিক আক্রমণগুলোর পর গীর্জাগুলোর কাছে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিলেন। কিন্তু খ্রিষ্টানরা এর ওপর খুব একটা আস্থা রাখেন না। বিবিসির অরলা গুয়েরিন আলেকজান্দ্রিয়া থেকে এর আগে এক প্রতিবেদনে লেখেন, মিশরের কপটিক খ্রিষ্টানরা যে শুধু আইএসের আক্রমণের ভয়ে ভীত তাই নয়। তাদের জন্য আরো সমস্যা গোষ্ঠীগত উত্তেজনা এবং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বৈষম্য।

গত বছর মিশরে এক নতুন আইন পাস হয়েছে। যার ফলে নতুন গীর্জা প্রতিষ্ঠা করা খুবই কঠিন হয়ে উঠেছে, বলছিলেন ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ে গবেষক ইসহাক ইব্রাহিম। খ্রিষ্টানরা যদি ঘরে প্রার্থনা করার জন্য সমবেত হয়, তাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে বের করে দেয়া হতে পারে এমন আশংকা থাকে, বলছিলেন ইসহাক। সূত্র: বিবিসি বাংলা