বুধবার ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮, সন্ধ্যা ০৭:১৩

উ. কোরিয়ায় তেল পাচারের সময় জাহাজ আটক

Published : 2017-12-30 12:13:00

অনলাইন ডেস্ক : উত্তর কোরিয়ায় তেল রফতানির ক্ষেত্রে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে জাতিসংঘের। অথচ তারপরেও দিব্যি চলছে চোরা কারবার। কিন্তু কারা পাঠাচ্ছে তেল? দক্ষিণ কোরিয়ার পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চীনের দিকেই আঙুল তুলেছেন।

সিউল জানিয়েছে, গত মাসে তেল-পাচারের সময়ে হংকংয়ের একটি জাহাজ আটকেছে তারা। লাইটহাউস উইনমোর নামের ওই জাহাজ থেকে প্রায় ৬০০ টন পরিশোধিত তেল তুলে দেওয়া হচ্ছিল পিয়ংইয়ংয়ের একটি জাহাজে।

চীন উত্তর কোরিয়ায় তেল চোরাচালানের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িত এমন কোনও জাহাজ গত অাগস্ট থেকে তাদের বন্দর থেকে পাড়ি দেয়নি। পাশাপাশি চীন আরো বলেছে, তারা কোনোভাবেই জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করেনি। তবে যদি পরে প্রমাণিত হয় যে তাহলে চীন আইনি পথেই এ সব অভিযোগের উপযুক্ত জবাব দেবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার একাধিক সংবাদমাধ্যম যদিও বেশ কয়েক দিন ধরেই তেলের অবৈধ কারবার নিয়ে চীনকে ধারাবাহিক ভাবে নিশানা করে আসছে। বস্তুত এ সব প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করেই ট্রাম্প চীনের দিকে অভিযোগের তীর ছোঁড়েন। উত্তর কোরিয়াকে শিক্ষা দিতে চেয়ে চীনের ভূমিকায় তিনি যে সন্তুষ্ট নন, তা-ও ফের জানিয়ে দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, ‘‘আমি হতাশ। এমনটা চলতে থাকলে কোনও ভাবেই উত্তর কোরিয়ার সমস্যা মেটানো সম্ভব নয়।’’

আন্তর্জাতিক কূটনীতিক মহলের একাংশ বলছে, উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন নিজেও এই সমস্যা মেটাতে তেমন আগ্রহী নন। বরং দেশকে আরও পরমাণুসমৃদ্ধ করার দিকেই নজর তাঁর। যুদ্ধের মেজাজেই বেপরোয়া কিম। উত্তর কোরিয়ায় তেলের আমদানি অন্তত ৯০ শতাংশ ছেঁটে ফেলার ব্যাপারে জাতিসংঘের প্রস্তাবে গত সপ্তাহেই সমর্থন জানিয়েছিল বেইজিং।

কিমের দেশ আর যাতে একটিও পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করতে না পারে, সে জন্য চীনের কাছে সে দেশে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়েছিলেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাও। কিন্তু বেইজিং উল্টো পথেই হাঁটছে বলে অভিযোগ মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

সিউল জানিয়েছে, গত ১১ অক্টোবর লাইটহাউস উইনমোর নামের ওই তেল-বাহী জাহাজটি তাদের বন্দরে ভেড়ে। সেখান থেকে জাহাজটি তাইওয়ানের উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক জলপথে হঠাৎই গতিপথ বদলে সেটি বিপুল পরিমাণে তেল পাচার করে উত্তর কোরিয়ার জাহাজে। আটক জাহাজটি এখনও দক্ষিণ কোরিয়ার হেফাজতে। চিনের দাবি, এই অভিযোগের ভিত্তিতে তারাও তদন্ত শুরু করেছে। সূত্র: বিবিসি