বুধবার ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ০৯:০৯

আবদুল জব্বার খানের প্রয়াণ

Published : 2017-12-28 12:52:00

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পথিকৃত্ আবদুল জব্বার খানের জন্ম ১৩২২ সালের ৭ বৈশাখ (১৯১৬ ইং), মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায়। তাঁর চিত্রনাট্য, অভিনয় এবং পরিচালনায় মুখ ও মুখোশ চলচ্চিত্র তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র। স্কুলে পড়াকালেই তিনি মঞ্চনাটকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। অভিনয় করেন বেহুলা, সোহরাব রোস্তম প্রভৃতি নাটকে। নবম-দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি নাটকের মূল চরিত্রে অভিনয় করেন। প্রমথেশ বড়ুয়ার মুক্তি চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয়ের কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে করতে পারেননি। পরে শাপমুক্তি চলচ্চিত্রের জন্য নির্বাচিত হলে পিতার অনুমতি না পেয়ে সে চলচ্চিত্রটিও করতে পারেননি। তবে নিয়মিত মঞ্চনাটক করেছেন। সমাজপতি ও মাটির ঘর নাটকে অভিনয় করে তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন।

আবদুল জব্বার খান ১৯৪৯ সালে স্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। সংগঠিত করেন কমলাপুর ড্রামাটিক অ্যাসোসিয়েশন। এ সংগঠনের উদ্যোগে তিনি টিপু সুলতান ও আলীবর্দী খান নাটক মঞ্চায়ন করেন। পরে ঈসা খাঁ, প্রতিজ্ঞা, ডাকাত, জগোদেশ রচনা করেন। ১৯৫৬ সালে তাঁর রচিত নাটক ডাকাত (পরে উপন্যাস হিসেবে প্রকাশিত) অবলম্বনে তৈরি করেন মুখ ও মুখোশ চলচ্চিত্র। এরপর পরিচালনা করেন জোয়ার এলো, নাচঘর (উর্দু), বনসারি, বাঁশরী, কাচ কাটা হীরা, খেলারাম  চলচ্চিত্র।

চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য আবদুল জব্বার খান বাচসাস পুরস্কার, এফডিসি রজতজয়ন্তী পদক, উত্তরণ পদক, হীরালাল সেন স্মৃতি পদক, বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন স্বর্ণপদক, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সম্মাননা পদক, ফিল্ম আর্কাইভ সম্মাননা প্রতীক, রেইনবো ফিল্ম সোসাইটি সম্মান পদক লাভ করেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি মুজিবনগর সরকারের চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও পরিবেশনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জুরি বোর্ড, অনুদান কমিটি, সেন্সর বোর্ড, ফিল্ম ইনস্টিটিউট ও আর্কাইভে সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।১৯৯৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর আবদুল জব্বার খানের প্রয়াণ ঘটে।