সোমবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ০২:৪৫

ফের লালুপ্রসাদ যাদব দোষী সাব্যস্ত

Published : 2017-12-24 10:54:00

অনলাইন ডেস্ক : পশুখাদ্য কেলেঙ্কারির আরও একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে জেলে গেলেন বিহারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিহারের রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) প্রধান লালুপ্রসাদ যাদব। শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) বিশেষ সিবিআই আদালত এই রায় দেন। তবে দেওঘর ট্রেজারি থেকে ৮৯ কোটি টাকা দুর্নীতির এই মামলায় তাঁকে কত দিনের জন্য কারাবাস করতে হবে তা জানা যায়নি।

রাঁচীর বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক শিবপাল সিংহ আগামী ৩ জানুয়ারি দোষীদের সাজা শোনাবেন। তবে ইতিমধ্যেই আরজেডি এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাঁচী হাইকোর্টে যাবে বলে জানিয়েছেন দলের নেতা রঘুবংশ প্রসাদ সিংহ।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৪ সালের মধ্যে দেওঘর ট্রেজারি থেকে বিপুল অর্থ দুর্নীতির অভিযোগেই দায়ের হয়েছে এই মামলা। তখন অবিভক্ত বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন লালুপ্রসাদ। এই মামলায় মোট অভিযুক্ত ৩৪ জন। তার মধ্যে ১১ জন ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছেন। সেই সময় ক্ষমতায় না থাকায় আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জগন্নাথ মিশ্রকে আজ বেকসুর খালাস করে দিয়েছেন বিচারক। মুক্তি পেয়েছেন আরও পাঁচ অভিযুক্ত। দোষীদের তালিকায় রয়েছেন লালুপ্রসাদসহ ১৭ জন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার বেক জুলিয়াস, ফুলচাঁদ সিংহ এবং মহেশপ্রসাদ। রয়েছেন এক বাঙালি অফিসার, সুবীর ভট্টাচার্যও।

এই রায়কে ঘিরে বিহার তথা দেশ জুড়ে জল্পনা চলেছে। প্রশ্ন উঠেছে লালুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে। কংগ্রেস জানিয়েছে, তারা লালুপ্রসাদ ও আরজেডির পাশেই থাকছে। বিজেপি এই ‘জোট’-কে ‘দুর্নীতিগ্রস্তদের জোটবদ্ধতা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তবে বিহারের রাজনীতিকদের একাংশের মতে, লালু যত বার জেলে গিয়েছেন, তত বারই রাজনৈতিক ভাবে লাভ হয়েছে তাঁর। অনেক বেশি শক্তি নিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছেন আরজেডি প্রধান।

গত দু’দশকের ভোটের অঙ্ক হাতে নিয়ে এক আরজেডি নেতা বলেন, ২০১৩ সালে জেলবন্দি হন লালু। তার ফল মেলে ২০১৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় আরজেডি। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটকে অবশ্য ব্যতিক্রমী হিসেবেই দেখছেন তাঁরা, ‘‘ওটা তো মোদী-ঝড়। সে ঝড় যে থমকে গিয়েছে, সেটা ২০১৫-তেই প্রমাণিত।’’ আরজেডি নেতৃত্বের দাবি, এ বারের জেলযাত্রার সুফল মিলবে ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে। সূত্র: আনন্দবাজার