বৃহস্পতিবার ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ০৪:১৫

দিয়াজ হত্যা মামলা: চবি শিক্ষক আনোয়ার দুই দিনের রিমান্ডে

Published : 2017-12-21 14:32:00, Updated : 2017-12-21 14:44:29

অনলাইন ডেস্ক : ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা আসামি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত । বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন । বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু মনসুর গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন । 

আবু মনসুর জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন গতকাল বুধবার ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন । তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন । দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন জমাদানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত ।

এর আগে গত সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) উচ্চ আদালতে থেকে নেয়া ৬ সপ্তাহ জামিনের শেষ দিনে চট্টগ্রামের একটি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। পরে জামিন আবেদন করলে মুখ্য মহানগর হাকিম মশিউর রহমানের আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান । এর প্রতিবাদে দুই দিন অবরোধ কর্মসূচিও পালন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশ। যার নেতৃত্বে রয়েছেন একই মামলার আসামি ও বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু। তিনি নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এর আগে গত ২৭ নভেম্বর ছেলের হত্যার বিচারের দাবিতে ট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধু চত্বরে কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশনে বসেছিলেন দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী। এ সময় ছেলে হত্যার এক বছর পরও হত্যাকারীদের কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ইফতেখার উদ্দিন ও প্রক্টর আজগর চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। 

এসময় তিনি রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর আবদুল হামিদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ভিসিকে অপসারণ করুন । ভিসি অপসারণ না হলে আমার ছেলের হত্যাকারীরা গ্রেফতার হচ্ছে না । ওদেরকে বাঁচিয়ে ফেলছে।
দিয়াজ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার চৌধুরীর বিষয়ে দিয়াজের মা বলেন, খুনি শিক্ষককে আরো প্রমোশন দেয়ার চেষ্টা চলছে । পিএইচডি ডিগ্রি দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে । খুনি আসামিরা শিক্ষক হতে পারে না ।

২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর সড়কের আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে দিয়াজের লাশ উদ্ধার করা হয় । তাকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ । ঘটনার চার দিন পর ২৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন ও ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপুসহ ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী । ওই মামলার আসামিরা ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জামশেদুল আলম চৌধুরী, সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন, ছাত্রলীগ সভাপতি আলমগীর টিপু, কর্মী রাশেদুল আলম জিশান, আবু তোরাব পরশ, মনসুর আলম, আবদুল মালেক, মিজানুর রহমান, আরিফুল হক অপু ও মোহাম্মদ আরমান । দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী নিজেও বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা ।  বর্তমানে মামলাটি সিআইডিতে তদন্তাধীন ।