সোমবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ১২:৩১

ফের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ক্যাঙ্গারু শাবকের জন্ম

Published : 2017-12-14 17:31:00
ফের ক্যাঙ্গারু শাবকের জন্ম হয়েছে। গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ক্যাঙ্গারু বেষ্টনী ঘিরে রয়েছে কৌতুহলী আগত দর্শনার্থী। সবার চোখ ঘাস লতাপাতা ঘেড়া বেষ্টনীর ফাঁক ফোঁকরে ছোট্ট ক্যাঙ্গারু শাবকের দিকে। সবার দৃষ্টি রয়েছে ছটফটে স্বভাবের ক্যাঙ্গারু শাবকের দিকে। 

দর্শনার্থীদের মাঝে বইছে আলাদা আনন্দ উল্লাস। সাফারি পার্কের ক্যাঙ্গারু বেষ্টনী আলোকিত করে তিন মাস আগে ক্যাঙ্গারু দম্পত্তি একটি ফুটফুটে শাবক জন্ম দিয়েছে। তবে গতকালই প্রথম থলে থেকে বের হয়ে লাফাতে থাকে মায়ের সঙ্গে। উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে ক্যাঙ্গারু দম্পত্তি সাফারি পার্কে দ্বিতীয় বার আরো একটি শাবকের জন্ম দিল। এতে সাফারি পার্কে আগত পর্যটকদের ব্যতিক্রমী একটি আকর্ষন যুক্ত হল ক্যাঙ্গারুকে ঘিরে। ক্যাঙ্গারু শাবক ছানাটি সারাক্ষনই বেষ্টনীর ভিতরে ছুটাছুটি করছে মনের আনন্দে। কখনো মায়ের পেটের নিচের থলির ভিতর স্থির, কখনো মা বাবার সঙ্গে খুঁনসুটিতে মত্ত থাকছে শাবকটি। 

পার্কসূত্রে জানাযায়, ২০১৪ সালে ফ্যালকন ট্রের্ডাসের মাধ্যমে সুদূর আফ্রিকা থেকে কিনে আনা হয় ক্যাঙ্গারুগুলো। পরে তৈরী করা ক্যাঙ্গারু বেষ্টুনীতে উন্মক্ত বিচরন করতে ছেড়ে দেওয়া হয় সেগুলোকে। বেষ্টুনী আলোকিত করে ক্যাঙ্গারু দম্পত্তি একটি ধূসর বর্নের শাবকের জন্ম দিয়েছে। 

এক দম্পত্তি দুই শিশু নিয়ে ক্যাঙ্গারু বেষ্টনীর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন । তারা জানান, জীবরে প্রথম ক্যাঙ্গারু শাবক দেখলাম। এটা অন্য রকম আনন্দ। আমার ছোট ছেলে মেয়ে ঘুরে ফিরে ক্যাঙ্গারু বেষ্টনীর কাছে আসে ক্যাঙ্গারু শাবক দেখতে। সেও খুব আনন্দ পেয়েছে।

পার্কের য়াইল্ড লাইফ সুপারভাইজার সরোয়ার হোসেন খান জানান, মারসুপিয়াল গোত্রের এক প্রকারের তৃণভুজি স্তন্যপায়ী প্রাণি ক্যাঙ্গারু। ক্যাঙ্গারু কেবল মাত্র অস্ট্রেলিয়া, নিউগিনি, তাসমানিয়ার আশপাশের দ্বীপ আঞ্চলগুলোতে বেশি পাওয়া যায়। পার্কের আনা ক্যাঙ্গারুগুলো এদের আদিনিবাস অস্ট্রেলিয়া হলেও পার্কে আনা হয় সুদূর আফ্রিকা থেকে। আমাদের এ দেশে ভিন্নি পরিবেশ হলেও পার্কে উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে রেড (হলদে লাল) পুরুষ আর ধূসর বর্নের নারী দম্পত্তি একটি ধূসর বর্নের শাবক জন্ম দেয়। 

তিনি আরো জানান, ক্যাঙ্গারু ৩৩ দিন গর্ভকালীন সময় পার করে। ২৩৫ দিন মায়ের দুধ খায় বাচ্চা আর এক বছর পরে পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যায়। কোনো ক্যাঙ্গারু শাবকের এ দেশে এ সাফারি পার্কেই প্রথম জন্ম নিয়েছিল। দ্বিতীয় বার আবার জন্ম নিল শাবকটি। এরা ন্যাচারে (প্রকৃতিক পরিবেশে ) ১২-১৬ বছর বেঁচে থাকে। তবে ক্যাপটিভে (আবদ্ধ জোন) বিশ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। হলদে লাল ও ধূসর বর্ণের ক্যাঙ্গারু আকারে বড় হয় । বড় ক্যাঙ্গারুগুলো ম্যাক্রোপোডিড পরিবারের অর্ন্তভুক্ত। 

অ্যানিমেল কিপার মাসুদ হাওলাদার জানান বুধবার প্রথম থলে থেকে শাবকটি বের হলে চোখে পড়ে। বাচ্চার জন্ম হয়েছে আড়াই তিন মাস আগেই। তবে এতো দিন মায়ের থলের ভিতরেই অবস্থান করেছে শাবকটি। গতকাল (বুধবার) থলে থেকে নেমে মায়ের সঙ্গে ঘুরাফেরা করতে দেখা যায় শাবকটিকে।

পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. নিজাম উদ্দীন চৌধুরী জানান ক্যাঙ্গারু শাবক ও মা ক্যাঙ্গারু ভাল রয়েছে। মায়ের সঙ্গে শাবকের দুর্ন্তপনা চোখে পরার মতো। 

অপর ওয়াইল্ড লাইফ সুপার ভাইজার আনিসুর রহমান জানান, খুবই ছোট লোমহীন বাচ্চা প্রসব করে মা ক্যাঙ্গারু। জন্মের সময় বাচ্চাদের চোখ ফোঁটেনা। পরে আস্তে আস্তে মায়ের পেটের থলির ভিতরে প্রবেশ করে বাচ্চা। দুই থেকে আড়াই মাস ক্যাঙ্গারু ছানা মায়ের পেটের থলিতে অবস্থান করে। সময়মত থলি থেকে মুখ বের করে দুধ পান করে ছানা। ক্যাঙ্গারু দুই বছরে তিনটি বাচ্চা প্রদান করে। এরা পিছনের লম্বা দুই পা ও লেজে ভর দিয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে চলে।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন জানান, পার্কে পর্যটনের এ মৌসুমে ক্যাঙ্গার শাবক দর্শনার্থীদের অন্যরকম আনন্দ দেবে। পার্কে দ্বিতীয় বার ক্যাঙ্গারু শাবকের জন্ম হলো। এ মৌসুমে আগত দেশি বিদেশী পর্যটকরা কিছু অবকাঠামোগত পরিবর্তনসহ আরো কিছু বিষয়ে অনেক বেশি আকর্ষন খুঁজে পাবে পার্কে। আশা করছি এবার অনেক বেশি পর্যটকের ভির সামলাতে হবে আমাদের। আরো কিছু প্রাণির গর্ভকালীন লক্ষণ চোখে পড়েছে।