শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, সকাল ০৭:৪৭

সাগরপথে মালয়শিয়া যাবার প্রস্তুতিকালে দুই রোহিঙ্গা ও এক দালালসহ আটক 

Published : 2017-12-14 17:06:00
সাগরপথে মালয়শিয়া যাবার সময় বার বার ট্রলার ডুবি হয়ে সলিল সমাধি ও মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে সেই স্বপ্নের পথ পাড়ি দেয় এবং সাগরের মাঝপথে দুর্ঘটনায় পড়ে অথবা যাত্রী বোঝাই ট্রলারটি বিকল হয়ে থাইল্যান্ড এবং ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে অবস্থান এবং অনেকে সেখানে আটক হয়ে বর্তমানে কারাবন্দীও রয়েছেন। 

এছাড়া মালয়শিয়ায় বন্দি করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়, গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পরেও ফের দালালেরা তৎপর হয়ে সমাজের বেকার ও সাধারণ মানুষকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়া পাচারের চেষ্টা করছে। 

মালয়শিয়াগামী আটককৃতরা জানান, তারা মালয়শিয়া যাবার জন্য উখিয়া ও রামুর বিভিন্ন দালালকে জন প্রতি ১৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা করে দিয়ে সাগরপথে মালয়শিয়া পৌছে দেওয়ার চুক্তি করে। 

১৩ ডিসেম্বর ভোররাতে বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কাঞ্চন কান্তি দাশের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড়ডেইল এলাকায় নুরুল আমিনের বাড়িতে হানা দিয়ে তাদেরকে আটক করতে সক্ষম হয়।

অভিযানকারী কর্মকর্তা জানান, একটি পাচারকারী চক্র ১০-১২ জনের একটি দল নিয়ে বড়ডেইল এলাকায় জড়ো করে রেখে সাগর পথে অবৈধভাবে মালয়শিয়া পাচারের উদ্দেশে। অভিযানের সময় পাচারকারীরা পুলিশের অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় মিয়ানমারের দুই নাগরিক, দালালসহ ৬ জনকে আটক করে বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

আটককৃত দালাল হলেন, টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের বড়ডেইল এলাকার মো: ইসমাইলের ছেলে নুরুল আমিন প্রকাশ নুর আলম (৪০)। 

ভিকটিমরা হলেন, উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের পুকুরিয়া গ্রামের মৃত ইউছুপ আলীর ছেলে আলী হোসেন(৪৫), রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের তাইগা কাটা গ্রামের মৃত ফকির আহমদের ছেলে মো: ছৈয়দ হোসেন(৩৯), একই এলাকার উজির আলীর ছেলে মো: আলম (১৬), কুতুপালং আনরেজিষ্ট্রার্ড ক্যাম্পের ডি ব্লকের মো: হোছনের ছেলে মো: হারুন মিয়া (২০), মো: আবু তাহেরের ছেলে জিয়াউল হক(১৯)। 

এ ঘটনায় টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া বড়ডেইল এলাকার জালাল আহমদের ছেলে আজিজুর রহমান(২৫), ফজল আহমদের ছেলে জালাল আহমদ(৪৯), মৃত ওসমান মিয়ার ছেলে মো: উল্লাহ (৩৫),মো: ইসমাইলের ছেলে মো: বেলাল হোসেন (৩৫)সহ অজ্ঞাত আরো ৬/৭ জন পলাতক আসামী মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন খাঁন জানান, ধৃত দালাল ও যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি আরো জানান, আটকরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে তাদের জড়ো করা হয়েছে। এ জন্য দালালরা প্রতিজনের কাছ থেকে টাকা করে নিয়েছে।